আওয়ামী লীগ নামের দলটির নেতারা সব সময়ই ভারতের পুতুল হিসেবে কাজ করেছে। ভারতের ইশারায় চলেছে। স্বাধীন বাংলাদেশকে ৫৪ বছর ধরে ভারতের করদরাজ্যের মতো অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। সার্বভৌমত্ব খর্ব করে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতিসহ প্রতিটি অঙ্গনকে ভারতের ওপর নির্ভরশীল করেছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে জনমনে এমন আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত সিকিমের ভাগ্য না বরণ করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের বিশেষ করে তরুণ সমাজের স্বাধীনতার চেতনা বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণকে রক্ষা করেছে পরাধীনতার শিকল পরার আশঙ্কা থেকে। বিপুল রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ হাসিনামুক্ত হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে যায়নি। পলাতক শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে একের পর এক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেই পুরনো ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে চলেছেন।
হাসিনার শাসনে ভোটাধিকারহারা মানুষ যখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে এগোনোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখন শেখ হাসিনা মরিয়া হয়ে উঠেছেন নির্বাচন ভণ্ডুল করতে। দেশকে আবারো আধিপত্যবাদের নিগড়ে আবদ্ধ করতে। গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সরকারকে অপসারণের আহ্বান জানান, তার দলের অনুগত এবং সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর নির্লজ্জ উসকানি দেন নির্বাচন ভণ্ডুলের। উসকানি দেন দেশে নাশকতা সৃষ্টির। এরই মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমাজবিরোধী কর্মীরা দেশে সাম্প্রদায়িক সঙ্ঘাত সৃষ্টির অপচেষ্টায় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা করিয়েছে। খুনখারাবি শুরু করেছে। পানি ঘোলা করে হাসিনা আবারো তার ফ্যাসিবাদী দলকে বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হাসিনাকে এসব কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দিচ্ছে সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। শিগগিরই হাসিনাকে সরাসরি মিডিয়ার সামনে আনা হবে— এমনও শোনা যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার কূটনৈতিকভাবে ভারতের বৈরী আচরণের প্রতিবাদ করেছে। গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত হাসিনাকে প্রকাশ্যে ঘৃণামূলক বক্তব্য দিতে দেয়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের নিয়মের পরিপন্থী বলে জানিয়ে দিয়েছে। বলা হয়েছে— দেশটির আচরণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণ ও সরকারের প্রতি সুস্পষ্ট অবমাননাকর। এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু ভারত বড় দেশ। গায়ের জোরে ক্ষুদ্র প্রতিবেশীকে অবনত রাখার চেষ্টা তার পুরনো নীতি। এ কাজে লেন্দুপ দর্জি বা হাসিনার মতো দেশবিরোধীরা সবসময়ই দিল্লির কাছে সমাদর পেয়েছে। তাদের দিয়ে প্রতিবেশী দেশকে গিলে ফেলা যায়। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশও ভারতের তাঁবেদারিতে অভ্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় একটিই। বাংলাদেশের পক্ষের রাজনীতি জোরদার করতে হবে, অর্থনীতিকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে, যাতে ভারতের ওপর নির্ভর করতে না হয়। বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান এই লক্ষ্যে বড় অগ্রগতি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে জনগণের দায়িত্ব আরো বেশি। ভোটাধিকার বুঝেশুনে প্রয়োগ করতে হবে। ভারতের তাঁবেদার কোনো দল যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেটি জনগণকেই নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের যথাযথ প্রয়োগ তাই জরুরি।



