জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে নীরবতা

এই নীরবতায় একটি কথা বোঝা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা আছে, কিন্তু রাষ্ট্রকে রক্ষা ও বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে আসীন করার চিন্তা নেই। উন্নয়ন, সংস্কার ও গণতন্ত্রের কথা বলে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এড়িয়ে যাওয়া মানে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়া। যেসব রাজনৈতিক দল নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে স্পষ্ট হতে পারে না, তারা ঠিক কিভাবে রাষ্ট্র চালানোর নৈতিক অধিকার দাবি করতে পারে? এবারের নির্বাচনের ইশতেহারে যদি দলগুলো এ প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারে; এমন প্রেক্ষাপটে সরকার বদলালেও রাষ্ট্রের দুর্বলতা বদলানোর সম্ভাবনা খুব কম, এটা কঠিন এক বাস্তবতা।

এবারের নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে একেবারে ভিন্ন ও ব্যতিক্রধর্মী হবে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে। এর প্রধান কারণ হলো, গত পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশ কার্যত এমন একটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতর দিয়ে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ভারতকে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে ধরে নেয়া ছিল নীতিগত ভিত্তি। ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সহায়তা করেছিল এই ঐতিহাসিক বয়ান ঘিরে দিল্লি দীর্ঘ সময় ধরে ওই সব রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে বা সহায়তা করেছে, যারা ভারতের প্রতি আনুগত্যশীল ছিল। এর মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশে তার অর্থনৈতিক, ভ‚রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক স্বার্থ সুনির্দিষ্টভাবে আদায় করে নিতে পেরেছে।

এই দীর্ঘ সময়ে কিছু ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা অবশ্যই হয়েছে, বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্য ইন্তেকাল করা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের ১৬ বছরের রাজনৈতিক দর্শন ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে। তবে সমস্যা হলো, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে গত ১৫ বছরে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মানসিক ও বাস্তবিকভাবে ডুবে গেছে বলা চলে। এর পেছনে ছিল নিরাপত্তাব্যবস্থার সিস্টেমিক স্ট্রাকচার, যা ভারতের বিপরীত অবস্থানকে স্বাভাবিকভাবে প্রতিরোধ করেছে। ফলে যেকোনো শাসন বা রাজনৈতিক শক্তি যখন ভারতের স্বার্থের বিপরীতে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তখন দেশের ভেতরে ও বাইরে ভারতের প্রভাবাধীন এ সিস্টেমিক শক্তি তা প্রতিরোধ করেছে। ভারত বন্ধু নামে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এবং দিল্লির সাথে অ্যালাইন থাকা রাষ্ট্রীয় কাঠামো সেই শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে। সেই সাথে ভারতবিরোধী অবস্থান নেয়া ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও অনেকে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ‘দেশবিরোধী’, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ কিংবা ‘রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। ফলে তাদের জন্য মানবাধিকার বা ন্যায্যতার কোনো জায়গা রাখা হয়নি। বিপরীতে, যারা ভারতপন্থী ছিল, তাদের রক্ষা করাকে নিরাপত্তা বলয়ের জন্য একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়েছে। কারণ পুরো নিরাপত্তা সেটআপ গড়ে উঠেছে এ ফ্রেমওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে। এ কারণে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ, অন্যান্য প্রতিরক্ষাবাহিনী এবং আমলাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ভারতপন্থী একটি সেটআপ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ছিল।

