নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয় ‘ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের’ সামনে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও চাকরিতে পুনর্বহালের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকালে দিলকুশায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী মোতাছিম বিল্লাহসহ উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত মানুষ আহতের দাবি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। সকাল ১০টার দিকে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকের দাবি, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং ব্যাংক লুটের অভিযোগে আলোচিত এস আলমের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে তাদের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। কিন্তু কর্মসূচি শুরু হলে ব্যাংকে অবৈধ নিয়োগের অভিযোগে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এস আলমের অনুসারীরা গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ওপর হামলা চালান। এতে তাদের প্রায় ৩০ জন সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
অন্য দিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ২৫ জন কর্মীকে আহত করেছেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালে নেয়া হয়। এ দিকে সংঘর্ষের পর পুলিশ উভয়পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দিলে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে এবং চাকরিচ্যুত কর্মীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানোর পাশাপাশি পরবর্তী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এ দিকে গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই ফোরামের সদস্যদের টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নেয়া হলেও পুলিশ হামলা ঠেকাতে কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। এ বিষয়ে জানতে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।



