নেইমারকে ছাড়া বিশ্বকাপ ভাবেন না এমবাপ্পে

Printed Edition
নেইমারকে ছাড়া বিশ্বকাপ  ভাবেন না এমবাপ্পে
নেইমারকে ছাড়া বিশ্বকাপ ভাবেন না এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক

ব্রাজিলের বিপক্ষে সব ঠিক থাকলে গত রাতে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ফ্রান্সের। যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোয় জিলেট স্টেডিয়ামে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচ দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। এ ম্যাচের আগে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’র সাথে কথা বলেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেখানে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড বিব্রতকর এক প্রশ্নের সম্মুখিন হন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ব্রাজিল দলকে সমর্থকতরা কোন চোখে দেখবে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র নাকি নেইমার জুনিয়রের দল।

ভিনিসিয়াসের বর্তমান ক্লাব সতীর্থ এমবাপ্পে। দু’জনেই খেলছেন স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে। আর একসময় পিএসজিতে তার সতীর্থ ছিলেন নেইমার। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এক সাথে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের হয়ে খেলেছেন নেইমার ও এমবাপ্পে। ক্লাবে দু’জনের সম্পর্ক যে সব সময় খুব ভালো ছিল, তা কিন্তু নয়। শেষ দিকে দুই তারকার মন কষাকষির খবরও ভেসে উঠেছিল। কিন্তু এবার নেইমারের প্রশংসায় করলেন এমবাপ্পে।

ভিনি না নেইমার প্রশ্নের উত্তরে ফরাসি ফরোয়ার্ড বলেন, ‘কী প্রশ্ন (হেসে)! আমার বিশ্বাস দু’জনেরই। জাতীয় দলে ভিনিকে আরো এক ধাপ ওপরে উঠতে হবে। আর নেইমার তো নেইমারই। অসাধারণ খেলোয়াড়।’

চোটের কারণে দুই বছরের বেশি সময় ব্রাজিল জাতীয় দলের বাইরে নেইমার। ২০২৩ সালের পর জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে আর দেখা যায়নি মাঠে। বর্তমান ক্লাব সান্তোসের হয়েও ফিটনেস সমস্যায় নিয়মিত ম্যাচ খেলতে পারছেন না। ফলে বিশ্বকাপের আগে শেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতেও তাকে ডাকেননি কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি। সেখানে জাতীয় দলে নেইমারের জায়গা না পাওয়ার অর্থ হলো, বিশ্বকাপেও তার খেলা অনিশ্চিত। নেইমারকে ঘিরে এখন তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, অ্যানচেলোত্তির স্কোয়াডের অংশ হিসেবে তাকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে তো?

২০২৬ বিশ্বকাপের নেইমারের উপস্থিতি প্রসঙ্গে এমবাপ্পে বলেন, ‘বিশ্বকাপ তারকাদের প্রতিযোগিতা। নেইমার আমার চোখে অন্যতম বড় তারকা। তাকে ছাড়া বিশ্বকাপ আমি ভাবতেই পারছি না। তবে শেষ পর্যন্ত আমি আমার সাবেক কোচ অ্যানচেলোত্তির বিপক্ষে যেতে পারব না। তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে।’

আশার কথাও জানিয়ে এমবাপ্পে আরো বলেন, ‘নেইমার আমার চোখে এমন খেলোয়াড়, যে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। তার সাথে খেলেছি, অনেক কিছু শিখেছি। নেইমারকে আমি জানি, সে প্রস্তুত হয়ে যাবে, থাকবে সেখানে (বিশ্বকাপ)। আমি তাকে জানি।’

নেইমারকে নিয়ে এর আগে কথা বলেন ১৯৯৪ সালে ব্রাজিল দলের বিশ্বকাপজয়ী কোচ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ডুঙ্গা। তিনি বলেছিলেন, নেইমারের বিশ্বকাপে যাওয়া না যাওয়া নির্ভর করছে তার তার ফিটনেসের ওপর। তবে নেইমারের প্রতিভা ও দক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যদি শতভাগ ফিট না-ও থাকেন, তবুও ৮০ শতাংশ ফিটনেস নিয়েই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে নেইমারের।

প্রীতি ম্যাচে নেইমারকে বাদ দেয়া নিয়ে এর আগে বিতর্কের আগুনে ঘি ঠেলেছেন রোমারিও ও রোনালদো নাজারিওর মতো কিংবদন্তিরাও। রোমারিওর কথা, ‘একজন তারকাকে খেলতেই হবে। জাতীয় দল হলো সেরাদের জায়গা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এক মাস সময় পাওয়া যায়, যা একজন অ্যাথলেটের ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য যথেষ্ট। সবাই জানে, তবু বারবার বলতে হয়- শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমারের মতো একজন তারকা দলে থাকা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক ভালো।’

রোনালদো বলেন, ‘১২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারকে পরীক্ষা করার কিছু নেই। সে শারীরিকভাবে ফিট থাকলে আমি তাকে বিশ্বকাপে নিতাম। আমি আশা করি সে ফিট থাকবে। অ্যানচেলোত্তিও তাকে নেবেন, আমি নিশ্চিত। সে সব ম্যাচ না-ও খেলতে পারে, কিন্তু সে যেখানেই গেছে, নিজেকে প্রমাণ করেছে। তাকে বিশ্বকাপে নিতে হলে নতুন করে যাচাই করার দরকার নেই।’