জামায়াতের ইফতার মাহফিলে তারেক রহমান, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক ধারা শুরু

বাংলাদেশে দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অপসংসস্কৃতির পরিবর্তে সুস্থধারার সুন্দর ও অনুকরণীয় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যার সর্বশেষ নজির জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে এমন সুন্দর দৃশ্যই দেখতে চেয়েছিল মানুষ। আমরা এমন রাজনীতির প্রশংসা করি।

শনিবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

ইফতার মাহফিলে তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে, অনেক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, অনেক আশা নিয়ে আমাদের সবার দিকে তাকিয়ে আছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আজ আমাদের এই ইফতার মাহফিলে আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের আগামী দিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার তৌফিক দেবেন।

পতিত স্বৈরাচার হাসিনার দুঃশাসনের সময়গুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের নির্যাতিত ও নিপীড়িত দলগুলোকে সাথে নিয়ে চলেছেন। খালেদা জিয়া সে সময় বড় রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের ইফতার মাহফিলেও গেছেন। তাদের নিয়ে একসাথে ওঠা-বসা করেছেন। এসব সুন্দর রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে খালেদা জিয়া মানুষের মন জয় করেছিলেন। আর তার প্রতিদানও মানুষ তাকে দিতে কার্পণ্য করেনি। খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি তার বড় প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও রাজনীতিতে যে সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন নিশ্চিয়ই মানুষ তাকেও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণে রাখবে।

হাসিনার দুঃশাসনের সময় বিরোধী দল ও মতের ব্যক্তিরা মানুষ হিসেবে গণ্য হতো না। তাদেরকে রীতিমতো দেশের শত্রু হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল। আর তাই তাদের ইফতারের মতো একটি ইবাদতমূলক অনুষ্ঠানও করার অধিকার ছিল না। মানুষ সেই দুঃসময়ের দিনগুলোতে মুখ চেপে সহ্য করে অবশেষে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে তার সমুচিত জবাব দিয়েছে।

জামায়াতের ইফতার মাহফিলে তারেক রহমানের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে অতীতের রেষারেষির রাজনীতির অবসান হওয়ার বার্তা দেয়। নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে সরকারি দলের মতো বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষেরও ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আছে এবং তারা সেটি চাইলেই প্রয়োগ করতে পারে। সরকারি দল বিরোধী দলের মুখ না দেখার অপসংস্কৃতি হাসিনা চাপিয়ে দিয়েছিল।

আল কুরআনে বলা হয়েছে— ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে-অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করো’। (সূরা মায়িদা, আয়াত-২) এই আয়াত ব্যক্তি, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র— সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

নির্বাচিত হওয়ার আগেই জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা দিয়েছিল তারা নির্বাচিত হলে সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবে না। এরপর একই ঘোষণা দেয় নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারি দল বিএনপিও। রাজনীতিতে এমন প্রতিযোগিতা মানুষ আরো দেখতে চায়।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে সরকাপ্রধান তারেক রহমান গিয়ে রাজনীতিতে যে নজির স্থাপন করলেন তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।