ফিফার নিষেধাজ্ঞা মুক্তির চেষ্টায় আবাহনী

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিদেশী খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উপস্থিতি দলকে যেমন শক্তিশালী করে তেমনি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও ভালো রেজাল্ট পেতে সহায়তা করে। কিন্তু এই বিদেশী ফুটবলারদের সাথে চুক্তি নিয়ে ভুলের খেসারতও দিতে হচ্ছে চরমভাবে। তাদের ঠিক মতো টাকা দিতে না পেরে ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশী ক্লাবগুলো। পরে জরিমানাসহ সেই বকেয়া দিয়ে এরপর নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি। অতীত বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবের মতো গত সিজনে এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিল তিন ক্লাব বসুন্ধরা কিংস, ঢাকা মোহামেডান ও ঢাকা আবাহনী। মোহামেডান সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিল ইরানী ফুটবলার মাইসামের সাথে দফা রফা করে। এখন আবাহনী সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির চেষ্টা করছে। দর্শক প্রিয় ক্লাবটি এই লক্ষ্যে বেশ এগিয়ে গেছে। তিন বিদেশী ফুটবলার ফিফার কাছে আবাহনীর বিপক্ষে অভিযোগ করেছিল। এদের মধ্যে এক ফুটবলার সাথে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলেছে আবাহনী। বাকি দুই ফুটবলারের সাথে সমস্যা অচিরেই মিটে যাবে। জানান, আবাহনীর ম্যানেজার সদ্যজিৎ দাস রুপু।

২০২৪ সালে ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আবাহনী ক্লাবসহ আরো কয়েকটি ক্লাব ভীষণ বিপদে পড়ে। অবশ্য এর আগ থেকেই ক্লাবটি বিদেশীদের নিয়ে দল গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আবাহনীর দায়িত্বে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের কেউ গ্রেফতার হয়েছেন। কেউবা আত্মগোপনে চলে গেছেন। এতে ক্লাবটি অর্থ সঙ্কটে পড়ে। ফলে তাদের পক্ষে বিদেশী ফুটবলার নেয়াতো দূরের কথা দল গঠনই অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওই বিদেশীদের বাদ দিয়েই কোনো মতে দল গঠন।

অন্য দিকে ওই তিন বিদেশী আবাহনীর বিপক্ষে অভিযোগ করে ফিফায়। ফিফাও তাদের অভিযোগকে আমলে নিয়ে এরপর তাদের পক্ষেই রায় দেয়। এতে আবাহনীকে দেয়া হয় ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা। যে কারণে নতুন খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করতে পারছিল না আবাহনী। তা ছাড়া আবাহনীর মতো দেশ সেরা একটি ক্লাব এভাবে ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে থাকবে তা ছিল একেবারেই বেমানান। তাই এবার সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে জোর চেষ্টা করে যাচ্ছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সেই লক্ষ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে আকাশি নীল শিবির।

ম্যানেজার রুপু জানান, আমাদের এখন প্রধান মিশন ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়া। তিন বিদেশীর মধ্যে একজনের সাথে ঝামেলা মিটে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ফুটবলারের সাথে চলমান সমস্যারও সমাধান হবে। তৃতীয় ফুটবলারের সাথে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সুরাহা হবে। এরপরই আমাদের দল গঠনের মূল কাজ।