লাকসামে গরিবের চাল পাচ্ছে ধনীরা

কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা প্রয়োজন

ভিডব্লিউবির মতো নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর উপকারভোগীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে পুরনো তালিকার এমন অনিয়মগুলো বাদ দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে যারা দুস্থ তাদেরকে নতুন তালিকায় স্থান দিতে হবে। তালিকা করার ক্ষেত্রে যাতে রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের অবৈধ ভূমিকা না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো চালু করা হয়েছে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সাহায্যের জন্য। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় যখন অনিয়ম হয় তখন কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এতে করে সরকার সম্পর্কে দরিদ্র মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদফতর পরিচালিত একটি বৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নাম ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট-ভিডব্লিউবি। এর আওতায় দুস্থ মহিলাদের চাল দেয়া হয়। কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় দুস্থদের জন্য দেয়া এই চাল পাচ্ছেন ধনীরা। একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, লাকসামের ভিডব্লিউবি সুবিধাভোগীদের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও অসঙ্গতি হয়েছে। দুস্থদের পরিবর্তে সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষিকা, ব্যবসায়ী, প্রবাসীর স্ত্রী, গাড়ি ও পাকা বাড়িওয়ালা যাদের রয়েছে এক বিঘা থেকে চার-পাঁচ বিঘা পর্যন্ত জমি এমন সম্পদশালীদের স্ত্রীদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব পরিবারের নারীরা পাচ্ছেন ভিডব্লিউবির চাল। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে যার নামে কার্ড, তিনি নিজেই জানেন না। ভুয়া নামে কার্ড বানিয়ে চাল নয়ছয় করা হচ্ছে। তালিকায় নাম তোলার জন্য অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। তালিকাভুক্তির ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো উপজেলার অর্ধশতাধিক অসহায় নারী এ চাল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো চালু হওয়ার পর থেকে এতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি হয়ে আসছে। পতিত শেখ হাসিনার শাসনামলে তা ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল। সেই আমলে দুস্থদের জন্য তৈরি বাড়িঘর পেয়েছে তার দলের নেতাকর্মীরা। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা স্বজনপ্রীতি যে এখনো বন্ধ হয়নি তারই উদাহরণ দেখা গেল লাকসামে।

ভিডব্লিউবির মতো কর্মসূচিগুলোতে প্রভাবশালীরা নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে এসব কর্মসূচিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন। আর এর মধ্য দিয়ে গরিবরা তাদের প্রকৃত হক থেকে বঞ্চিত হন।

লাকসামে ভিডব্লিউবি কর্মসূচিতে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মানসী পাল বলেছেন, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে অনলাইনে আবেদনকৃতদের স্থানীয়ভাবে আর্থিক অবস্থা যাচাই এবং প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে মনোনীত করে উপজেলা কমিটিতে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। পরে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠকর্মী না থাকায় শতভাগ সরেজমিন পরিদর্শন করা সম্ভব হয় না, তাই ইউনিয়ন কমিটির ওপর নির্ভর করতে হয়।

প্রশ্ন হলো এই কর্মসূচির চাল তো শুধু একবার দেয়া হয় না। তাহলে কর্মসূচি চালুর পর থেকে চলে আসা অনিয়ম দেখার দায়িত্ব কি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নয়? তারা এই অনিয়ম রোধে কেন ব্যবস্থা নেয়নি?

ভিডব্লিউবির মতো নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর উপকারভোগীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে পুরনো তালিকার এমন অনিয়মগুলো বাদ দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে যারা দুস্থ তাদেরকে নতুন তালিকায় স্থান দিতে হবে। তালিকা করার ক্ষেত্রে যাতে রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের অবৈধ ভূমিকা না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।