নির্বাচন সহায়তা কমিশনের সব কমিশনারকে সরালেন ট্রাম্প

Printed Edition

রয়টার্স

কংগ্রেসের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা ‘ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশন’ বা নির্বাচন সহায়তা কমিশনের বাকি তিন কমিশনারকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সারা দেশে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করাই চার সদস্যের এই দ্বিদলীয় কমিশনের মূল কাজ। এর আগে গত এপ্রিলে একজন কমিশনার পদত্যাগ করেছিলেন। গতকাল বাকি তিনজনকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে বিদায় করা হলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অবশিষ্ট তিন কর্মকর্তার মধ্যে রিপাবলিকান মনোনীত একমাত্র কমিশনার নিজেই পদত্যাগ করেছেন। অন্য দিকে ডেমোক্র্যাট মনোনীত বাকি দুই কমিশনারকে হোয়াইট হাউজের প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিস থেকে ই-মেইল পাঠিয়ে সরাসরি বরখাস্ত করা হয়। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে স্বাধীন সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের অপসারণে প্রেসিডেন্টকে বাড়তি ক্ষমতা দেয়ার পরই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিলেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প, যদিও সাধারণত অঙ্গরাজ্যগুলোই স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোট পরিচালনা করে থাকে। রয়টার্সের দেখা সেই বরখাস্তের ই-মেইলে লেখা ছিল, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশনের কমিশনার হিসেবে আপনার দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ করা হলো। আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ।’

খবরটি গণমাধ্যমে আসার পর হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে জানান, নির্বাচন নিরাপদ রাখা এবং প্রতিটি বৈধ ভোট গণনা নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্যের সাথে যাদের মতের অমিল থাকবে, তদের অপসারণের অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনকে জালিয়াতি ও অনিয়ম থেকে মুক্ত রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ার কাজ করছে। এই কমিশনটি মূলত নির্বাচনী তথ্যের জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং ১৯৯৩ সালের আইন অনুযায়ী ‘জাতীয় ডাকযোগে ভোটার নিবন্ধন ফরম’ দেখভাল করে। সম্প্র্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ডাকযোগে ভোট দেয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে ট্রাম্পের হেরে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়েও এখনো তদন্ত চলছে, যা নিয়ে ট্রাম্প বরাবরই কোনো প্রমাণ ছাড়াই কারচুপির দাবি করে আসছেন।

২০০২ সালে ‘হেল্প আমেরিকা ভোট অ্যাক্ট’-এর অধীনে গঠিত এই কমিশনে সমান সংখ্যক ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সদস্য থাকার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যাদের নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন লাগে। এবার অপসারিত থমাস হিকস, বেঞ্জামিন হোভল্যান্ড ও ক্রিস্টি ম্যাককরমিক- তিনজনই সিনেটের সর্বসম্মত ভোটে অনুমোদিত ছিলেন। ট্রাম্প এখন এই শূন্য পদে নতুন কাউকে আনবেন নাকি কীভাবে কমিশন চালাবেন, তা এখনো পরিস্কার নয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই বরখাস্তের ঘটনা দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।