কিন্তু এ দেশের তরুণ সমাজ ও দেশপ্রেমিক জনগণ এই গোলামির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে চব্বিশে বর্ষা বিপ্লব সংঘটিত করে দিল্লি প্রভাবিত হাসিনাকে ভারতে পালাতে বাধ্য করে। তবে বাংলাদেশে শাসনপদ্ধতির বড় পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেকটা এই বিদ্যমান সেটআপের ভেতর দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজনের চেষ্টা চলছে। ভারতপন্থী দল আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে সুযোগ না পেলেও এ কথা স্পষ্ট করে বলা যাবে না যে, ভারত তার নিরঙ্কুশ প্রভাব সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছে; বরং বাস্তবতা হলো- বাংলাদেশের যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাঠামো সিস্টেমিক স্ট্রাকচার ও তাত্তি¡ক ভিত্তিতে দাঁড়ানো তাতে এখনো ভারতের পক্ষে কাজ করা সহজ। এই বাস্তবতা এবারের নির্বাচন ও পরবর্তী সরকারের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জটিল ও সংবেদনশীল পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

সুতরাং, ২০২৬-এর নির্বাচনে যে দল বা জোটই ক্ষমতায় আসুক না কেন, এবারের নির্বাচনে গঠিত সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে, বাংলাদেশের সার্বভৌম নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রক্ষা করা। উন্নয়ন, অবকাঠামোর আগে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে। কারণ, প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হলে উন্নয়ন টেকসই হয় না, আর নিরাপত্তাহীন রাষ্ট্রে উন্নয়ন প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। তাই চব্বিশের বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন যে সরকার ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাকে একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মমর্যাদাশীল পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করতে হবে। এ বাস্তবতাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, অতীতে ভারত যেভাবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে তার স্বার্থবিরোধী শক্তিগুলো দমন ও উৎখাত করেছে, বর্তমানেও সেই অপচেষ্টা অব্যাহত আছে। ভবিষ্যতেও ভারত একই অবস্থানে থাকবে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।

আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক আবেগে নয়, স্বার্থে চলে। ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে এটা স্বাভাবিক। তবে দুঃখজনক হলো, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিশাল অংশের এই বাস্তবতা উপলব্ধি করার ব্যর্থতা। আসলে বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনীতিবিদের মধ্যে এ সঙ্কট নিয়ে ন্যূনতম উদ্বেগও দেখা যাচ্ছে না। তারা এখনো বুঝতে পারছেন না, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা কে বা কী। তারা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা কাঠামো কিংবা প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে কোনো কৌশলগত চিন্তা না করে এখনো কেবল একটি চিন্তায় আটকে আছেন : কিভাবে ক্ষমতায় আসা যায়!

কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিশ্বব্যবস্থা আর একক মেরুকেন্দ্রিক নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর যে আন্তর্জাতিক কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল, তা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন কৌশলগত প্রতিযোগিতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামরিকীকরণ এবং বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে বর্তমান দুনিয়া এক গভীর অনিশ্চয়তা ও শক্তির পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের মতো একটি উদীয়মান দেশের জন্য প্রতিরক্ষা নীতি জাতীয় অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন। সেই কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে শক্ত, সুস্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক প্রতিরক্ষা নীতি অন্তর্ভুক্ত করা আজ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বরাজনীতি এখন ‘হার্ড ও সফট পাওয়ারের’ পাশাপাশি ‘স্মার্ট পাওয়ারের’ যুগে প্রবেশ করেছে। সামরিক শক্তি, প্রযুক্তি, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব সবকিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রগুলো জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে এমন এক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ভ‚রাজনীতির প্রভাব ক্রমে বাড়ছে। পাশাপাশি ভারতের সাম্রাজ্যবাদী চিন্তা, মুসলিম নিধন ও হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান এবং মিয়ানমারের বহুমুখী গৃহযুদ্ধ বাংলাদেশকে শঙ্কায় ফেলেছে। এ প্রেক্ষাপটে একটি দুর্বল বা অস্পষ্ট প্রতিরক্ষা নীতি কেবল ঝুঁকি বাড়াবে না, একই সাথে রাষ্ট্রের কৌশলগত গুরুত্বও ক্ষুণ্ণ করবে।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যুদ্ধের চরিত্র বদলে গেছে। প্রচলিত সামরিক সঙ্ঘাতের পাশাপাশি এখন রয়েছে হাইব্রিড যুদ্ধ, সাইবার যুদ্ধ, তথ্যযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ। একটি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে আর সরাসরি আক্রমণের প্রয়োজন হয় না; ভুয়া তথ্য, সাইবার হামলা, আর্থিক নিষেধাজ্ঞা বা ক‚টনৈতিক চাপই যথেষ্ট। বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে তাই প্রতিরক্ষা নীতি কেবল সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হলে চলবে না। কিন্তু এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে জাতীয় প্রতিরক্ষা নিয়ে এখনো কার্যত কোনো গুরুতর আলোচনা নেই। যে দেশ একটি ভ‚-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে অবস্থান করছে, যে দেশ বৈশ্বিক শক্তি প্রতিযোগিতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে, সেই দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যদি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাকে প্রান্তিক বিষয় বানায়, তবে তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ইশতেহারের খসড়া করছে, রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে কিন্তু কোথাও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতি, তার তাত্তি¡ক ভিত্তি বা বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেই। এর মানে, বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ক্ষমতা চায়, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার দায় নিতে প্রস্তুত নয়। কোনো দলই স্পষ্ট করে বলছে না, বাংলাদেশ কিভাবে স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি অর্জন করবে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক শক্তির চাপে বাংলাদেশ কোন নীতিতে চলবে? প্রতিরক্ষার মূল দর্শন কী হবে? হুমকির অগ্রাধিকার নির্ধারণ কিভাবে হবে? এ মৌলিক প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার মানে ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রকে ভ‚-কৌশলগতভাবে দুর্বল রেখে দেয়া।

