মারণাস্ত্র মিম, ট্রাম্পকে রুখতে তেহরানের ডিজিটাল দাপট!

ইরানের ইংরেজি ভাষার পোস্টগুলোতে বরং ট্রাম্পের নিজস্ব ঢং অনুকরণ করতে দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধের কয়েক সপ্তাহ পেরনোর পর হোয়াইট হাউস যখন কার্টুন ট্রাম্পের মাধ্যমে ভল্লুক আর হাঁসদের নিয়ে ‘কৃষি সপ্তাহ’ পালনের ভিডিও দেয়, তখন ইরানপন্থী একটি অ্যাকাউন্ট থেকে কড়া ব্যাঙ্গাত্মক উত্তর আসে: ‘আহা! আমাদের প্রতিপক্ষটা যদি অন্তত একটু উঁচু মানের হতো! হ্যাশট্যাগ লুজারহাউস।’

সংগৃহীত

মিম এবং ট্রোল—এই দুটো শব্দ বাংলা ভাষায় সদ্য আমদানিকৃত। বাংলা একাডেমির হর্তাকর্তারা তাদের ঢাউস অভিধানে এগুলোকে কবে ঠাঁই দেবেন, কিংবা আদৌ দেবেন কি না—সে কথা হলফ করে বলা মুশকিল। তবে তাতে ভাষার অবাধ্য বহমানতায় খুব একটা কিছু আসে-যায় না; কারণ রাজপথের ধুলোবালি থেকে ডিজিটাল পর্দার পিক্সেল—সর্বত্রই এখন এই দুই শব্দের জয়জয়কার। মশকরা, ফাজলামি, ঠাট্টা কিংবা ধ্রুপদী ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মতো জুতসই শব্দের ভাঁড়ার বাংলা ভাষায় কম নেই। কিন্তু সেই বনেদি শব্দগুলোকে পাশ কাটিয়ে কেন এই ছোকরা মিম আর ট্রোল দুনিয়া জয় করল—সে প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনো ভাষাবিদ কোনো এক অলস দুপুরে আয়েশ করে দেবেন। তবে আমাদের চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় মিম ও ট্রলের সেই ‘বিশ্বজয়ী’ আর দাপুটে ভূমিকার কথা চাইলেও কেউ ভুলতে পারবে না, ভোলানো যাবে না। শাসকের রক্তচক্ষুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক একটা ছবি কিংবা সামান্য কয়েকটা কথা যেভাবে দাবানলের মতো ছড়িয়েছিল, তা ছিল এক অবিশ্বাস্য ডিজিটাল লড়াই।

ঠিক একইভাবে, ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধ ঘিরে ইরানিরা মিম ও ট্রল করেছে দেদার। বলা যায়, ইন্টারনেটের অদৃশ্য জগতটা যুদ্ধের উত্তপ্ত দিনগুলোতে প্রায় পুরোটাই ছিল তেহরানের পকেটে। সেখানে সাধারণ চুটকি, ইয়ার্কি কিংবা বিদ্রূপ তখন কেবল ড্রয়িংরুমের আড্ডা নয়, বরং নতুন এক যুদ্ধের সমীকরণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ‘হাসির অস্ত্র’ তখন আর নিছক বিনোদন থাকেনি; তা হয়ে উঠেছিল সাক্ষাৎ শত্রু হননের বা দুশমনের মনোবল চূর্ণ করার এক অব্যর্থ মারণাস্ত্র। সমরবিদরা অবাক হয়ে দেখলেন, ডানাওয়ালা ড্রোনের চেয়েও কখনো কখনো এই মিম বা ট্রোলগুলো বেশি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত মালাইকা কানানেহ ট্যাপার-এর সেই বিশেষ প্রতিবেদন ‘হাউ ইরান টার্নড টু মিমস টু টেক অন ট্রাম্প’-এ অত্যন্ত নিপুণভাবে উঠে এসেছে—কিভাবে তেহরান প্রশাসন আমেরিকার মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণের মুখেও বিচলিত না হয়ে সাইবার দুনিয়ায় বিদ্রূপাত্মক প্রচারণার এক প্রবল বান ডেকে দিয়েছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ‘গোটা সভ্যতা’ ধুলোয় মিশিয়ে দেয়ার হুমকি থেকে সরে এসে ইরানের সাথে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেন, তার ঠিক পরের সকালেই দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত তেহরানের দূতাবাস থেকে একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করা হলো। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি বাদামী রঙের কুকুর ক্যামেরার দিকে চরম বিভ্রান্ত চোখে তাকিয়ে আছে—ইন্টারনেট মিমের জগতে যা অতি পরিচিত এক দৃশ্য। ক্লিপটির ক্যাপশনে দূতাবাসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হলো- ‘যারা গত রাতে ইরানি সভ্যতা ধ্বংস হওয়ার অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো বসে ছিলেন, তাদের অবস্থা এখন ঠিক এমন।’

