খুলনায় যুবককে গুলি ও ছেলেসহ ব্যবসায়ীকে কোপালো দুর্বৃত্তরা

Printed Edition

খুলনা ব্যুরো

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে আয়নুল (৩০) নামে এক যুবক গুরুতর জখম হয়েছেন। এ ছাড়া সন্ত্রাসীরা এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে কুপিয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে নগরীর বান্দাবাজার এলাকার রহমানিয়া গলির সামনে আয়নুল দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। দু’টি গুলিই তার ডান পায়ের হাঁটুতে বিদ্ধ হয়। পরে স্থানীরা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। গুলিবিদ্ধ আয়নুল লবণচরা থানার ভুতের আড্ডা পার্ক এলাকার আলমগীরের ছেলে।

এ ব্যাপারে নগরীর লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: তুহিনুজ্জামান বলেন, গুলিবিদ্ধ আয়নুলের শারীরিক অবস্থা এখন ভালো। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামিদের শনাক্তসহ গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি ।

অপরদিকে একই রাতে নগরীর দৌলতপুরের নিশাত কমপ্লেক্সের জুয়েলারি ব্যবসায়ী সুব্রত অধিকারী ও তার ছেলে নবম শ্রেণীর ছাত্র রিজু অধিকারীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রিজু অধিকারীকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার দিনগত রাত ১২টার পর সুব্রত দোকান বন্ধ করে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে স্কুটিতে করে পাবলাস্থ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে দৌলতপুর (দিবা-নৈশ) কলেজসংলগ্ন শরীফ আমজাদ সড়কে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন স্কুটির সামনে এসে বলে আপনাদের টাকা পড়ে গেছে। সাথে সাথে আরেকটি মোটরসাইকেলে তিনজন স্কুটির পেছনে অবস্থান নেয়। স্কুটি সেখানে থামা মাত্র দুর্বৃত্তরা সুব্রত অধিকারী ও তার ছেলে রিজুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে রিজুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

দৌলতপুর জুয়েলারি সমিতির সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ওসি মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এটি কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়। সুব্রত অধিকারীদের কাছে থাকা টাকা-পয়সা কিংবা মালামাল কিছুই নেয়নি দুর্বৃত্তরা, তাদের মুখে মাস্ক ছিল। ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তসহ গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।