পাবনা-১ আসনে নিজামীর দুর্গে বিএনপির কৌশলী লড়াই

Printed Edition

এস এম আলাউদ্দিন পাবনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পাবনার রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ভিআইপি আসন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে পাবনা-১। এই আসনটি নিয়ে আলোচনার মূল কারণ বিএনপি ও জামায়াতের পুনরুদ্ধারের লড়াই। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে যে দল জয়ী হয়েছে, সেই দলই রাষ্ট্রমতায় এসেছে। শুধু তাই নয়, সরকার গঠনের পর এখানকার বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার নজিরও রয়েছে। সে কারণেই পাবনা-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

এবারের নির্বাচনে জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে মাঠের রাজনীতি নতুন মোড় নেয়। পরে অধ্যাপক আবু সাইয়িদের বিএনপিতে যোগদান এবং বিএনপি প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমানকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় আলোচনা আরো জোরালো হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতে বিএনপির কৌশলী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে এ আসনটি বিএনপির হাতছাড়া এবং প্রায় ২০ বছর ধরে জামায়াতও জয়বঞ্চিত। ফলে উভয় দলই এবার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, ১৯৭৯ সালে বিএনপির মির্জা আব্দুল আউয়াল, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির মেজর (অব:) মঞ্জুর কাদের, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াতের মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং ১৯৯৬ সালে আবার অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বিজয়ী হন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত (বিতর্কিত নির্বাচনসহ) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এ আসনে জয়ী হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভেতরে বিভাজন আরো স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অধ্যাপক আবু সাইয়িদের বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া বিএনপির জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, এতে আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোট তাদের দিকে ঝুঁকতে পারে। অন্যদিকে সাঁথিয়ায় জামায়াতের শক্ত ভোটব্যাংক এখনো অটুট। নিজামীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান এলাকায় সক্রিয় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াত নেতাদের দাবি, সংগঠন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত। সব মিলিয়ে জামায়াতের ঐতিহ্যবাহী দুর্গে কৌশলী অবস্থান নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি, আর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা পাবনা-১ আসনকে আবারো জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।