বিদ্যুৎ চাহিদাকে লুটপাটের হাতিয়ার বানিয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। একটি চক্রের হাতে বিদ্যুৎ খাত তুলে দেয়া হয়েছিল। তারা কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আইনগতভাবে তাদের দায়মুক্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। গ্রাহকরা এক দিকে লোডশেডিং, অন্য দিকে উচ্চ বিদ্যুৎ বিল দিয়ে ক্রমাগত শোষিত হয়েছেন। নতুন সরকার বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করার চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতির আগেই বাড়তি বিলের ওপর আরো বিলের বোঝা তাদের ওপর চাপতে শুরু করেছে। গত কয়েক মাসে গ্রাহকরা ভুতুড়ে বিলের শিকারও হয়েছেন। বিদ্যুৎ খাতে উন্নত সেবার পাশাপাশি বিল নিয়ে অনিয়ম দূর হওয়ার আশা হতাশায় রূপ নিয়েছে।
সারা দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্য থেকে মাত্রাতিরিক্ত বিলের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পোস্ট ও প্রিপেইডÑ উভয় মিটার ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে এই ধরনের বহু অভিযোগ আসছে। অর্থবছরের শেষে জুনে এটি শুরু হয়েছে, এখনো যা অব্যাহত আছে। দেড় থেকে দ্বিগুণ এমনকি কয়েকগুণ বেশি বিলও গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে। সরকার ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে এক টাকা ৫২ পয়সা, যা আগে ছিল ৯ টাকা ১১ পয়সা, এখন সেটি বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। শতকরা হিসাবে গড়ে বিদ্যুতের মূল্য ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। সহযোগী একটি দৈনিকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাড়তি বিলের যে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তা এ বর্ধিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।
যারা মাসে আড়াই হাজার বিল দিতেন, তাদের বিল আসছে চার হাজার টাকা। যারা এক হাজার ৮০০ টাকা দিতেন, তাদের আসছে সাড়ে চার হাজার টাকা। এভাবে বিভিন্ন হারে বর্ধিত বিল আসতে দেখা গেছে গ্রাহকদের। বিদ্যুতের দাম স্লাবভিত্তিক নির্ধারণের বিষয়টি সামনে এসেছে। বেশি ব্যবহার করলে দামও বেশি হারে নেয়া হবে। বছর শেষে মোট ব্যবহারের বিপরীতে বিদ্যুতের দাম অ্যাডজাস্ট করা হচ্ছে। এ জন্য বিল বেশি আসার যুক্তি দেখানো হচ্ছে। বহু গ্রাহকের ভুতুড়ে বিল এসেছে, তাহলে সেগুলোর হেতু কী? মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য বাড়তি বিদ্যুৎ বিল বোঝার ওপর শাকের আঁটি। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এ ভার অসহনীয়। এর ওপর আছে, প্রিপেইড মিটারে প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কাটা হয়। প্রতি মাসে কেন এ ধরনের একটি বিল গ্রাহককে দিতে হবে। এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ থাকলেও এটি এখনো বন্ধ করা হয়নি।
বিদ্যুৎ এখন অপরিহার্য চাহিদা। সরকার মানুষের এই চাহিদাকে এক ধরনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। বিদ্যুতের দাম নির্ধারণে সরকারের চলতি নীতি তাই প্রমাণ করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য বিদ্যুতকে রাজস্ব আদায়ের একটি খাত হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমনটি হওয়ার কথা নয়। বর্তমান সরকার জনগণের ওপর থেকে কষ্টকর বোঝা নামিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করছে। বিদ্যুৎ খাতে যেন সরকার ঘোষিত নীতির বিপরীতে হাঁটছে। এ ধরনের বাণিজ্যিক মানসিকতা থেকে সরকারের সরে আসা উচিত।



