খেলনার আড়ালে বিষ

খেলনা শুধু একটি বস্তু নয়-এটি শিশুর আনন্দ, তার শেখা, তার কল্পনার অংশ। সেই খেলনা যদি তার জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে সেটি শুধু একটি নীতিগত ব্যর্থতা নয়, আমাদের সামাজিক ও নৈতিক ব্যর্থতা। বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প আমরা গর্ব করে বলি। কিন্তু সেই উন্নয়ন তখন অর্থবহ হবে, যখন আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। আজ যে শিশু খেলছে, আগামীকাল সেই-ই দেশ গড়বে। তার হাতে যদি আমরা নিরাপদ খেলনা দিতে না পারি, তবে ভবিষ্যতের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে। সময় এখনই সচেতন হওয়ার, পদক্ষেপ নেয়ার এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শিশুদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার

ড. শাহরিয়ার হোসেন
ঢাকার ব্যস্ততম বাজারগুলোর একটিতে দাঁড়ালে সহজে বোঝা যায়- এ শহর এখনো স্বপ্ন দেখে। গুলিস্তানের সরু গলি, চকবাজারের ভিড়, কিংবা নিউমার্কেটের দোকানের সারি- সবখানে ঝুলছে রঙিন খেলনা। প্লাস্টিকের হাঁস, টুকটুকে লাল গাড়ি, পুতুলের মুখে আঁকা হাসি- সব কিছু যেন শিশুদের আনন্দের এক সরল প্রতীক। এই খেলনার মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে এক অদৃশ্য বিপদ, যা ধীরে ধীরে শিশুর শরীর ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। খেলনা, যা হওয়া উচিত নিরাপদ শৈশবের অংশ, সেটি হয়ে উঠছে বিষের বাহক।

অদৃশ্য বিষের উপস্থিতি : গবেষণার ভাষায় সতর্ক সঙ্কেত
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে খেলনার ওপর পরিচালিত গবেষণা ও পরীক্ষাগুলো এক গভীর উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছে। স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা খেলনাগুলোর মধ্যে বিপজ্জনক মাত্রায় সিসা, থালেটস, বিসফেনল-এ, ক্যাডমিয়াম এবং ফরমালডিহাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব উপাদান কোনো দুর্ঘটনাবশত যুক্ত হয়নি। এগুলো ইচ্ছা করে ব্যবহার করা হয়- প্লাস্টিক নরম করতে, রঙ উজ্জ্বল করতে, কিংবা পণ্যের স্থায়িত্ব বাড়াতে। অর্থাৎ- বাজারে যে খেলনাগুলো সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেখায়, অনেক সময় সেগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া খেলনার একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করে না। কিছু ক্ষেত্রে এ রাসায়নিকগুলোর মাত্রা অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি। এ তথ্যগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়- এক ধরনের সতর্ক বার্তা।

শিশুরা কেন বেশি ঝুঁকিতে
শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক নয়। তাদের শরীর, স্নায়ুতন্ত্র, প্রতিরোধ ক্ষমতা- সব কিছু এখন গড়ে ওঠার পর্যায়ে। তারা পৃথিবী চেনে স্পর্শ করে, মুখে দিয়ে, ঘ্রাণ নিয়ে। খেলনা তাদের কাছে শুধু খেলার বস্তু নয়, শেখার মাধ্যম। ফলে একটি খেলনা যখন বিষাক্ত হয়, তখন সেই বিষ শরীরে প্রবেশ করার পথও হয়ে যায় অত্যন্ত সহজ।

সিসা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বুদ্ধিমত্তা কমিয়ে দেয়, শেখার ক্ষমতা কমায় এবং আচরণগত সমস্যা তৈরি করে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো- এ ক্ষতি একবার হলে আর পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

থালেটস হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়। এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে প্রজনন স্বাস্থ্য, শ্বাসতন্ত্র, এমনকি ইমিউন সিস্টেমের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিসফেনল নিয়ে বিশ্বজুড়ে বহু গবেষণা হয়েছে। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে, স্থূলতা ও অন্যান্য জটিল রোগের সাথে যুক্ত। এ রাসায়নিকগুলো একবারে বড় ক্ষতি করে না- ধীরে ধীরে জমা হয় এবং সময়ের সাথে সাথে বড় সমস্যায় রূপ নেয়। অর্থাৎ- একটি শিশুর প্রতিদিনের ছোট ছোট এক্সপোজার তার ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

Toys-12-4

লক্ষণগুলো নীরব; প্রভাব গভীর
এ বিষাক্ত উপাদানগুলোর প্রভাব অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। একটি শিশু হয়তো একটু বেশি চঞ্চল হয়ে উঠছে, মনোযোগ দিতে পারছে না, কিংবা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে- এসবকে আমরা সাধারণ আচরণ ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু বাস্তবে এগুলো হতে পারে স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ।

