পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অবস্থান ভৌগোলিকভাবে এশিয়া মহাদেশে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক দেশ দুটিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের সাথে যুক্ত করেছে। ব্যাংকের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুবিধার্থে গত এপ্রিলে পাকিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (MENA- Middle East and North Africa) অঞ্চলের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে একটি নতুন অর্থনৈতিক বলয় সৃষ্টি হয়ে ‘মিনাপ’ (MENAAP-Middle East, North Africa, Afghanistan, and Pakistan) নামে নতুন ব্লক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এটি চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই অর্থবছর থেকে কার্যকর হচ্ছে।
পাকিস্তানের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি বড় অংশ আসে এই দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসীদের রেমিট্যান্স থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে পাকিস্তানে এসেছে ৯৩৪ কোটি ডলার, যা পাকিস্তানের মোট রেমিট্যান্সের ২৫ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৭৮৩ কোটি ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ১৮-২০ শতাংশ। এছাড়া পাকিস্তান তার জ্বালানি চাহিদার জন্য প্রায় সম্পূর্ণভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই গভীর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্কের কারণেই দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) বৈরিতার কারণে নিষ্ক্রিয় আছে। বিগত সরকার পুনর্জীবিত করার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমিত ভূমিকার ফলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান তার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশ দুটি মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে আরও সহজে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের এই ‘অ্যানালিটিক্যাল শিফট’ মূলত বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির সেই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, যা দেশ দুটির উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা বয়ে আনতে পারে।
এই ভাগাভাগিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যেমন মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সঙ্কট ও বৈদেশিক মুদ্রার স্বল্পতা বিদ্যমান, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন ভারত বা বাংলাদেশের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই নতুন শ্রেণীবিন্যাস বিশ্বব্যাংককে দেশ দু’টির জন্য আরো কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল এবং উন্নয়ন সূচক তৈরি করতে সাহায্য করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। দেশ দুটির অর্থনীতির ওপর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর, বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। MENA ব্লকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে বিশ্বব্যাংক তাদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর ‘সভরেন ওয়েলথ ফান্ড’ এবং অন্যান্য বিনিয়োগ আকর্ষণের সহজ সুযোগ পাবে। উল্লেখ্য, সৌদি আরবের ‘পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (PIF) এবং আবুধাবির ‘আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি’ (ADIA) বিশ্বের অন্যতম বড় সভরেন ওয়েলথ ফান্ড। বিশ্বব্যাংক মনে করে এই পরিবর্তনে তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা ও আঞ্চলিক সমন্বয় বিশেষ সুবিধা পাবে। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক সৌদি আরবের রিয়াদে একটি নতুন আঞ্চলিক হাব চালু করেছে। এখন পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো রিয়াদ থেকেই নেয়া সম্ভব হচ্ছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত ও সমন্বয়পূর্ণ হবে। মিনা অঞ্চলের দেশগুলোর প্রধান সমস্যা হলো ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনসংখ্যা এবং সেই অনুপাতে কর্মসংস্থানের অভাব। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানও একই সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই দেশগুলোকে একই ব্লকে রাখলে কর্মসংস্থান, পানি নিরাপত্তা এবং নারী উন্নয়নের মতো সাধারণ বিষয়গুলোতে অভিন্ন কৌশল গ্রহণ সহজ হবে।
আফগানিস্তান ঐতিহাসিকভাবেই দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সংযোগস্থল। তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানের সাথে তাদের সীমান্ত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিরোধ যেমন বেড়েছে, তেমনি তাদের আন্তর্জাতিক সাহায্যের উৎস ও বাণিজ্যিক রুটগুলোও মধ্যপ্রাচ্য ও সেন্ট্রাল এশিয়ার দিকে বেশি ঝুঁকেছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, আফগানিস্তানের বর্তমান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর চেয়ে MENA অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই পরিবর্তন মূলত বিশ্লেষণমূলক এবং অর্থনৈতিক রিপোর্টিংয়ের সুবিধার জন্য করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই শ্রেণীবিন্যাস প্রমাণ করে, বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দেশ দুটির পরিচয় এখন দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের সাথেই বেশি সম্পর্কিত।
ভারত, নেপাল ও ভুটান বিশ্বব্যাংকের এই পরিবর্তনের বাইরে রয়েছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, ভারত বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু, একটি স্বনির্ভর ও শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা-চালিত অর্থনীতি, যার সাথে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য গভীরভাবে জড়িত। এই দেশগুলোকে ভারত থেকে আলাদা করলে এই অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন ও কানেক্টিভিটি বাধাগ্রস্ত হবে। নেপাল ও ভুটান সম্পূর্ণ ভূ-বেষ্টিত এবং তাদের অধিকাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য ও ট্রানজিট ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ঐতিহাসিকভাবেই এই দেশগুলোর সংস্কৃতি, ধর্ম এবং জীবনযাত্রার সাথে ভারতের সম্পর্ক এতটাই গভীর যে, তাদের মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক কোনো ব্লকে অন্তর্ভুক্ত করা বাস্তবসম্মত নয়। বিশ্বব্যাংক বর্তমানে BBIN (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) নামে একটি উপ-আঞ্চলিক কাঠামোর মাধ্যমে বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করছে। এই দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগ এবং সড়ক যোগাযোগ (Motor Vehicles Agreement) স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। তাই দেশগুলো দক্ষিণ এশিয়াতে রাখার সুবিধা বেশি। নেপাল ও ভুটানের অর্থনীতি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের রেমিট্যান্স ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল নয়। দেশ দুটি মূলত জলবিদ্যুৎ, কৃষি ও পর্যটনের ওপর ভিত্তি করে দক্ষিণ এশীয় বাজারেই বেশি সক্রিয়।