এলপিজি পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নজরদারি নেই

জ্বালানি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা এ দেশের শাসকরা করেননি। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে দেশবাসীকে। শিল্প বিকাশ মোটাদাগে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতও ভুগেছে একই কারণে। এখন এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গৃহস্থালির কাজেও। বিশেষ করে ঘরের রান্নার কাজে গ্যাস মিলছে না। দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভর। বরাবরের মতো এবার শীতে গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মানুষ যখন গ্যাসের সঙ্কটে রান্না নিয়ে দিশেহারা, তখন জানা যাচ্ছে— এলপিজি গ্যাস পাচার হয়ে যাচ্ছে প্রতিবেশী মিয়ানমারে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যে একেবারে ভঙ্গুর, এটি তার ইঙ্গিতবাহী।

সবমিলিয়ে দেশে এলপিজির চাহিদা ১৫ লাখ টনের মতো। এর ৯৮ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ২০২৫ সালে আগের বছরের চেয়ে কম গ্যাস আমদানি হয়। শীত মৌসুম শুরু হতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডার গ্যাসের হাহাকার। নির্ধারিত দামের ৫০ শতাংশ বেশি দিয়েও গ্যাস কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। এ সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে অবাধে দেশ থেকে গ্যাসসিলিন্ডার পাচার হয়ে যাচ্ছে।

নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদন মতে, সীমান্তের সড়কপথ ও নৌপথে— উভয় পথ পাচারকারীরা ব্যবহার করছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ চোরাচালান সম্পন্ন হচ্ছে। এ সময় রাস্তায় ট্রাকে, ভ্যানে কিংবা জেলের নৌকায় তা পৌঁছে যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশে। মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় এখন খাদ্য-পানীয় ও জ্বালানির তীব্র সঙ্কট। জান্তা সরকার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এসব সেবা বন্ধ কিংবা সীমিত করে দিয়েছে। তারা বাংলাদেশ থেকে কিছু বেশি দাম দিয়ে গ্যাস কিনছে।

দেশীয় বাজারের চেয়ে ৩০০-৫০০ টাকা বেশি দাম তারা দিচ্ছে ১২ কেজির সিলিন্ডারে। এ কারণে দেশীয় গ্রাহকদের সরবরাহ বাদ দিয়ে একটি শ্রেণী এলপিজি সিলিন্ডার চালান করে দিচ্ছে মিয়ানমারে। সড়ক ও নৌপথে নজরদারি থাকার পরও কিভাবে চোরাচালানি হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই। অথচ এসব অঞ্চলে প্রশাসন সবচেয়ে বেশি সজাগ থাকার কথা। এলপিজি আমদানিকারক ও এর ডিলারদের তালিকা সরকারের কাছে আছে। সেখানে প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাব রয়েছে। স্থানীয় গ্রাহকদের না দিয়ে পাচার করতে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত বিগত প্রায় সব সরকার জ্বালানি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। বলা যায়, সবাই এক প্রকার নিজেদের আখের ঘুছিয়েছে। হাসিনার সময়ে জ্বালানি খাত ছিল সবচেয়ে বড় লুটপাটের উৎস। তার মাশুল গুনতে হচ্ছে দেশবাসীকে। প্রতি শীত মৌসুমে গ্যাসের প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাওয়া যায় না। এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বেশি সতর্কতা অবলম্বনের দরকার ছিল। বাস্তবে তা হয়নি।

এখন প্রয়োজন এলপিজি পাচারের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা। এর পেছনে নিশ্চয় একটি অসাধু সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে দেশব্যাপী। মিয়ানমার সীমান্তে যেমন ক্ষতিকর মাদকের পাচার হয়েছে। গ্যাস পাচারের সাথেও তাদের সম্পৃক্ততা থাকা স্বাভাবিক। এদের চিহ্নিত করে অচিরে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।