বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সংখ্যাগুরুর সাথে সংখ্যালঘুর সম্পর্ক সবসময়ই ভালো। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বা পীড়নের কোনো আভাস পাওয়া গেলে সংখ্যাগুরু মুসলমানরা তাদের নিরাপত্তায় শক্ত অবস্থান নেন। এটিই এখানকার সামাজিক বাস্তবতা। কিন্তু বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে পতিত আওয়ামী লীগ বরাবরই অপরাজনীতি চালিয়ে গেছে। তাদের সেই অপরাজনীতির অবসান এখনো ঘটেনি; বরং নতুন করে শুরু হয়েছে।
গতকাল রোববার নয়া দিগন্তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পতিত আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর ভোরে চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। বাড়িটি কাতার প্রবাসী সুখশীল নামের এক ব্যক্তির। এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর ভোররাতে একইভাবে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশ নামে দুই ব্যক্তির বসতঘরে আগুন দেয়া হয়। এর আগে ১৯ ডিসেম্বর ভোররাতে কেউটিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাধন বড়ুয়া ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা পাল ও কামিনী মোহন পালের বসতঘরে আগুন লাগানো হয়। ঘটনার পর সেখান থেকে কেরোসিন মেশানো কাপড়, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের ঊর্ধ্বতনদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা কাগজ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তদন্তে জানা যায়, এসব ঘটনার নেপথ্যে ছিল আওয়ামী লীগ। দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচাল করাই এসব ঘটনার উদ্দেশ্য। এ ছাড়াও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টার আরো কিছু দৃষ্টান্ত সম্প্রতি সামনে আসে। এসবের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের মদদপুষ্ট কিছু মিডিয়ার হাত আছে।
জুলাই বিপ্লবের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হচ্ছে- আওয়ামী লীগ ও ভারতের পক্ষ থেকে এমন প্রচারণা ছিল প্রবল। ভারতের এবং ভারতের বাইরের কিছু গণমাধ্যম সংখ্যালঘু পীড়ন নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। প্রকৃতপক্ষে এসব অপপ্রচারের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা। একই সাথে অন্তর্বর্তী সরকারে ওপর চাপ সৃষ্টি করা। কিন্তু সম্প্রতি সরকারের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেসব ঘটনার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর অধিকাংশের সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই।
নির্বাচন ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যারা হামলা করেছে এবং যারা অর্থ দিয়ে হামলা বাস্তবায়ন করেছে তাদের সবার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত এসব হামলার ঘটনা হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু ঘটনার সাথে জড়িতদের এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। সারা দেশে যৌথবাহিনীর অভিযান চলমান আছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে এটাই প্রত্যাশিত।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঝুঁকি বিবেচনায় তাদের নিরাপত্তা জোরদার করা দরকার। এ বিষয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব আছে। রাজনৈতিক দলের কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখতে পারেন।



