জ্বালানি তেল নিয়ে জনভোগান্তি, সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি

দেশে জ্বালানি তেলের আদৌ কোনো সঙ্কট নেই। তারপরও গত কয়েক দিন ধরে জ্বালানি নিয়ে বড় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জ্বালানি সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। সারা দেশে পেট্রলপাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হচ্ছে। পেট্রল ও অকটেনের সঙ্কটে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন চালকরা। দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটির সময় ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ ছিল। সে কারণে সঙ্কট তীব্র হয়ে ওঠে; কিন্তু এটি দ্রুতই কেটে যাবে। কারণ রোববার থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য সঙ্কটের আশঙ্কায় সরকার জ্বালানি তেলের বিষয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এর দরকার ছিল; কিন্তু এ কারণে অনেকের মধ্যে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা যেকোনোভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে পাম্পগুলোতে বাড়তি চাপ পড়ছে। আবার রেশনিংয়ের কারণে তেলের ডিপো থেকে পাম্পগুলোতে সরবরাহ কিছুটা কমেছে। ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশায় কিছু পাম্পের মালিক তেল মজুদ করতে শুরু করেছেন, এমন অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে অনেক পাম্পে বেশি দামে তেল বিক্রির। মজুদদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির অপচেষ্টা ঠেকাতে এবং বাড়তি দাম নেয়ার বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। পাম্পে নজরদারির ব্যবস্থা করেছে। পুলিশি টহল জোরদার এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে তেলের মজুদও দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অতিরিক্ত তেল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; কিন্তু মানুষের ভোগান্তি এতে কমছে না। এমন অবস্থায় জ্বালানি নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পরিবহন খাত। তেল না পাওয়ায় পণ্যবাহী যান চলাচল খানিকটা বিঘ্নিত হচ্ছে। পণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে সরকারেরও সতর্ক হওয়া জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কবে শেষ হবে, কেউ জানে না। জ্বালানির অন্যতম সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ কমছে। আর সেই সাথে বাড়ছে জ্বালানির দাম। গত চার বছরের মধ্যে প্রথম তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর প্রভাব আমাদের এখানেও পড়বে। তবে জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। নিজেদের সতর্কতা জরুরি। সরকার যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে, সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে সবাই আপাতত চলার মতো তেল পাবেন। এ জন্য মাথা গরম করা উচিত নয়। এরই মধ্যে এক ব্যক্তির প্রাণহানির মতো দুঃজনক ঘটনাও ঘটেছে, যা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত ছিল না। আপৎকালে মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরিস্থিতির মোকাবেলা করাই দায়িত্ববান মানুষের কাজ। এ বিষয়ে সবার সচেতনতা দরকার। কারণ মজুদ যদি বাড়েও— তবু আমাদের উচিত হবে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা। কোনো যানবাহন যেন তেলের অভাবে অচল হয়ে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করার জন্যই রেশনিং দরকার।