দেশে অ্যাক্সেসরিজ শিল্পের সম্ভাবনা বাড়ছে। গার্মেন্ট শিল্পের প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ এখন প্রায় পুরোটাই দেশে তৈরি হচ্ছে। রফতানিও বাড়ছে দ্রুত। গত তিন বছরে এই খাতে রফতানি দ্বিগুণ হয়েছে। বলা হচ্ছে, বিদ্যমান নীতিগত বাধা দূর করা গেলে আগামী তিন বছরের মধ্যে এই রফতানি ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। অ্যাক্সেসরিজ খাতের অন্যতম অংশ প্যাকেজিং শিল্প। প্যাকেজিংয়ের বিকাশ চোখে পড়ার মতো। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে ২০২২-২৩ সালে এ খাতে রফতানি আয় ছিল ২৩ কোটি ডলারের কম। সেটি ২০২৪-২৫ সালে দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলারে।
অন্য অনেক খাতের মতোই গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্যের বিশ্ববাজারের আয়তন কত সে তথ্য নেই দেশের কোনো সংস্থা-সংগঠনের কাছে। তবে ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, এই বাজারের আকার ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা এখনো প্রায় নগণ্য, সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলারেরও কম। অর্থাৎ- বিশাল বাজার অধরা থেকে গেছে। এই বিশাল সম্ভাবনা সামনে রেখে পেপার প্যাকেজিংকে ‘বছরের সেরা পণ্য’ বা ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে এর সুফল দ্রুতই পাওয়া যাবে। এ জন্য প্রণোদনা চান উদ্যোক্তারা। সরাসরি রফতানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতে এ ধরনের প্রণোদনা দেয়া হয়। প্যাকেজিংয়ের জন্যও দেয়া যেতে পারে। একই সাথে জাতীয় বাজেটে এ সম্পর্কিত বিশেষ নীতি-কৌশল নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। প্যাকেজিং ইনস্টিটিউট, স্বল্প সুদে ঋণ, বায়ার, উৎপাদনকারী ও ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করা গেলে এই সেক্টর লাভজনক হবে, সন্দেহ নেই। পণ্যের মান বাড়ানো, ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ নীতি-কৌশল নেয়া উচিত।
এই মুহূর্তে দেশে অ্যাক্সেসরিজ শিল্পে প্রায় দুই হাজার কারখানা আছে। বিনিয়োগ হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো। এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে সাত লাখের বেশি মানুষের। বিশ্ববাজারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করতে পারলে খাতটি গার্মেন্ট শিল্পের মতোই একটি বৃহৎ শিল্পে পরিণত হতে পারে।
বিশ্বের যেকোনো দেশের যেকোনো পণ্য বাজারে আনতে হলে অ্যাক্সেসরিজের প্রয়োজন হয়। প্যাকেজিংও অপরিহার্য। তাই এ খাতে সম্ভাবনার কোনো শেষ নেই। গত কয়েক বছর ধরে চীন থেকে কারখানা সরিয়ে নিচ্ছে অনেকে। আবার চীন এসব খুচরা পণ্য উৎপাদন ছেড়ে উচ্চ প্রযুক্তির পণ্য উৎপাদনে মনোনিবেশ করছে। ফলে তৈরী পোশাকের মতো বাংলাদেশের জন্য অ্যাক্সেসরিজ পণ্য রফতানির ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগানোও সহজ হবে। কারণ অ্যাক্সেসরিজ খাতের বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসছেন। বিজিএপিএমইএর তথ্যমতে, গত তিন বছরে প্রায় ৩০০টি নতুন অ্যাক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে এসেছে। আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স বজায় রাখতে এই খাতের ডিজিটাল রূপান্তর ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী তিন বছরে পোশাক, ওষুধ, কৃষি, পাদুকা এবং অন্য অসংখ্য খাতের জন্য সরাসরি ৫০০ কোটি ডলারের অ্যাক্সেসরিজ রফতানি করা সম্ভব।
উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার ব্যবস্থাসহ সরকার এই খাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে, এটিই কাম্য।