ভঙ্গুর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই বোঝা গেল, ইরানের ধর্মতাত্ত্বিক শাসকগোষ্ঠীর ‘মিম যুদ্ধ’ থামানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই। মালাইকা কানানেহ ট্যাপার-এর এই বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক বিচিত্র সমরকৌশল, যেখানে কামানের গোলার বদলে ব্যবহৃত হচ্ছে তীক্ষ্ণ বিদ্রূপ আর ইন্টারনেটের ভাষা। লেখক মালাইকা একজন ঝানু সাংবাদিক এবং গবেষক, যিনি মধ্যপ্রাচ্যের ডিজিটাল সমরকৌশল ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের তাদের বোমা হামলা শুরু করেতেই , ইরানের দূতাবাসগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া ফিডগুলো চাঙ্গা হয়ে ওঠে। দক্ষ এবং পেশাদারিত্বে পাশাপাশি অতি সরসভবে ‘অনলাইন’ এবং শ্লেষাত্মক মন্তব্যে সয়লাব করে রেখেছে সোশ্যাল মিডিয়া ফিডগুলোকে। ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ অ্যাকাউন্টগুলো থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি দারুণ সব ‘লেগো অ্যানিমেশন’ পোস্ট করা হচ্ছে। এখানে কুখ্যাত এপস্টাইন কেলেঙ্কারির নথিপত্রের সাথে ট্রাম্পের যুদ্ধের এক যোগসূত্র দেখানো হয়েছে। এমনকি ইরানের শীর্ষ যুদ্ধকালীন নেতাদের একজন, মোহাম্মদ-বাকের কালিবাফও খোদ মার্কিন প্রশাসনকে ‘ট্রোল’ করতে ছাড়ছেন না। অথচ এককালে এই মার্কিন প্রশাসনের প্রধানই ছিলেন বিশ্বের এক নম্বর ‘টুইটারবাজ’।

ইরানের শাসকগোষ্ঠী তুমুল যুদ্ধের ঝড়ে বিপর্যস্ত হলেও শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে এখনো টিকে আছে। পাশাপাশি তেহরানের এই অনলাইন বাহিনী এখন আপ্রাণ চেষ্টা করছে এই যুদ্ধবিরতিকে এক বিশাল জয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির ‘মিডিয়া ফরেনসিক হাব’-এর সহ-পরিচালক ড্যারেন লিনভিল বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইরান এই প্রচার যুদ্ধে জিতে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখানে বেশ রক্ষণাত্মক অবস্থানে রয়েছে।’ অর্থাৎ ট্রাম্পের অবস্থা বাংলায় বহুল কথিত ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচার’ মতোই!

লিনভিল আরো জানান, ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখায় মার্কিন প্রচারণার খুব সামান্যই সাধারণ ইরানিদের চোখে পড়ে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসও ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থকদের কথা মাথায় রেখে এমন কিছু ক্লিপ প্রচার করেছে যেখানে যুদ্ধটাকে স্রেফ কোনো ভিডিও গেমের মতো মনে হয়। কিন্তু ইরানিরা ইন্টারনেটের ভাষাকে এমনভাবে রপ্ত করেছে যে, তাদের কন্টেন্টগুলো আমেরিকা তো বটেই, বিশ্বজুড়ে বিশাল দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। একদিকে যখন তাদের ওপর মিসাইল বৃষ্টি হচ্ছিল, আর অন্যদিকে তারা ইসরাইল বা পারস্য উপসাগরে পাল্টা আঘাত হানছিল, ঠিক সেই সময়েই ইন্টারনেটের রসবোধকে হাতিয়ার করে তারা অভূতর্পূব লড়াই চালিয়ে গেছে।

ইরানের ইংরেজি ভাষার পোস্টগুলোতে বরং ট্রাম্পের নিজস্ব ঢং অনুকরণ করতে দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধের কয়েক সপ্তাহ পেরনোর পর হোয়াইট হাউস যখন কার্টুন ট্রাম্পের মাধ্যমে ভল্লুক আর হাঁসদের নিয়ে ‘কৃষি সপ্তাহ’ পালনের ভিডিও দেয়, তখন ইরানপন্থী একটি অ্যাকাউন্ট থেকে কড়া ব্যাঙ্গাত্মক উত্তর আসে: ‘আহা! আমাদের প্রতিপক্ষটা যদি অন্তত একটু উঁচু মানের হতো! হ্যাশট্যাগ লুজারহাউস।’

‘ইলেকট্রনিক ইরান’ বইয়ের লেখক এবং ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অফ আমেরিকার মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক নিকি আখভান বলেন, ‘ইরানি মিম এবং ট্রোলকারীরা মার্কিন প্রশাসনের সাথে ঠিক তাদের ভাষাতেই কথা বলছে।’

গবেষকদের মতে, তেহরান বছরের পর বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। ২০২৪ সালে লিনভিলের সাইবার গবেষণা দল যুক্তরাজ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্কের সন্ধান পায়, দাবি করা হয়, যা গোপনে পরিচালনা করছিল ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।

আইআরজিসি বেশ কিছু ডিজিটাল কোম্পানির পেছনে অর্থ ঢালছে। এই কোম্পানিতে কাজ করে একঝাঁক তরুণ তুর্কি, যারা ইংরেজি ভাষার মিম সংস্কৃতিতে পানিঘোলা করার ওস্তাদ। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে দ্রুতগতির অ্যানিমেটেড ভিডিও বানাতে তারা সিদ্ধহস্ত। যখন আমেরিকা ও ইসরাইল হামলা চালালো, এই বিশাল নেটওয়ার্কটি ট্রাম্প প্রশাসনের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে ইন্টারনেটে তুফান তুলতে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। জেফ্রি এপস্টাইন কেলেঙ্কারি—এবং ট্রাম্পের পুরনো বন্ধুর কুকীর্তি থেকে দুনিয়ার নজর সরাতেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে—এমন সব তত্ত্বে সয়লাব ডিজিটাল জগত। তাদের আরেকটি প্রিয় বিদ্রূপ হলো ‘টাকো’ (TACO), যার পূর্ণরূপ তারা দিয়েছে ‘ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেনস আউট’ (Trump Always Chickens Out) অর্থাৎ ট্রাম্প সব সময়ই লেজ গুটিয়ে পালান।

যুক্তরাজ্যের গোল্ডস্মিথস ইউনিভার্সিটির মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক গোলাম খিয়াবানি বলেন, ‘ইরানিদের লক্ষ্য ছিল সবার নজর কাড়া, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিভেদ আরো বড় করা এবং ট্রাম্পকে চাপের মুখে রাখা।’ পাশাপাশি তারা ফিলিস্তিন সংহতি, ভিয়েতনাম যুদ্ধ কিংবা আমেরিকার আদিবাসীদের ওপর নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বৈশ্বিক দর্শকদের মন জয়ের চেষ্টাও করেছে।

‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ নামের একটি ইরান সরকার ঘনিষ্ঠ প্রযোজনা সংস্থা এই এআই ভিডিও বানানোর কারখানায় পরিণত হয়েছে। তাদের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লেগো রূপী ট্রাম্প ঘামছেন কারণ হোয়াইট হাউসের বাইরে ‘নো কিংস’ (রাজতন্ত্র চলবে না) বিক্ষোভ চলছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী। এরপর যখন তার এক সহকারী এসে খবর দেয়, ‘স্যার, ইরানিরা নতুন লেগো অ্যানিমেশন ছেড়েছে,’ তখন ট্রাম্প কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের ইমারসন ব্রুকিং বলেন, ‘ইরানিরা তাদের প্রতিটি প্রচারণায় একটি আস্ত গল্প বলছে, যা আমেরিকা পারছে না।’ জিম্বাবুয়ে থেকে যুক্তরাজ্য—বিশ্বের সব প্রান্তের ইরানি দূতাবাসগুলো এই ‘মিম যুদ্ধ’কে আপন করে নিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার কালিবাফ প্রথাগত গাম্ভীর্য ঝেড়ে ফেলে এই খেলায় নেমেছেন। যখন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ গত মার্চে স্বীকার করলেন যে ওয়াশিংটন ইরানের মিসাইল সক্ষমতাকে কম মূল্যায়ন করেছে, গালিবাফ তখন একটি কান্নাসিক্ত শিশুর ছবি দিয়ে বিশ্বখ্যাত এক ‘গ্লোবাল মেম’ পোস্ট করেন। সেই পোস্টটি ২৬ লাখ বার দেখা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, ইরানের প্রচারণার প্রকৃত ব্যাপ্তি পরিমাপ করা কঠিন, কারণ তাদের তৈরি করা মিমগুলোকে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও অজান্তেই শেয়ার করে ছড়িয়ে দেয়।

