রংপুর শহরে সড়কের বেহাল দশা, উন্নয়নে বৈষম্য কাম্য নয়

উন্নয়নে বৈষম্য পরিহার করাই শ্রেয়। সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মতোই রংপুরকেও সমান গুরুত্ব দেবে এটাই কাম্য।

যেকোনো শহরকে পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের লক্ষ্য থাকে নাগরিক সেবা বাড়ানো। নাগরিক সেবার মধ্যে অন্যতম হলো শহরের যোগাযোগব্যবস্থা। রংপুর সিটি করপোরেশন এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। শহরটি পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয় এক যুগ আগে; কিন্তু শহরের অর্ধেকের বেশি রাস্তা এখনো কাঁচা, খানাখন্দে ভরা।

একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত বিভাগীয় শহর রংপুরের আয়তন ২০৫ বর্গকিলোমিটার। সিটি এলাকায় সড়কপথ আছে মোট এক হাজার ৪২৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৯৬৫ কিলোমিটারই কাঁচা। পাকা ও এইচবিবি সড়ক ৪৬৩ কিলোমিটার। শহরের জাহাজ কোম্পানি থেকে সাতমাথা সড়ক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কটি দেড় বছর ধরে খানাখন্দে ভরা। এ ছাড়াও সিটি করপোরেশনের কেল্লাবন্দ থেকে বানিয়াপাড়া, বসুনিয়াপাড়া, উত্তম পূর্বপাড়া হয়ে কদমতলা, সুকান চকি, মনোহর, হরিরাম পিরোজ, অভিরাম, গোয়ালু এলাকার রাস্তাগুলোর অবস্থাও একই রকম।

অর্ধেকের বেশি সড়কের এমন বেহাল দশাই প্রমাণ করে, উন্নয়নের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বৈষম্যমূলক। বিগত আওয়ামী সরকার উন্নয়নের ঢেঁড়া পেটালেও তা রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল বলে মনে হয় না। কারণ অর্থ বরাদ্দে বৈষম্য করা হয়েছে। রংপুরের চেয়ে আয়তনে ছোট রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জন্য বিগত সরকার রংপুরের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়। রাজশাহীকে পাঁচ বছরে বরাদ্দ দেয়া হয় ছয় হাজার কোটি টাকা, অথচ রংপুর পায় মাত্র ২১০ কোটি টাকা।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রংপুরের রাস্তা উন্নয়ন ও ড্রেন কাম ফুটপাথ নির্মাণ এবং ২০১৮-১৯ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তবে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) রংপুর সিটি করপোরেশনের কোনো বরাদ্দ ছিল না। অর্থ বরাদ্দ না থাকলে উন্নয়ন হওয়া সম্ভব নয়। বিগত সরকার রংপুরের সড়ক উন্নয়নে যথেষ্ট বরাদ্দ দেয়নি; কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও কেন শহরটিকে বঞ্চিত করল এমন প্রশ্ন উঠছে।

রংপুর অঞ্চল প্রায় সবদিক থেকে পিছিয়ে থাকা জনপদ। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা এখনো গড়ে ওঠেনি। উত্তরাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর রংপুর। এই শহর ঘিরে মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসাবাণিজ্য ও সামাজিক জীবনসহ সবকিছু আবর্তিত হয়। এমন একটি শহরে উন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা না থাকা অনাকক্সিক্ষত এবং দুঃখজনক। এতে জনগণের দুর্ভোগের পাশাপাশি অনেক কাজই মন্থর হয়ে পড়ে।

এখন রাজনৈতিক সরকার নেই। বরাদ্দ দিয়ে সঠিকভাবে কাজ আদায়ের একটি সুযোগ আছে। রংপুরের সড়ক উন্নয়নে বরাদ্দ না দেয়ায় সেই সুযোগ নষ্ট হলো। মানুষের ভোগান্তি জিইয়ে রেখে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ বরাদ্দের জন্য বসে থাকার কোনো কাজের কথা নয়। রংপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের উন্নয়নে অবিলম্বে উদ্যোগ নেয়া দরকার। বৈষম্য মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। ক্ষোভ থেকে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই উন্নয়নে বৈষম্য পরিহার করাই শ্রেয়। সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মতোই রংপুরকেও সমান গুরুত্ব দেবে এটাই কাম্য।