গত দেড় দশকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। অপশাসন দীর্ঘায়িত করতে শেখ হাসিনাসহ তার দোসররা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নিপীড়ন, গুম-খুনের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করে। বিশেষ করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রীয়সহ দলীয় পেটোয়া বাহিনী দেড় হাজার মানুষকে হত্যা এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষকে আহত করেছে। অনেকে চিরতরে অন্ধ এবং পঙ্গু হয়ে গেছেন।
আওয়ামী দুঃশাসনের অবসানের পর অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনা ও তার দোসরদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি)। সেই ধারাবাহিকতায় আইসিটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার কথা ১৩ নভেম্বর। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি (পুলিশের মহাপরিদর্শক) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (রাজসাক্ষী)। জুলাই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় এটি প্রথম মামলা, যেটির রায় ঘোষণার তারিখ জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে।
এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আওয়ামী লীগ ১৩ নভেম্বর ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পুলিশও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে তাদের কর্মসূচি প্রতিহতে ঢাকায় অভিযান ও তল্লাশি চালাচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি চোরাগোপ্তা হামলা হয়েছে। ঢাকায় কয়েকটি বাসে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর বাইরেও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
রায়ের তারিখ ঘোষণা নিয়ে আওয়ামী অপশক্তি সারা দেশে নাশকতার ফন্দি আঁটছে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঠেকাতে এবং যেকোনো নাশকতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন। মিছিল বা সমাবেশ কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় আসতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারকে সতর্ক করা হয়েছে। তল্লাশিচৌকি, টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঠেকাতে ১৩ নভেম্বর ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনাগুলোতে ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য সক্রিয় থাকবেন। এ ছাড়াও থাকবেন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য।
স্মরণযোগ্য যে, জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ দাঙ্গা-হাঙ্গামায় ওস্তাদ। স্বাধীনতাপূর্বকালে যেমন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশেও তেমনি এ দলের নেতাকর্মীরা ধ্বংসাত্মক কাজ করেছেন নিজেদের স্বার্থে। পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভায় ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীকে পিটিয়ে হত্যা করে এই দলের এমপিরা। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি গঠন করতে কাউন্সিল সভা ডাকলে তাতে হামলা চালায় উচ্ছৃঙ্খল আওয়ামী নেতাকর্মীরা। এছাড়া ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার বর্বরতা এখনো দেশবাসীর স্মৃতিতে দগদগে ক্ষত হয়ে আছে।
আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কাবস্থায় রয়েছে। তবু আওয়ামী লীগের হিংস্রতার কথা মনে রেখে সামনের দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে কোনোভাবে আওয়ামী অপশক্তি দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।



