ফায়ার সার্ভিস যেকোনো এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনগুলো স্থাপন করা হয় যোগাযোগব্যবস্থার দিকে লক্ষ রেখে, যাতে বাধাবিঘ্ন ছাড়াই এই জরুরি সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় স্থাপিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু করা যাচ্ছে না উন্নত সড়কের অভাবে।
একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালিয়াজুরী উপজেলা বছরে ছয় মাসের বেশি সময় পানিতে ডুবে থাকে, আর বাকি সময় বিস্তীর্ণ চারণভূমির রূপ নেয়। হাওরবাসীর অনাকাক্সিক্ষত দুর্যোগ থেকে রক্ষায় ২০২০ সালের এপ্রিলে তিন কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ হয়। ২০২৩ সালে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ হলেও ভারী গাড়ি যাতায়াতের পথ না থাকায় দুই বছরের বেশি সময় পরও স্টেশনটি বুঝে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে পাকা সড়ক পর্যন্ত মাটি ফেলে সড়ক নির্মাণ হয়। চলতি বর্ষার পানির স্রোতে তা ভেঙে যায়। সড়কের অভাবে ভবন বুঝে নেয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদ্য সাবেক উপসহকারী পরিচালক বলেন, ‘খালিয়াজুরী ফায়ার স্টেশনের কাজ দুই বছর আগে শেষ হয়। স্টেশন থেকে মেইন রোড পর্যন্ত লিংক রোড ছিল না। ভবনটি বুঝে নিতে আমাদের দেরি হচ্ছে। কারণ গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তা প্রয়োজন। তবে এই স্টেশনের লোকবল ও যন্ত্রাংশ অনেক স্টেশনে রাখা আছে। রাস্তা তৈরি ও পাকা করার ব্যাপারে প্রশাসক আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাস্তাটি দ্রুত করে দেবেন। স্টেশনটি মূলত স্থল ও জল দুই মাধ্যমেই কাজ করবে। বর্ষায় আমরা স্পিডবোট কিংবা ছোট জাহাজের মাধ্যমে কাজ করতে পারব। শুকনো মৌসুমে গাড়ি ও পাম্পের মাধ্যমেও কাজ করতে পারব।’
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘খালিয়াজুরী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি স্থল ও জলে কাজের উপযোগী করে তৈরি। নীতিনির্ধারকদের নির্দেশনা মেনেই আমরা এটি করেছি। তবে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে মেইন রোড পর্যন্ত যে লিংক রোড, তা যদি ডিপিপিতে থাকত, তাহলে আমরা শুরুতেই পারতাম। ডিপিপিতে রাস্তা না থাকায় আমরা সেটি করতে পারিনি। দীর্ঘ দিন ধরে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ভবনটি বুঝে নিচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পেলে এটিকে আরসিসি সড়ক বানানো হবে।’
সরকারি স্থাপনাগুলো নির্মাণের আগে এলাকার অবস্থা বিবেচনায় নেয়া উচিত। আমরা প্রায়ই লক্ষ করি, সংযোগ সড়ক নেই; কিন্তু সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এমন আরো উদাহরণ রয়েছে। সড়কের অভাবে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বন্ধ হয়ে থাকার মানে হলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এসব বিষয়ে উদাসীন। অথচ কোনো অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা হলে তার মাশুল গুনতে হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সরকারি কাজের ক্ষেত্রে দায়িত্বহীনতার অবসান হতে হবে। আমরা আশা করি, স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন উন্নত সড়ক নির্মাণ করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করবে।