অনেক ক্ষেত্রে ত্বকে অ্যালার্জি, লালচে ভাব, চুলকানি দেখা যায়। আবার যখন শিশু খেলনা মুখে দেয়, তখন বমিভাব, বমি বা পেটের সমস্যাও হতে পারে।

শ্বাসের মাধ্যমেও ঝুঁকি তৈরি হয়। কিছু প্লাস্টিক খেলনা থেকে নির্গত রাসায়নিক বাতাসে মিশে যায়, যা দীর্ঘ সময় শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। এতে কাশি, শ্বাসকষ্ট, এমনকি অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ে।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো- এ সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি রোগে রূপ নিতে পারে। কমে যেতে পারে আইকিউ, তৈরি হতে পারে শেখার অক্ষমতা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

নিয়ন্ত্রণহীন বাজার ও নীতির দুর্বলতা : ঝুঁকির মূল শিকড়
বাংলাদেশের খেলনার বাজার আজ এক ধরনের অদৃশ্য বিশৃঙ্খলার ভেতর দিয়ে চলছে- যেখানে চাহিদা আছে, সরবরাহ আছে; কিন্তু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। এ বাজার মূলত দু’টি উৎসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, আমদানিকৃত খেলনা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য। এ দুই ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ কার্যত দুর্বল, বিচ্ছিন্ন এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রায় অনুপস্থিত।

আমদানিকৃত খেলনা সমস্যাটি আরো জটিল। দেশের স্থল ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল খেলনা প্রবেশ করছে। কিন্তু এসব পণ্যের খুব সামান্যই রাসায়নিক পরীক্ষা বা নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আসে। অনেক সময় পণ্যের ঘোষণাপত্রে কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা উল্লেখ থাকে না। থাকলেও যাচাইয়ের মতো অবকাঠামো সীমিত। ফলে একটি খেলনা বাজারে আসার আগেই তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রাথমিক ধাপ, সেটি অনুপস্থিত থেকে যায়।

অন্যদিকে, স্থানীয় উৎপাদন খাতেও একই ধরনের দুর্বলতা দেখা যায়। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর অনেকে উৎপাদন ব্যয় কমাতে নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে। এসব উপকরণে সিসা বা অন্যান্য ভারী ধাতুর উপস্থিতি থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এসব কারখানার ওপর কার্যকর নজরদারি খুব সীমিত। নিয়ম থাকলেও প্রয়োগে ধারাবাহিকতা নেই, জবাবদিহিও দুর্বল।

আইনগত কাঠামো পুরোপুরি অনুপস্থিত নয়; কিন্তু এর প্রয়োগ বড় প্রশ্ন। বাজারে এমন অসংখ্য খেলনা পাওয়া যায়, যেগুলোর কোনো মান নিয়ন্ত্রণ সনদ নেই, কোনো লেবেল নেই, এমনকি উৎপাদন বা আমদানিকারকের তথ্যও স্পষ্ট নয়। এ অবস্থায় একজন অভিভাবক যখন সন্তানের জন্য খেলনা কিনতে যান, তখন তার হাতে তথ্য থাকে না- শুধু বিশ্বাস থাকে। এ বিশ্বাসই হয়ে উঠছে বড় ঝুঁকি।

এ শূন্যতার মধ্যে বিষাক্ত খেলনাগুলো নির্বিঘ্নে বাজারে প্রবেশ করছে, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে। এটি কেবল একটি বাজারব্যবস্থার দুর্বলতা নয়, নীতিগত ব্যর্থতা, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

সচেতনতার অভাব : নীরব সঙ্কটের বড় কারণ
আইন ও নীতিমালা যতই শক্তিশালী হোক, যদি মানুষ সেই ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত না থাকে, তবে সেই আইন বাস্তবে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে পারে না। খেলনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা এখানেই- সচেতনতার অভাব।

দেশের অধিকাংশ অভিভাবক এখনো জানেন না, একটি সাধারণ খেলনার মধ্যেও বিষাক্ত রাসায়নিক থাকতে পারে। তাদের কাছে খেলনা নির্বাচন মানে- দাম কত, দেখতে সুন্দর কি না, শিশুর পছন্দ হবে কি না। কিন্তু খেলনার উপাদান কী, সেটি নিরাপদ কি না- এ প্রশ্নগুলো খুব কম সামনে আসে।

এ অজ্ঞতা ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা। কারণ তথ্য সহজলভ্য নয়, লেবেলিং নেই, গণমাধ্যমে আলোচনা সীমিত এবং শিক্ষাব্যবস্থায়ও এ বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। ফলে একটি পরিবার জানতে পারে না যে কী ঝুঁকি নিচ্ছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বাস্তবতাও কাজ করে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সাধারণত কম দামের পণ্য বেছে নিতে বাধ্য হয়। আর এ কম দামের পণ্যগুলো অনেক সময় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থাৎ- আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাব একসাথে কাজ করে শিশুদের আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।

