সারা দেশে শহীদ দিবস পালিত

জুলাইকে ধারণ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ঐক্য

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি শাসন পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে টেকসই রাজনৈতিক সংস্কার ও গণ-আকাক্সার এক ঐতিহাসিক সন্ধিণ। দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ এবং ভিন্নমত দমনের পটভূমিতে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার যে রক্তয়ী সংগ্রাম গড়ে ওঠে, তা দেশের রাজনীতির গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়। এই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ভিন্নমতের রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজ, নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছে। আবু সাঈদের শাহাদতের দিন ঐক্যের এই চেতনায় গতকাল সারা দেশে পালিত হয়েছে জুলাই শহীদ দিবস।

সংসদীয় বিতর্ক ও রাজনৈতিক ঐক্যের সুর

অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার এই সমঝোতা ও জাতীয় পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি সবচেয়ে স্পষ্ট রূপ পায় সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে। জাতীয় সংসদে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে এক অভিন্ন সুর ধ্বনিত হয়।

সংসদে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ত্যাগকে স্বীকৃতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জয় বা পরাজয় ছিল না; এটি ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদার লড়াই। জুলাই বিপ্লব আমাদের শিা দিয়েছে যে, শাসনের মূল চালিকাশক্তি হতে হবে জনগণের সম্মতি এবং জবাবদিহিতা। সংসদে আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের আত্মত্যাগ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনাকে সমুন্নত রাখার প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের গুণগত পরিবর্তন, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক কাঠামো বিনির্মাণই জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন।

একই সুর ধ্বনিত হয় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় আসন থেকেও। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা বজায় রেখেও ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, ‘রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধী দলের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি স্বৈরাচারমুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ইস্যুতে আমরা একবিন্দুতে অবস্থান করছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান রাজনৈতিক দলগুলোকে শিখিয়েছে- দলীয় স্বার্থের চেয়ে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা অনেক বড়। এই ঐক্যের শক্তিতে ভর করেই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, বাংলাদেশে যেন আর কোনো দিন কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটতে না পারে।’

সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন অঙ্গীকার প্রমাণ করে যে, জুলাই চেতনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেবল সঙ্ঘাত নয়, বরং একটি গঠনমূলক জাতীয় ঐক্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি রচনা করেছে।

ঐক্যের মূল ভিত্তি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন

এই ঐক্যের প্রধান ভিত্তি হলোÑ ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদ ও দমনমূলক ব্যবস্থার স্থায়ী অবসান ঘটানো। জুলাই-পরবর্তী সময়ে দেশের ডান, বাম, মধ্যপন্থী কিংবা ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে নীতিগত ও কৌশলগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নে একটি সুদৃঢ় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে উঠেছে: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার: নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক কাঠামোর নিরপেতা নিশ্চিতকরণ; বিচারের মুখোমুখি করা: অতীতে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও দমনপীড়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা; নাগরিক অধিকার রা: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিরোধী রাজনীতির চর্চার স্থান সুনিশ্চিত করা। জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংলাপ, গবেষণা, স্মারক আলোচনা ও নাগরিক সমাবেশেও বারবার এটি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে যে-জুলাই কেবল একটি সাময়িক আন্দোলনের ইতিহাস নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সংবিধান ও রাষ্ট্রদর্শনের মূল চালিকাশক্তি।

রাজনৈতিক রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন রূপরেখার সূচনা করেছে। জুলাই-পূর্ব সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় একদলীয় প্রভাব, মতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ এবং কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার অভিযোগ রাজনৈতিক সঙ্কটকে গভীর করেছিল। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সাথে সঙ্ঘাত, ভিন্নমতের ওপর চাপ এবং ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন জন-আস্থাকে দুর্বল করে।

জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। মতাদর্শগত পার্থক্য বজায় থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কার, সুষ্ঠু নির্বাচন, জবাবদিহিমূলক শাসন এবং মতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিস্তৃত ঐকমত্যের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এর ল্য এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল প্রতিপ হবে, কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থে সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।

