নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায় চাপিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধা কমানোর উদ্যোগে নেয়া দু’টি চিঠিই বাতিল করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ-১ এর উপসচিব শিহাব উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এটি বাতিল করা হয়। ফলে কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেক কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, তা আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ জন্য আগের মতোই প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন।
চিঠিতে বলা হয়, গত ৯ জুলাইয়ের চিঠি দু’টির বিষয়ে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এর আগে গত ৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছিল, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা যারা সুদমুক্ত ঋণ নেয়ার পর গাড়িসেবা নগদায়নের আওতায় মোটর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসেবে যে আর্থিকসহায়তা পাচ্ছেন তা কিছুটা হ্রাসের সুযোগ রয়েছে। মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসিক ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
স্কলারশিপ-ফেলোশিপপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডেপুটেশন প্রদানের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি প্রদান বিষয়ে অপর এক চিঠিতে বলা হয়, দেশে ও বিদেশে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধ্যয়নের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্কলারশিপ-ফেলোশিপের আওতায় পড়াশোনা, আবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত হন। পূর্ণ স্কলারশিপ-ফেলোশিপপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডেপুটেশন দেয়ার ফলে স্কলারশিপের পাশাপাশি পূর্ণ বেতন-ভাতা সুবিধাও পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে ডেপুটেশন/পূর্ণ বেতন-ভাতাদি দেয়ার পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা রয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ণ স্কলারশিপ-ফেলোশিপপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডেপুটেশন প্রদানের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি দেয়ার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো দু’টা চিঠিতেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায় চাপানো হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপিপন্থী কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, সরকারের উপসচিব থেকে শুরু করে ওপরের পদের সরকারি কর্মকর্তারা এতদিন গাড়ি কিনতে সুদমুক্ত ঋণ পেতেন ৩০ লাখ টাকা। আর রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ তারা প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা পেতেন। তাদের পাশাপাশি সশস্ত্রবাহিনীর মেজর থেকে শুরু করে ওপরের কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জেলা জজ থেকে ওপরের কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের সমপদের কর্মকর্তারাও একই সুবিধা পান।
জানা গেছে, প্রাধিকার সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে কথা বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমালে প্রশাসনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর যুক্তিতে তারা বলছেন গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়েছে, গাড়িপিছু তাদের মাসিক ব্যয় হয় ৬৭ হাজার টাকা। সেখানে সরকার দিচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। উল্টো রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় না বাড়িয়ে, কমালে ইতিবাচক কোনো ফল বয়ে আনবে না। এতে জনপ্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলে বর্তমান সরকারের জন্য নেতিবাচক বার্তা যাবে বলে। এ কারণেই মূলত ৯ জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সরকার।