কিন্তু বাজারের একটি মৌলিক নিয়ম আছে- চাহিদা যেমন, সরবরাহ তেমন। যদি অভিভাবকরা নিরাপদ খেলনা সম্পর্কে সচেতন হন। সেই পণ্যের জন্য চাহিদা তৈরি করেন, তাহলে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা বাধ্য হবে সেই অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে। অর্থাৎ- সচেতনতা শুধু তথ্য নয়, একটি শক্তি, যা বাজার বদলে দিতে পারে।

এখনই সময়- কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের
এ সঙ্কট দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে, কিন্তু সমাধান অসম্ভব নয়; বরং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো- খেলনায় ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিকের ওপর সুস্পষ্ট ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। আন্তর্জাতিকভাবে যেসব রাসায়নিক শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত, সেগুলো আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা। এটি শুধু একটি নীতিগত ঘোষণা নয়, হতে হবে বাধ্যতামূলক এবং প্রয়োগযোগ্য।

দ্বিতীয়ত, বাজারে আসার আগে প্রতিটি খেলনার বাধ্যতামূলক পরীক্ষা নিশ্চিত করা। এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষিত জনবল এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। কোনো খেলনা যেন পরীক্ষার বাইরে থেকে না যায়- এটি নিশ্চিত করা হবে এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।

তৃতীয়ত, নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। শুধু উৎপাদন বা আমদানির সময় নয়, বাজার পর্যায়েও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। হঠাৎ পরিদর্শন, নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার ফল জনসমক্ষে প্রকাশ- এসব উদ্যোগ বাজারে জবাবদিহি তৈরি করবে।

চতুর্থত, আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকা। জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল, এমনকি ফৌজদারি ব্যবস্থা, সব কিছু প্রয়োগ করতে হবে বাস্তবিকভাবে, শুধু কাগজে-কলমে নয়।

সবশেষে, জনসচেতনতা বাড়ানোকে এ কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা। স্কুল, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন- সবখানে বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা প্রয়োজন। কারণ সচেতনতা ছাড়া কোনো আইন পূর্ণ কার্যকারিতা পায় না।

সম্মিলিত দায়িত্ব : সরকার, শিল্প ও সমাজ
এ সঙ্কটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- এটি কোনো একক পক্ষের দায় নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত ব্যর্থতার ফল। তাই এর সমাধানও হতে হবে সমন্বিত।

সরকারের ভূমিকা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রণয়ন, মান নির্ধারণ, তদারকি এবং প্রয়োগ- চারটি স্তম্ভকে শক্তিশালী করা। একই সাথে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, যাতে জনগণ জানতে পারে- কোন পণ্য নিরাপদ, কোনটি নয়।

নির্মাতাদের দায়িত্বও কম নয়। তারা যদি সচেতনভাবে নিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার করেন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মান বজায় রাখেন, তা হলে ঝুঁকি অনেকটা কমে আসবে। এটি শুধু আইন মানার বিষয় নয়, নৈতিক দায়।

ব্যবসায়ীদের ভূমিকা হলো সঠিক পণ্য বাজারে আনা। তারা যদি শুধু লাভের দিকে না তাকিয়ে পণ্যের মান নিশ্চিত করেন, তবে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা বদলে যেতে পারে। আর সমাজ অর্থাৎ- আমরা সবাই এই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। সচেতন অভিভাবক, দায়িত্বশীল নাগরিক, সক্রিয় সামাজিক সংগঠন- সবাই মিলে একটি চাপ তৈরি করতে পারে, যা নীতিনির্ধারকদের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।

যখন চারটি স্তম্ভ সরকার, শিল্প, বাজার এবং সমাজ- একই লক্ষ্যে কাজ করবে, তখন একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।

এ বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন তুলে ধরে- আমরা কি আমাদের শিশুদের জন্য নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে প্রস্তুত? উত্তরটি নির্ভর করছে আমাদের আজকের সিদ্ধান্তের ওপর।

শেষ কথা : শৈশবকে বিষমুক্ত রাখার দায়
খেলনা শুধু একটি বস্তু নয়- এটি শিশুর আনন্দ, তার শেখা, তার কল্পনার অংশ। সেই খেলনা যদি তার জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে সেটি শুধু একটি নীতিগত ব্যর্থতা নয়, আমাদের সামাজিক ও নৈতিক ব্যর্থতা।

বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প আমরা গর্ব করে বলি। কিন্তু সেই উন্নয়ন তখন অর্থবহ হবে, যখন আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

আজ যে শিশু খেলছে, আগামীকাল সে-ই দেশ গড়বে। তার হাতে যদি আমরা নিরাপদ খেলনা দিতে না পারি, তবে ভবিষ্যতের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে।

সময় এখনই সচেতন হওয়ার, পদক্ষেপ নেয়ার এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার। একটি দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রথমে তার শৈশব রক্ষা করতে হয়।

লেখক : পরিবেশ-বিজ্ঞানী

[email protected]