তবে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহনশীলতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আইনশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। একই সাথে নাগরিকের অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি সরকার পরিবর্তনে নয়, বরং এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলায়, যেখানে মতা জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকে এবং জাতীয় প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

অবশ্য এই অভূতপূর্ব ঐক্য ধরে রাখা সহজ কোনো চ্যালেঞ্জ নয়। সামনে নির্বাচন ও মতা হস্তান্তরের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তবে সংসদ থেকে রাজপথÑ সব জায়গায় জুলাইকে ধারণ করার মানসিকতা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বগুলো এখন আলোচনার টেবিলেই সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছে।

জুলাই আজ আর কেবল একটি ক্যালেন্ডারের মাস কিংবা ইতিহাসের স্মৃতিস্তম্ভ নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কারের এক জীবন্ত প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে সংসদ ভবনে যে জাতীয় সমঝোতার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে, তা দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকেই প্রতিফলিত করে। দলগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ফ্যাসিবাদবিরোধী এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ঐক্যকে টিকিয়ে রাখাই হবে একটি টেকসই, সাম্যভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

দেশজুড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ

পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদাদাতা জানান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আবু সাঈদ শারীরিক ভাবে বিদায় নিলেও তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন, তিনি শহীদ হলেও আমাদের মাঝে তিনি জীবিত আছেন। মানুষ মুক্তি চায়, মানুষ কর্মের মাধ্যমে আত্ম সম্মান নিয়ে বাঁচতে চায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রংপুরে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদতবার্ষিকীতে গতকাল রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে তার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ডা: এস এম খালেদুজ্জামান জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমিরের পে শহীদ আবু সাঈদের মায়ের কাছে সালাম ও হাদিয়া পৌঁছে দেন। এর আগে তারা হেলিকপ্টারে পীরগঞ্জ পৌঁছান।

দিনটি উপলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, শিা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।

এর আগে আগে সকাল ৭টায় পীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে শহীদ আবু সাঈদের কবর চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জামায়াত আমির মো: মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় এমপি মওলানা মো: নুরুল আমিন।

বেলা ১১টায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে আসেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাড. মো: আতিকুর রহমানসহ সংগঠনের নেতারা। এরপর আসেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আতিক মোজাহিদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রংপুর জেলা সভাপতি শরিফ নেওয়াজ জোহা ও সদস্য সচিব সুমন আহমেদ, বেরোবি ভিসি ড. সওকত হোসেন, ইউএনও মো: মাহমুদুল হাসান, এসিল্যান্ড তানভীর আহমেদ এবং ওসি নাজমুল হাসান।

চট্টগ্রামে জুলাই শহীদ দিবস উদযাপিত

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, যথাযথ মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে গতকাল চট্টগ্রামে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদ ওয়াসিমের শহীদ হওয়ার স্থান ষোলশহর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তার স্মৃতিফলকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও আলোচনা সভা।

সকালে নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দীন। এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

পরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দীন।

সভায় মুক্ত আলোচনায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফয়সল আহমেদ, পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম, সিভিল সার্জন ডা: জাহাঙ্গীর আলম, প্রেস কাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, শহীদ পরিবারের সদস্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি বক্তৃতা করেন।

সভার শুরুতেই নিহত জুলাই শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

১১ দলের গণসমাবেশ

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রামের ১৬ জুলাই ছিল এক রক্তাক্ত অধ্যায়। মুরাদপুরে নিহতদের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত, নিরপে তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের সমান রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, যথাযথ স্বীকৃতি এবং তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

গতকাল বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্য চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলেন।

নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্য মাওলানা খাইরুল বাশার, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমদ, জামায়াতের মহানগরী অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, জাগপার চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান, খেলাফত মজলিসে সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হুমায়েদ রশিদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, পাঁচলাইশ থানা জামায়াত আমির ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, কোতোয়ালি থানা সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আলী ও জুলাইযোদ্ধা আবরার হাসান রিয়াদ প্রমুখ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন শহীদ ফয়সাল আহমদ শান্তের বাবা জাকির হোসেন, শহীদ মাহবুবুল হাসানের বড় ভাই মাহমুদুল হাছান, নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমীর মাওলানা মুমিনুল হক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: ছিদ্দিকুর রহমান, অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, কোতোয়ালি থানা আমির আমির হোসাইন, ডবলমুরিং থানা আমির ফারুকে আযম প্রমুখ।

খুলনায় জুলাই শহীদ দিবস পালিত

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল নগরীর শিববাড়ী মোড়স্থ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিট, বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার, কেডিএর চেয়ারম্যান, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

এ ছাড়া খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-১ আসনের এমপি আমীর এজাজ খান, বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শহীদ শেখ মো: সাকিব রায়হানের বাবা শেখ আজিজুর রহমান ও মহানগর জামায়তে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।

অপর দিকে দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ অতিথি ছিলেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ শেখ সাকিব রায়হানের বাবা শেখ আজিজুর রহমান।

এ দিকে মহানগরী জামায়াতে ইসলামী আমির মাহফুজুর রহমান সোনাডাঙ্গার বসুপাড়া কবরস্থানে শহীদ সাকিব রায়হানের বাবা শেখ মো: আজিজুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করেন। তার সাথে ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহরুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি মো: জাহিদুর রহমান নাঈম, ডা: আবুল খায়ের প্রমুখ।

রাজশাহীতে জুলাই শহীদদের স্মরণ

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ বলেছেন, জুলাইয়ের শহীদদের ত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। শহীদদের সাহস, দেশপ্রেম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে ন্যায় ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করবে।

জুলাই শহীদ দিবস উপলে গতকাল রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় জীবনের এক অমূল্য প্রেরণা। তাদের রক্তের ঋণ কখনো শোধ করার নয়; তবে তাদের আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই সেই ত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের সম্মান ও মর্যাদা রায় সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় স্মৃতিচারণ করেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ আলী রায়হানের বাবা মুসলিম উদ্দীন।

আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম ও ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী, রাজশাহী বারের সভাপতি আবুল কাশেম এবং রাজশাহীর গণ-অভ্যুত্থান পরিষদের আহ্বায়ক মাহবুব সিদ্দিকী। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।

সিলেটে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস- ২০২৬’ পালিত হয়েছে। এ উপলে গতকাল সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, প্রধান বক্তা ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপরে (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।

আলোচনা সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা: মো: নাসির উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এনামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবদুর রফিক, জুলাইযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি লিটন আহমদ, আমরা জুলাইযোদ্ধা মহানগর শাখার সদস্যসচিব আবদুল মতিন, শহীদ পরিবারের সদস্য সাইফ আলম ও মো: রফিক উদ্দিন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাইযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নগরীর রিকাবীবাজারস্থ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বগুড়ায় জুলাই শহীদ দিবস পালিত

বগুড়া অফিস

জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে নগরীর জিরো পয়েন্ট সাতমাথায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, স্থানীয় সরকার বিভাগ বগুড়ার উপপরিচালক রাজিয়া সুলতানা, মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ, শহীদ রাতুলের বাবা জিয়াউর রহমান। পরে জেলা বিএনপি, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, মহানগর বিএনপিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। এরপর শহীদ টিটু মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রেজাউল করিম বাদশা এমপি, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকিরসহ সরকারি কর্মকর্তা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় সভায় জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য দিতে না দেয়ার অভিযোগে তারা সভা বর্জন করেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এটা সরকারি অনুষ্ঠান, তাই রাজনৈতিক নেতাদের এখানে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। যেসব রাজনৈতিক নেতা সরকারের বিভিন্ন পদে রয়েছেন তাদেরকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।