হিন্দুস্তান টাইমস
প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো নারী স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়া, নিজের মনমতো সাথীকে বিয়ে করা কিংবা নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নেয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রাখেন বলে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ওই বিষয়ে বিচারালয়ে উপস্থিত হয়ে জবাবদিহি করার জন্য উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দুই নারীর পিতাকে আগামী ৬ আগস্ট তলব করা হয়েছে।
গত রোববার প্রকাশিত হিন্দুস্তান টাইমসের এক নিবন্ধে আদালতের এই আদেশের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সংবাদসূত্রে জানা যায়, দিব্যা ভাটিয়া (ধর্মান্তরের পর জোয়া দিয়া ভাটিয়া) ও অংশু ভাটিয়া (ধর্মান্তরের পর আমিনা অংশু ভাটিয়া) নামের দুই সহোদরার দায়ের করা ‘হেবিয়াস কর্পাস’ রিট পিটিশনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারক সন্দীপ জৈন এই পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন। আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ এবং পছন্দনীয় পাত্রকে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় তাদের বাবা বে-আইনিভাবে তাদের বন্দী করে রেখেছেন। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানান, দুই নারীদের উভয়েই সাবালিকা। ফলে ধর্মীয় বিশ্বাস বেছে নেয়া, জীবনসঙ্গী নির্বাচন, বাসস্থান স্থির করা কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পূর্ণ আইনি এখতিয়ার তাদের ওপর ন্যস্ত।
পর্যবেক্ষণে বিচারক আরো উল্লেখ করেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা মিললে দুই সাবালিকার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পরিবার বা অন্য কারো বাধা প্রদান সংবিধানের প্রদত্ত মর্যাদা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও গোপনীয়তার অধিকার হরণের শামিল হবে। রিট আবেদনে বলা হয়, পরিবারের মতের তোয়াক্কা না করে দুই বোন ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দুই ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কারণে তাদের বাবা স্থানীয় কয়েকজন পুলিশ সদস্যের মদদে তাদের বেআইনিভাবে আটকে রেখে সব ধরনের চলাচলের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে বেঞ্চ জানান, এই মুহূর্তে আদালতের প্রধান অগ্রাধিকার হলো- ওই দুই নারী কোনো চাপে না পড়ে সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না এবং তারা বর্তমানে বেআইনি আটকাবস্থায় আছেন কি না তা সরজমিন পরখ করা।
প্রাথমিক নথি পর্যালোচনার পর আদালত জানান, তথ্যাদিতে স্পষ্ট যে দুই বোন স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূর্বের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন। বিষয়টি সরেজমিন নিশ্চিতের লক্ষ্যে আগামী ৬ আগস্ট দুই বোনকে সশরীরে আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেদিন তাদের মুখ থেকে সরাসরি বক্তব্য শুনে আদালত নিশ্চিত হবেন যে তারা স্বেচ্ছায় পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন কি না এবং বর্তমানে কোনো অন্যায্য হেফাজতে রয়েছেন কি না। একই আদেশে বিচারালয় হুঁশিয়ারি দেন যে, নির্দিষ্ট দিনে ওই দুই নারীকে হাজির করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের স্বহস্তে লিখিত হলফনামা পেশ করতে হবে। ওই জবাবে নির্দেশের অগ্রগতি, কেন তাদের হাজির করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তী পদক্ষেপের পূর্ণ বিবরণ উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।



