সাকিবুল হাসান
তুরস্কের ইস্তাম্বুল ঐতিহাসিক উপদ্বীপের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন, প্রায় এক হাজার ৬০০ বছরের পুরনো ভূগর্ভস্থ জলাধার থিওডোসিয়াস সিস্টার্নে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমসাময়িক শিল্পী সেচকিন পিরিমের একক শিল্প প্রদর্শনী ‘দেন অ্যান্ড নাও’ (অতীত ও বর্তমান)। ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ‘কুলতুর এএস’ ব্যবস্থাপনায় ঐতিহাসিক এই স্থাপনায় গত ১২ জুন থেকে প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে, যা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। ভাস্কর্য ও ডিজাইনে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত শিল্পী সেচকিন পিরিম সিস্টার্নের প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী এবং বর্তমান সময়ের শৈল্পিক ভাষার সংযোগ ঘটিয়েছেন পানির প্রতীকী রূপের মাধ্যমে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুলতুর এএসের জেনারেল ম্যানেজার ওসমান চেঙ্ক আকিন বলেন, এক হাজার ৬০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের মধ্যে এই প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য এক শক্তিশালী অভিজ্ঞতা। এখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এমন এক অপূর্ব সহাবস্থান তৈরি হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের একই সাথে ইতিহাসের বিভিন্ন স্তর এবং সমসাময়িক শিল্পকে উপভোগ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রাচীন এই স্থাপনায় নিজের শিল্পকর্ম প্রদর্শন করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিল্পী সেচকিন পিরিম বলেন, এই ঐতিহাসিক ভবনের বিশালতার সাথে প্রতিযোগিতা করা অসম্ভব, আমরা কেবল এর ভেতরে আমাদের কাজ প্রদর্শনের অনুমতি চাইতে পারি। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে কুলতুর এএস এবং দিরিমার্ট দল এই বিশাল কাজটি সম্পন্ন করেছে। অনুষ্ঠানের শেষভাগে ওসমান চেঙ্ক আকিন তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের ১০০ বছরের সঙ্গীত ঐতিহ্য নিয়ে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রকাশনা শিল্পী সেচকিন পিরিম এবং দিরিমার্টের প্রতিষ্ঠাতা হাজের ওজিলের হাতে তুলে দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ‘অরফিয়াস গায়কদল’-এর পরিবেশনা এবং নির্দেশিত প্রদর্শনীর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। থিওডোসিয়াস সিস্টার্নের ভেতরে ও বাইরে প্রদর্শিত শিল্পকর্ম, পানির উপরিভাগে আলোর প্রতিফলন এবং সুনিপুণ আলোকসজ্জার মাধ্যমে প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের একটি বহুমাত্রিক চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। শুধু ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবেই নয়, থিওডোসিয়াস সিস্টার্ন বর্তমানে একটি সাংস্কৃতিক গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতি সন্ধ্যায় ‘ভয়েসেস ফ্রম দ্য ডিপ’ কনসার্ট সিরিজ এই মায়াবী পরিবেশকে আরো সমৃদ্ধ করে। শিল্পী সেচকিন পিরিম মিমার সিনান ফাইন আর্টস ইউনিভার্সিটির ভাস্কর্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার কাজ নিউইয়র্কের সি-২৪ গ্যালারি, লন্ডনের সাচি গ্যালারিসহ বিশ্বের বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়েছে। তার শিল্পকর্মে নিয়ো-মিনিমালিস্ট শৈলীতে প্লেক্সিগ্লাস, কাগজ, মার্বেল ও অ্যালুমিনিয়ামের পুনরাবৃত্তিমূলক ফর্মের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ও শারীরিক শুদ্ধিকরণের গল্প ফুটে ওঠে, যা সুফি সাধক মাওলানা জালালুদ্দিন রুমির দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত। পঞ্চম শতাব্দীর এই প্রাচীন পানি সংরক্ষণাগারটি দীর্ঘ বছর ধরে অন্য স্থাপনার নিচে ঢাকা পড়েছিল। ২০১০ সালে ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির পুনরুদ্ধার কাজের মাধ্যমে এটি পুনরায় আবিষ্কৃত হয় এবং পরবর্তীতে একটি প্রতœতাত্ত্বিক পার্ক ও জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে এটি ইতিহাস, স্থাপত্য এবং আধুনিক শিল্পকলা প্রদর্শনীর এক অনন্য কেন্দ্র।



