ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ডি’তে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই জমে উঠছে নকআউট পর্বের হিসাব। আজ রাত ১টায় সিয়াটল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও চমক দেখানো অস্ট্রেলিয়া। দুই দলই প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে, ফলে এই ম্যাচকে অনেকেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণের লড়াই হিসেবে দেখছেন। জয় পাওয়া দল শেষ ৩২ নিশ্চিত করার পথে বড় সুবিধা পাবে, আর পরাজিত দলকে শেষ ম্যাচে বাড়তি চাপ নিয়ে মাঠে নামতে হতে পারে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে প্রত্যাশা ও সংশয় দুটোই ছিল। সহ-আয়োজক হিসেবে ঘরের মাঠে খেললেও অনেকের প্রশ্ন ছিল দলটি বড় মঞ্চে কতটা কার্যকর হতে পারবে। তবে কোচ মউরিসিও পচেত্তিনোর দল প্রথম ম্যাচেই শক্ত বার্তা দিয়েছে। শক্তিশীলী প্যারাগুয়ের চধৎধমঁধুর বিপে ৪-১ গোলের দাপুটে জয় শুধু তিন পয়েন্টই দেয়নি, দলটির আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসও তুলে ধরেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপকে চাপে রাখে যুক্তরাষ্ট্র এবং সপ্তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায়। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।
প্রথম ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন ফোলারিন বালোগুন। ৩১ ও ৫০ মিনিটে গোল করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের নাম ঘোষণা করেন। তার গতি, মুভমেন্ট এবং ফিনিশিং পুরো ম্যাচে প্যারাগুয়ের রণকে অস্বস্তিতে রেখেছিল। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে একাধিক গোল করা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে খুব বেশি খেলোয়াড় নেই, ফলে এই পারফরম্যান্স তাকে আলাদা আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ম্যাচের শেষদিকে প্যারাগুয়ে একটি গোল করলেও অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন জিওভান্নি রেইনা, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় জয় নিশ্চিত করে।
তবে সবকিছু নিখুঁত নয়। দলের অন্যতম বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক প্রথম ম্যাচে অস্বস্তি অনুভব করে বিরতির পর মাঠ ছাড়েন। এতে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও কোচ পচেত্তিনো এবং অধিনায়ক টেনলর অ্যাডাম জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুতর নয়, তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপে খেলতে প্রস্তুত থাকবেন। পুলিসিককে পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণে গতি ও সৃজনশীলতা আরো বাড়বে।
অন্য দিকে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডেই বড় চমক উপহার দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অনেক বিশ্লেষক গ্রুপ ডি’তে তাদের সবচেয়ে দুর্বল দল হিসেবে বিবেচনা করলেও টনি পোপোভিকের দল মাঠে ভিন্ন গল্প লিখেছে। প্রতিপ ছিল তুরস্ক, যাদের অনেকেই টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য ডার্ক হর্স হিসেবে দেখছিলেন। কিন্তু পুরো ম্যাচে মাত্র ২৮ শতাংশ বল দখলে রেখেও ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় সকারুরা। তারা দেখিয়েছে, বলের নিয়ন্ত্রণ নয় সুযোগ কাজে লাগানো এবং রণে শৃঙ্খলাই বড় ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করেন নেস্টরি ইরোনকুন্দা, তবে ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন গোলরক প্যাট্রিক বিচ। জাতীয় দলের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক অভিষেকে তিনি আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন এবং তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন। তার সেই পারফরম্যান্সের কারণে এখন অস্ট্রেলিয়া নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপে মাঠে নামবে।



