‘গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি চীন’

তাইপে সম্মেলনে মার্কিন এনজিও প্রধান

Printed Edition
ড্যামন উইলসন
ড্যামন উইলসন

তাইপেই টাইমস

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন এনজিও ‘ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্র্যাসির (এনইডি) প্রেসিডেন্ট ড্যামন উইলসন। তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেইতে আয়োজিত ‘চায়না ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ (সিআইটিডব্লিøউ) সম্মেলনে দেয়া এক নীতিনির্ধারণী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

উইলসন উল্লেখ করেন, বেইজিং তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে পুনর্গঠন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাবে গত দুই দশক ধরে বিশ্বজুড়ে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার ক্রমাগত সঙ্কুচিত হচ্ছে।

দেশটিকে একটি ‘গণতন্ত্রবিরোধী পরাশক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) সঙ্গে বেইজিং এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। এমনকি নতুন নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তুলে চীন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি বহুল আলোচিত উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে উইলসন বলেন, শি প্রায়ই দাবি করেন, ‘বিশ্ব এখন এমন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা গত এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি।’ মূলত শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মতো একনায়কতান্ত্রিক শাসকরা সম্মিলিতভাবে এই বৈশ্বিক পরিবর্তনকে নিজেদের ছাঁচে ঢেলে সাজানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

ড্যামন উইলসন সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব বাড়াতে চীনের এমন কিছু সহযোগী রাষ্ট্র এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়, যারা বেইজিংয়ের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সাহায্য করতে প্রস্তুত। লক্ষ্য অর্জনে চীন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সীমানা পেরিয়ে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাধীন দেশগুলোর গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গণতন্ত্র কখনো নিজে নিজে টিকে থাকে না, একে টিকিয়ে রাখতে হয়- মন্তব্য করে উইলসন বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি তাইওয়ানের জনগণকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে দুর্বল করতে ‘গ্রে জোন’ কৌশল (সরাসরি যুদ্ধ না করে রাজনৈতিক ও মানসিক চাপ তৈরি করা) ব্যবহার করছে। বেইজিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো তাইওয়ানের সমাজে বিভেদ তৈরি করা, জনগণের মনোবল ভেঙে দেয়া, সরকারের প্রতি আস্থা কমানো এবং মুক্ত বিশ্বকে এটি বিশ্বাস করানো যে, একনায়কতান্ত্রিক শাসনই শেষ পর্যন্ত অবধারিত।

উইলসনের মতে, এমন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তাইওয়ান এখন স্বৈরাচার ও স্বাধীনতার মধ্যকার কৌশলগত লড়াইয়ের একদম সম্মুখভাগে (ফ্রন্টলাইন) অবস্থান করছে। তবে এই সঙ্কট মোকাবেলায় সামরিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক অংশীদারত্ব জোরদার করে তাইওয়ান এখন বিশ্বের মুক্তকামী মানুষের এক বড় মেলবন্ধনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রমনা দেশ, সংস্থা এবং নেতারা এখন তাইওয়ানের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছেন। তাইপে সম্মেলনে অংশ নিয়ে জার্মান মার্শাল ফান্ডের ইন্দো-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বনি গ্লেসারও প্রায় একই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, চীনের ক্রমবর্ধমান উসকানি মোকাবেলায় গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে কেবল সামরিক সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না, বরং পুরো সমাজে একটি ‘সামগ্রিক প্রতিরোধ’ গড়ে তুলতে হবে।