বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার শিকার। আইপিএলে তার খেলা নিয়ে হিংসার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়েছে ভারতের হিন্দুরা। পেসার মোস্তাফিজের খেলার কথা ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) পক্ষে; কিন্তু উগ্র হিন্দুদের হুমকির মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে গত শনিবার তাকে দল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় শাহরুখ খানের দল কেকেআর।
আগামী বুধবার ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হচ্ছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এতে প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশের। এ ছাড়াও গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা ভারতে। এর মধ্যে তিনটি কলকাতায়, একটি মুম্বাইয়ে। কলকাতার বিখ্যাত ক্রিকেট স্টেডিয়াম ইডেনে সহিংসতার রেকর্ড আছে।
বাংলাদেশে পুতুল সরকারের উৎখাতের পর থেকে ভারত সরকার এবং উগ্র হিন্দুরা এ দেশের প্রতি চরম ক্ষিপ্ত। তারা ভিসা বন্ধ, কূটনৈতিক মিশনে হামলাসহ একের পর এক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বৈরী আচরণ করে চলেছে। বাংলাদেশের পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানসহ সব অপরাধীকে আশ্রয় দিয়ে অন্তর্ঘাত চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। সীমান্তে গুলি করে হত্যা এবং কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভুয়া অভিযোগও বন্ধ হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে ওই দেশে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ দলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিলই। মোস্তাফিজকে নিয়ে হিন্দুত্বের যে জিগির তোলা হয়েছে, তাতে নিরাপত্তাঝুঁকি এখন চরমে।
কেকেআরের মালিক শাহরুখ খান নিজে মুসলিম। তিনি বাংলাদেশের মুসলিম খেলোয়াড়কে কিনে দলকে জেতাবেন- এটি উগ্র হিন্দুদের গায়ে লাগছে। তাকে দেশদ্রোহী, গাদ্দার ইত্যাদি বলে অপদস্থ করা হচ্ছে। মোস্তাফিজকে নিয়ে তাদের আপত্তির কারণও একই। বিষয়টি স্পষ্ট হয় ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের প্রশ্নে।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মোস্তাফিজের পরিবর্তে কেকেআর যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকারকে দলে নিত, তাহলে কি এই আপত্তি উঠত? স্পষ্টত, মুসলিম পরিচয় তাদের সমস্যা। যেমনটি তারা দীর্ঘ দিন ধরে করে চলেছে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে। খেলাধুলাকে নির্বিচারে রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত করেছে ভারত। মোস্তাফিজকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক জিগির তোলার পেছনে পশ্চিমবঙ্গের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হিন্দু সেন্টিমেন্ট কাজে লাগানোর ফন্দি আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর এক বিজেপি নেতার স্পষ্ট ঘোষণা- এটি ভারতের হিন্দুদের জয়। সুতরাং কারণটা স্পষ্ট। এতে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো স্বাভাবিক; হয়েছেও।
বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আবেগ-অনুভূতির বিপরীতে গিয়ে এক শ্রেণীর এলিট মিডিয়া বিষয়টি সহজ করে দেখানোর অপচেষ্টা করছে। ভেনু বদলানোর বাংলাদেশের অনুরোধ গ্রহণ করা আইসিসি এবং অন্য দলগুলোর জন্য কী রকম জটিলতা তৈরি করতে পারে; সে বিষয়টি মুখ্য করে তোলা হচ্ছে। এটি স্পষ্ট-ই ভারতীয় অবস্থানের পক্ষে অবস্থান নেয়া।
আমরা খেলার জগতে নোংরামি চাই না। বাংলাদেশ নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে ভারতে খেলতে যেতে পারে না। আইসিসি যদি বাংলাদেশ টিমের খেলার ভেনু পরিবর্তনে সম্মত না হয় তাহলে বিশ্বকাপ ক্রিকেট টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। জনগণের আবেগের কারণ দেখিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড মোস্তাফিজকে নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের মানুষের আবেগও বিবেচনায় নিতে হবে এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বাংলাদেশে আইপিএলের সব প্রচার এবং খেলা দেখানো বন্ধের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। ভবিষ্যতে ভারতের সাথে যেকোনো বোঝাপড়ায় মোস্তাফিজের এই দৃষ্টান্ত সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।