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বেরিয়ে যাওয়ার ফলে এখন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সংহত (Cohesive) হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাংক এখন ভারতকেন্দ্রিক এই ছোট ব্লকের জন্য আরো টেকসই ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা তৈরি করতে বেশি সুবিধা পাবে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সরিয়ে নেয়ার পর বিশ্বব্যাংকের SAR (South Asia Region) ব্লকে ভারতের অর্থনৈতিক আধিপত্য এখন নিরঙ্কুশ হবে। দক্ষিণ এশীয় ব্লকের মোট জিডিপিতে ভারতের অংশ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে।
বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান জিডিপির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই এখন ভারতের দখলে, যার অর্থ হলো, এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন সম্পূর্ণভাবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল; ভারত ভালো করলে পুরো অঞ্চলের গড় প্রবৃদ্ধি বাড়বে, আর ভারত ধীরগতির হলে পুরো অঞ্চল পিছিয়ে পড়বে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউএন এসক্যাপের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.৪ থেকে ৭.৬ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের প্রবৃদ্ধি যেখানে ৬.৪ শতাংশ, সেখানে চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশ এবং নেপালের ৫.২ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান না থাকায় BBIN (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) জোট আরো শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে, ভারত নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুৎ এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বাজারের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে জ্বালানি হাবে পরিণত হচ্ছে। সার্কের রাজনৈতিক জটিলতা ছাড়াই ভারত এখন তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সরাসরি সড়ক ও রেল নেটওয়ার্ক যেমন ট্রান্স-সাউথ এশিয়ান করিডোর স্থাপনে দ্রুত গতিতে এগুতে পারবে ও বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্যে পরিণত হবে।
ভারতের জন্য কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে, যেমন চীনের প্রভাব মোকাবিলা। ভারতের প্রতিবেশী দেশ, যেমন মালদ্বীপ বা শ্রীলঙ্কার চীনের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়া ঠেকানো ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে, মানে ভারতের জন্য নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান মধ্যপ্রাচ্য ব্লকে থাকায় ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও কৌশলগত নজরদারি এখন আর দক্ষিণ এশীয় কোনো ফোরামে আলোচিত না হয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাভিত্তিক ফোরামে আলোচিত ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। এতে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বলয়ে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের এই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে চীন এখন পর্যন্ত বিরোধিতা বা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়নি; বরং চীন বিষয়টিকে তার নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে ব্যবহারের সুযোগ হিসেবে দেখছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট সীমান্ত উত্তেজনা ও খোলাখুলি যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চীন এই অঞ্চলের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে। চীন মনে করে, যে অর্থনৈতিক ব্লকেই থাকুক না কেন, তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব সিপেক (CPEC) এবং চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়াংয়ের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। চীন পাকিস্তানকে কেবল দক্ষিণ এশিয়ার অংশ হিসেবে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে প্রভাব বিস্তারকে ভালোভাবে (Geopolitical launching pad) নিয়েছে। চীন এই পরিবর্তনকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ওপর ভারতের একক আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবেলা করার এবং মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত চীনের নিজস্ব প্রভাব বিস্তারের নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে।
পরিবর্তনের বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা সমর্থন জানাননি। পুতিন সম্প্রতি এক বিবৃতিতে পাকিস্তানকে রাশিয়ার অত্যন্ত genuinely mutually beneficial অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে দেখছে।
রাশিয়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার মিনা অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক গভীর করতে অত্যন্ত আগ্রহী। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এই ব্লকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রাশিয়া নিজের জন্য একটি সুবিধা মনে করে। রাশিয়া পাকিস্তানকে উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর INSTC-এ যুক্ত করতে কাজ করছে, ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিকে সরাসরি আরব সাগর ও এশিয়ার সাথে যুক্ত করতে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে বিনিয়োগ ও জ্বালানি-রাজনীতিতে প্রভাব খাটাতে সহজতর করবে। চীনের মতো রাশিয়াও পাক-আফগান তালেবান সরকারের সীমান্ত বিরোধ প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের স্থানান্তরের সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক ও একটি সুদূরপ্রসারি অর্থনৈতিক কৌশল। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া এখন মূলত ভারতকেন্দ্রিক বাজারে পরিণত হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যের সুযোগ তৈরি করবে। বাংলাদেশের অবস্থান নির্ণীত হবে তার পররাষ্ট্র কূটনীতির সফলতার ওপর। তবে সার্কের প্রাসঙ্গিকতা বিলীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার


