হামে আক্রান্ত ৫০ হাজার ছাড়াল

উপসর্গে আরো ৬ জনের মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ছয়জন মারা গেছেন। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মৃত্যু দাঁড়াল ৪১৫ জনে। এ ছাড়া চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫০ জন।

দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৯৩৭ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ জন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৮০ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩১ হাজার ৯৯২ জন। এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে গতকাল ১১ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

মমেকে দেড় মাসে ২৮ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে দেড় মাসে ২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোগীর চাপে হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

গতকাল দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশু সুমাইয়া আক্তার (৭), মুক্তাগাছা উপজেলার উজ্জল মিয়ার মেয়ে। গত ৮ মে হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন হলেও কোনো শয্যা না পাওয়ায় সোমবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

বাবা উজ্জল মিয়া অভিযোগ করেন, আইসিইউ সঙ্কটই আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রধান কারণ। একটি বেডও পাওয়া যায়নি। বড় হাসপাতাল হয়েও যদি আইসিইউ না থাকে, তাহলে আমরা যাব কোথায়?” হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা ও সঙ্কটের কারণেই একের পর এক শিশুর প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ১১ মে সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২০০-এর বেশি শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে প্রায় ১ হাজার ১০০ শিশু। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্তত ৮৯ জন। রোববার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরো ২৪ শিশু। যাদের বেশির ভাগের বয়স ৭ থেকে ১০ মাসের মধ্যে।

অন্য দিকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন রোগী আসায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ।

উজিরপুরে হাম ও ডায়রিয়ায় একদিনে ২২ জন ভর্তি

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বরিশালের উজিরপুরে হাম ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ২৪ ঘণ্টায় উপজেলায় নতুন করে আরো ২২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে গত তিন মাসে ৭ শ’র বেশি মানুষ হাম ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গতকাল সরেজমিনে ভর্তি রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে বেড ওষুধ ও চিকিৎস্যক সঙ্কটে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।

চিকিৎস্যকরা বলছেন, বেডের থেকে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় চিকিৎস্যা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

চলতি বছর উপজেলায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছে চার শত শিশু, তাদের মধ্যে মারা গেছে দুইজন। হামের ভয়াবহতা না কাটতেই উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া।

গত তিন মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৭০৩ জন। যার মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি।

এ দিকে রোগীদের চাপ সামলাতে না পেরে শিশু-নারী ও পুরুষদের রাখা হয়েছে একই কক্ষে। বেড ও মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎস্যা নিচ্ছেন আক্রান্তরা।

রোগীদের অভিযোগ, প্রতি ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসক আসেন একবার সকালে ৯টায়। এরপর কেউ ভর্তি হলে তারা ফের চিকিৎসকের দেখা পায় পরের দিন সকাল ৯টায়।