সংসদ প্রতিবেদক
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। একই সাথে সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছেন হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তারা বলেছেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণমাধ্যমের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ ও হুইপ এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় অন্যান্য হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, জিকে গৌস ও আখতারুজ্জামান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে যারা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্যই হলো জুলাই সনদের প্রতিটি লাইন, সেমিকোলন ও দাঁড়ি-কমা হুবহু বাস্তবায়ন করা।’
তিনি দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল দর্শন হলো প্রতিটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া এবং সব শ্রেণী-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, স্বাধীনতার পর একদলীয় শাসনামলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও অর্থনীতি ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন। তবে বিগত দেড় দশকে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপুল অর্থ পাচারের ফলে অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদ সংবিধানের ১১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ও ১৫৩টি অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে পরিচালিত হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এটি সংস্কার করা জরুরি। তিনি জানান, সংসদে বর্তমানে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন, যাদের সংসদীয় কার্যপ্রণালী আয়ত্ত করতে সময় লাগবে। তবে বিরোধী দলেও দক্ষ সদস্য রয়েছেন, যাদের গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে কমিশন ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কার এগিয়ে নেয়া হবে।
সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন এনেছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনে ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স নিয়ে কাজ সম্পন্ন করাকে তিনি একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘গণতন্ত্রের যে গাছটি আমরা রোপণ করেছি, সেটি বড় করার দায়িত্ব আপনাদেরও’ বলে তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
একই অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, নবম ওয়েজ বোর্ড কার্যকর থাকলেও মালিক পক্ষের মামলার কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে এখনো সেই মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে অনেক সাংবাদিক নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না, যা দুঃখজনক। সরকারি কর্মকর্তাদের মতো সাংবাদিকদের জন্যও সমমানের বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশ ও গণতন্ত্রও ভালো থাকবে। তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শেষ জীবনে আর্থিক কষ্ট ও চিকিৎসাহীনতা দূর করা এবং কার্যালয়সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।



