এম আবু হোরায়রাহ
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্যাস সঙ্কট এখন গৃহস্থালি, শিল্পখাত এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, রফতানি আদেশের সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হচ্ছে।
এই সঙ্কট নগর এলাকার গৃহস্থালিগুলোর জন্যও সমানভাবে ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। এমনকি আমি যে এলাকায় থাকি পুরান ঢাকার কসাইটুলিতে (বংশাল থানা) বর্তমানে তীব্র গ্যাস সঙ্কট বিদ্যমান। রান্না করার সময় কোনো গ্যাসই থাকে না। আবার যখন সামান্য গ্যাস আসে তখন কোনো চাপ থাকে না।
অনেক এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যার রান্নার সময় গ্যাসের চাপ অপর্যাপ্ত থাকে। ফলে পরিবারগুলো ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে এবং তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সমস্যাটি সমাধানে সরকারের উচিত তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি পুরোনো গ্যাসকূপগুলো পুনরায় চালু করা এবং গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অধিক বিনিয়োগ আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
একইসাথে অবৈধ সংযোগ, পাইপলাইনের ত্রুটি এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে গ্যাসের অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক : সাবেক সহ-সভাপতি, ডিসিসিআই ও সাবেক মহাসচিব, ঢাকা সমিতি।



