চাপে ফেলার ভারতীয় কৌশল-পুশইন

প্রতিবেশীর চাওয়া বন্ধুত্বের সম্পর্ক

ভারতের পক্ষ থেকে বিএনপি সরকারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশকে এ সুযোগে ভারতের শত্রুতামূলক এসব অপতৎপরতা বন্ধে দিল্লিকে বলতে হবে। ভালো সম্পর্ক চাইলে দিল্লিকে সীমান্তে আইন মেনে চলতে হবে— এটি স্মরণ করিয়ে দিতে হবে।

তিন দিকে দীর্ঘ সীমানা থাকায় একে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের টুল হিসেবে ব্যবহার করছে। সীমান্তে কখনো ভূমি দখল, কখনো বাংলাদেশীদের হত্যা-নির্যাতন, আবার কখনো মাদকের বিস্তার ও নানা ধরনের চোরাচালানের অবাধ সুযোগ করে দিয়ে প্রতিনিয়ত ক্ষতি করার অপেচেষ্টা করা হচ্ছে। ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে দেশটিতে আশ্রয় নেয়ার পর পুশইন নতুন টুল হিসেবে যুক্ত হয়েছে। সম্পর্ক ওঠানামার সাথে এর স্পষ্ট সংযোগ লক্ষ করা গেছে। ড. ইউনূস সরকারের কার্যক্রম পছন্দ না হলে ব্যাপক হারে মানুষজনকে ধরে এনে ঠেলে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারত।

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘ দেড় যুগ পর বাংলাদেশ নতুন করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি চর্চার উদ্যোগ নেয়। শেখ হাসিনার সময় একচেটিয়া ভারতের প্রভাববলয়ে থেকে দিল্লির মর্জিমাফিক দেশ চালানো হয়েছে। পুশইনের চিত্র দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়, ভারত সরকার বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে এর মাধ্যমে চাপে ফেলতে চেয়েছে। শেখ হাসিনার শাসনের শেষ দুই বছরে ১৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে। অন্য দিকে ড. ইউনূস সরকারের সময়ে ২০২৫ সালে আড়াই হাজারজনকে পুশইন করা হয়। এ সরকারের স্বাধীন কার্যক্রম যত অপছন্দ করেছে, ভারত তত পুশইন বাড়িয়েছে। গত বছরের মে মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার ১৩৬ জনকে পুশইন করা হয়। একই বছরের জুনে ৫৫৩, জুলাইয়ে ৩২৭ এবং আগস্টে ১৩২ জনকে ঠেলে বাংলাদেশে পাঠায়। সীমান্তের ৩২টি স্থান দিয়ে পুশইন চালিয়েছে ভারত।

এ সরকার বিদায় নেয়ার পর পুশইন আবার কমে এসেছে। এ ক্ষেত্রে দেশটির অসৎ উদ্দেশ্য প্রমাণ হয়; যখন দেখা যায় শুধু বাংলাভাষী মুসলমানদের নিশানা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অন্য ভাষাভাষী মুসলমানদেরও পাঠানো হয়েছে। হিসাব মতে, হিন্দুদের অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশের কথা বেশি। ভারতীয় নাগরিকত্বের কাগজপত্র, আধার ও রেশন কার্ডসহ ভারতের বৈধ নাগরিক হওয়ার পরও তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে। সে ক্ষেত্রে তারা এদের এই বৈধ কাগজপত্র আগে কেড়ে নিয়েছে। নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর সময় ভারত সরকার কোনো ধরনের দেশীয়, আন্তর্জাতিক এমনকি দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের কোনো আইনগত বিষয়ের তোয়াক্কা করেনি। তারা মানেনি মানবাধিকারের কোনো ধারাও। এ ক্ষেত্রে রেহাই পায়নি অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও। এ কাজে তারা এতটা নিষ্ঠুর যে— স্বামী-স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়েছে। জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর সময় নিজ দেশের নাগরিকে বেদম মারধর ও নির্যাতন চালিয়ে বনে-জঙ্গলে ফেলে রেখে গেছে। তাদের চিকিৎসা, খাবার ও পানীয় দেয়ার মতো মানবিক দায়িত্ব সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে।

সীমান্ত হত্যার মতো পুশইনও ভারতের আরেকটি সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এখনো কোনো প্রতিকার পায়নি। ভারত গায়ের জোরে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে অবশ্যই সীমান্ত হত্যাসহ ভারতীয় সবধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিকার পেতে হবে। এ জন্য নতুন সরকারকে জোরদার পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারতের পক্ষ থেকে বিএনপি সরকারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশকে এ সুযোগে ভারতের শত্রুতামূলক এসব অপতৎপরতা বন্ধে দিল্লিকে বলতে হবে। ভালো সম্পর্ক চাইলে দিল্লিকে সীমান্তে আইন মেনে চলতে হবে— এটি স্মরণ করিয়ে দিতে হবে।