বাস্তব জগতে অবশ্য ইরানের জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাদের শীর্ষ নেতা, সাধারণ নাগরিক এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের শিল্পোৎপাদন ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে। গবেষণা কেন্দ্র এবং রফতানি খাতের ইঞ্জিনগুলোও প্রায় স্তব্ধ হয়ে গেছে। এর জবাবে ইরানও ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে, তাদের প্রক্সি বাহিনীগুলোকে যুদ্ধে নামিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্ব জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি বাজারকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে ইরান।

অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প বুক ঠুকে শপথ করেছিলেন ইরানকে ‘পুরোপুরি আত্মসমর্পণ’ করিয়ে তবেই দম নেবেন। হুমকি ঝেড়েছিলেন দেশটির তখত-তাউস ধুলোয় মিশিয়ে দেয়ার। কিন্তু রণক্ষেত্রের সেই রক্তক্ষয়ী উন্মাদনার মুখে দাঁড়িয়েও কালিবাফদের মতো ঝানু কর্মকর্তাদের আঙুলের ডগায় বিদ্রূপের শান এতটুকুও কমেনি। তখন বুঝতে হবে লড়াইয়ের ময়দানটা স্রেফ মাটির ওপর সীমাবদ্ধ নেই। এই যে দাপটের সাথে অনলাইনে দুশমনকে ট্রোল করার সক্ষমতা ইরান এখনো টিকিয়ে রেখেছে—একে সমরবিদরা দেখছেন এক প্রকার মনস্তাত্ত্বিক বিজয় হিসেবে, যা খোদ শত্রুশিবিরও মনে মনে স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। এমেরসন ব্রুকিংয়ের ভাষায় বলতে গেলে, ‘রণাঙ্গনের খবরাখবর বাদ দিয়ে কেউ যদি কেবল এই ভিডিওগুলো দেখে যুদ্ধের বিচার করতে বসে, তবে তার মনে হবে আমেরিকা আর ইসরাইল তাদের সমস্ত মারণাস্ত্র আর সামরিক শক্তি উজাড় করে দিয়েও দিনশেষে ব্যর্থ হয়েছে; আর ইরান আড়ালে বসে তাদের এই দশা দেখে অট্টহাসি হাসছে।’

মঙ্গলবার যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলো, তা-ও এই মিম-যোদ্ধাদের জয়রথ থামাতে পারেনি বিন্দুমাত্র। বরং এই চুক্তিকে ইরানের একচেটিয়া বিজয় হিসেবে জাহির করতে তারা এখন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। ইন্টারনেটের এই রসালো রণাঙ্গনে তেহরানের ছায়া-সংস্থা ‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ তাদের অনুসারীদের জন্য নতুন ফরমান জারি করেছে- ‘এই মিমটি ছড়িয়ে দাও।’ নির্দেশনার নিচেই সেঁটে দেয়া হয়েছে একটি মোক্ষম ভিডিও—যেখানে দেখা যাচ্ছে, একরাশ শ্বেত পতাকার সামনে পরাজিতের মতো মেঝেতে বসে হাউহাউ করে কাঁদছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর সেই অবস্থাতেই করুণ মুখে চিবোচ্ছেন একটি ‘টাকো’। এ যেন একালের ডিজিটাল ‘পঞ্চতন্ত্র’, যেখানে হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম অপমানের হুল।