বহুল কাঙ্ক্ষিত ডাকসু নির্বাচন আগামীকাল, গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হোক

জুলাই বিপ্লবের ছাত্র নেতৃত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছে। এখন ডাকসু থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার পুনঃযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। যেকেনো মূল্যে এ নির্বাচন সফল করতে হবে।

সবধরনের জল্পনা ও শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীরা গতকাল নির্বাচনী প্রচারকাজ শেষ করেছেন।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতিতে সন্ত্রাস ও শক্তি প্রয়োগের যে সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে, এবার তার ব্যতিক্রম পরিবেশ ক্যাম্পাসে লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে একটি শ্রেণী বিভাজনের বয়ান সামনে এনে পরিবেশ কলুষিত করার অপচেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ছাত্রসমাজ এতে সায় দেয়নি। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ও ফল মেনে নেয়ার মাধ্যমে ডাকসু বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি সূচনার আশা জাগিয়েছে।

ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি ছাত্র সংসদ নির্বাচন থেকেও শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করেছে। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন তাই দেশবাসীর বিপুল আগ্রহ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবাধীন ছাত্রসংগঠনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাকসুতে অংশ নিচ্ছেন। প্রত্যেকে নির্বাচনী ইশতেহার বা অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন। কিভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা যায়, ছাত্রবান্ধব ক্যাম্পাস নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে নতুন চিন্তা এসব ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে সবাই তাদের ইশতেহার নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে হাজির হয়েছেন। প্রার্র্থীরাও ছাত্রছাত্রীদের চাহিদাগুলো আন্তরিকভাবে জানতে চেয়েছেন। এতে করে সবার কাছে পরিষ্কার হয়েছে, কোন প্রার্থী সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে অধিকতর যোগ্য।

এর মধ্যে দুটো জরিপে ছাত্রছাত্রীরা কাদের ভোট দেবেন; তার একটি চিত্র পাওয়া গেছে। দেখা যাচ্ছে, সৎ-যোগ্য ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক প্রার্থীদের সমর্থনের পাল্লা ভারী। জরিপে আভাস মিলছে, এবার ডাকসু নির্বাচনে সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটার ভোট দেবেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন কর্তৃপক্ষও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। শেষ মুহূর্তে ভোটকেন্দ্র ও বুথ বাড়ানো হয়েছে। আগে আটটি কেন্দ্রে ৭১০টি বুথ করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ আরো ১০০টি বুথ বাড়িয়েছে। এখন প্রতি ১০০ জনের কম শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে বুথ। এতে সব ভোটার অংশ নিলেও যথাসময়ে নির্বিঘ্নে সবাই ভোট দিতে পারবেন। এ ছাড়া আগের দিন থেকে বহিরাগতের প্রবেশ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে ব্যবস্থা করা হয়েছে বাড়তি বাসের।

ভোটব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফেরাতে ওই ভোট-ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন স্তরে ভোটের আয়োজনের দাবি ওঠে। কিছু রাজনৈতিক দলের বিরোধিতায় তা সম্ভব হয়নি। জুলাই বিপ্লবের ছাত্র নেতৃত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছে। এখন ডাকসু থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার পুনঃযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। যেকেনো মূল্যে এ নির্বাচন সফল করতে হবে। এখানে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা গেলে এই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নির্বাচন আয়োজনেও আমরা সফল হবো, আশা করা যায়।