নির্বাচনে অর্থের অবৈধ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হোন

জুলাই বিপ্লবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের উচ্চ অঙ্গীকারের অন্তত কিছুটা হলেও এবারের নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি প্রার্থীরা অনেকটাই মেনে চলেছেন। তবে কালো টাকা, সন্ত্রাস ও পেশিশক্তির ব্যবহার এখনো শঙ্কার কারণ হয়ে আছে। একটা শ্রেণী রয়েছে, যারা নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে যেকোনো মূল্যে নির্বাচন প্রভাবিত করতে চান। নির্বাচনের দিন ও আগের দু’দিন নির্বাচন কমিশন ও ভোটাররা সচেতন না থাকলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের নির্ধারণ করে দেয়া অর্থের চেয়ে বেশি খরচ করেছেন, কিছু জায়গায় পেশিশক্তি ব্যবহারের খবর আসছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-টিআইবি জানিয়েছে, অন্তত ৩৪ শতাংশ প্রার্থী নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করেছেন। তারা গত ৪ ডিসেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গড়ে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকার মতো খরচ করেন নির্বাচনী প্রচারকাজে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেন। তবে ভোটারের সংখ্যা আড়াই লাখের বেশি হলে জনপ্রতি ১০ টাকা হারে ব্যয়ের সুযোগ আছে। এবার আড়াই লাখের কম ভোটার রয়েছে মাত্র তিনটি আসনে। বাকি ২৯৭টি আসনে ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩০ টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ আছে। দেখা গেল, ভোটের মূল লড়াই শুরুর আগে এক-তৃতীয়াংশের বেশি প্রার্থী অনেক বেশি অর্থ খরচ করে ফেলেছেন।

বাস্তবে প্রার্থীদের অর্থকড়ি খরচের হার আরো অনেক বেশি হতে পারে। এমনকি এ সীমা অতিক্রমকারী প্রার্থীর সংখ্যাও আরো বেশি হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য আরেক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কালো টাকার ব্যবহার। নির্বাচন ঘিরে সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি বিপুল অর্থও প্রবেশ করার খবর আগে থেকেই ছিল। এমনকি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে নকল নোট ছাড়ার একটি ষড়যন্ত্রের কথাও জানা যায়। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়। তারপরও সারা দেশে কালো টাকার ব্যবহার দেখা গেছে। নির্বাচন উপলক্ষে বৈধ চ্যানেলে বিদেশ থেকে অনেক বেশি টাকা এসেছে। এর সাথে অবৈধ পথেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কালো টাকা ঢুকেছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থের লেনদেনে কিছু নিয়ম বেঁধে দেয়ার পরও প্রত্যন্ত এলাকায় কালো টাকা ছড়িয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন জাতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। সরকার ও বিভিন্ন পর্যায় থেকে তাই কালো টাকা ও পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক, এনবিআর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থা কালো টাকার প্রভাব ঠেকাতে কাজ করছে। এখন প্রশাসনের সব পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও ভোটারদের এ ব্যাপারে সচেতন থাকবে হবে। মনে রাখতে হবে, কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধ করা না গেলে এই নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।