একই সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাইবার ডিফেন্স, এআই বা আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি নিয়ে কার্যত কোনো আলাপ নেই। দেশে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতির বড় প্রমাণ এটি। নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। সমুদ্রসীমা রক্ষায় আধুনিক ফ্রিগেট, সাবমেরিন, মিসাইল সিস্টেম, নৌ-ড্রোন; আকাশ প্রতিরক্ষায় উন্নত রেডার, এয়ার ডিফেন্স মিসাইল ও ফাইটার জেট এসব বিষয় একটি উপক‚লীয় ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য মৌলিক বিষয়। কিন্তু জনপরিসরে রাজনৈতিক দলগুলোর এসব বিষয়ে আলাপ-আলোচনা অনুপস্থিত। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনাও একইভাবে উপেক্ষিত।

সবচেয়ে উৎকটভাবে অনুপস্থিত হলো, আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে সুস্পষ্ট চিন্তা। অস্ত্র ও প্রযুক্তির জন্য চিরকাল অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকা মানে কৌশলগতভাবে পরাধীন থাকা। রাজনৈতিক দলগুলো যদি এ বাস্তবতা স্বীকার না করে, তবে তাদের ‘স্বাধীনতা’ ও ‘সার্বভৌমত্বের’ বুলি ফাঁকা স্লোগানে পরিণত হয়।

এই নীরবতায় একটি কথা বোঝা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা আছে, কিন্তু রাষ্ট্রকে রক্ষা ও বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে আসীন করার চিন্তা নেই। উন্নয়ন, সংস্কার ও গণতন্ত্রের কথা বলে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এড়িয়ে যাওয়া মানে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়া। যেসব রাজনৈতিক দল নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে স্পষ্ট হতে পারে না, তারা ঠিক কিভাবে রাষ্ট্র চালানোর নৈতিক অধিকার দাবি করতে পারে? এবারের নির্বাচনের ইশতেহারে যদি দলগুলো এ প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারে; এমন প্রেক্ষাপটে সরকার বদলালেও রাষ্ট্রের দুর্বলতা বদলানোর সম্ভাবনা খুব কম, এটা কঠিন এক বাস্তবতা।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক, একাডেমিক ডিরেক্টর, সেন্টার ফর গভার্ন্যান্স অ্যান্ড সিভিলাইজেশনাল স্টাডিজ

[email protected]