দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিশুস্বাস্থ্য। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম শনাক্তের পর মোট ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ১৯০ শিশু। এমন পরিস্থিতিতে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে স্ক্যাবিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত এক মাসে এক লাখ পাঁচ হাজার শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এসব শিশুর বয়স এক থেকে ১০ বছরের মধ্যে।
নয়া দিগন্তের কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও চর্ম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সঠিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। রোগের বিস্তার রোধে দ্রুত শিশু ও চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পদায়নের দাবি জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে গত মঙ্গলবার সকালে আউটডোরের জরুরি বিভাগে শত শত বাবা-মা আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালটির ৫০ শয্যায় ১১৮ রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু স্ক্যাবিসে আক্রান্ত।
স্ক্যাবিস রোগটি একপ্রকার অণুজীব দ্বারা সংঘটিত হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো শরীরে চুলকানি ও দানা বা বিচির মতো র্যাশ ওঠা। এটি স্পর্শের মাধ্যমেও ছড়ায়। রোগীর ব্যবহৃত কাপড় চোপড়, বিছানার চাদর ও বালিশ ব্যবহার করলে এই রোগ হতে পারে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়ার দ্রুত বিস্তার এই জনপদের জনস্বাস্থ্যে এক গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি এবং সচেতনতার অভাব এই রোগের বিস্তার ত্বরান্বিত করছে।
কিশোরগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে, একটি পরিবারের একজন সদস্য আক্রান্ত হলে দ্রুত অন্যদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রাথমিক লক্ষণকে গুরুত্ব না দিয়ে দেরিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন, ফলে সংক্রমণ আরো বিস্তৃত হচ্ছে। বিদ্যালয় ও মাদরাসা-পড়ুয়া শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বিশেষভাবে লক্ষণীয়, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সক্রিয় হয়ে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। সাথে সাথে স্ক্যাবিসের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে উপযুক্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার। একই সাথে পরিবারের সব সদস্যকে একযোগে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে, যাতে পুনঃসংক্রমণ রোধ করা যায়। সেই সাথে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দিকেও নজর দিতে হবে। যেমন- নিয়মিত সাবান দিয়ে গোসল করা; পরিষ্কার কাপড় পরিধান করা; ব্যবহৃত পোশাক ও বিছানাপত্র গরম পানিতে ধোয়া। এসব যত্নের সাথে পালন করলে এই রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দেয়া জরুরি।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে স্ক্যাবিসমুক্ত করতে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।



