পেঁয়াজের ভালো ফলনের আশা, দাম নিয়ে শঙ্কা কেন

এবার ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোরকম কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারের সতর্কতা দরকার।

পেঁয়াজের ভালো ফলনের আশা থাকলেও দাম নিয়ে চাষিরা আশঙ্কায় রয়েছেন। অপরিহার্য এ মসলার দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। একটি সহযোগী দৈনিকের রাজবাড়ী প্রতিনিধির পাঠানো খবরে জানা যায়, শীতকালীন মুড়িকাটা পেঁয়াজের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ীর চাষিরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। তবে পেঁয়াজ আমদানি হলে দরপতনের শঙ্কাও করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় মোট ৩৬ হাজার ৯২১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল পাঁচ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে।

কৃষকরা জানান, পেঁয়াজ রোপণের পর বৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষেতের পেঁয়াজ নষ্ট হয়নি। পেঁয়াজ বীজের দামও গত বছরের তুলনায় কম ছিল। কিন্তু সারের দাম বেশি হওয়ায় খরচ কিছুটা বেড়েছে। সরকার যদি ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি করে তাহলে সব কৃষক লোকসানে পড়বে। তাই এ সময় পেঁয়াজ আমদানি হোক, চান না চাষিরা।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার একজন কৃষক বলেন, ‘গত বছর আট বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও রসুন আবাদ করেছিলাম। এতে আমার প্রায় দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। এ বছর চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেছি। এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ ভালো আছে। যদি আর কোনো দুর্যোগ না হয় তাহলে পেঁয়াজের ভালো ফলন হবে। এখন বাজারে ভালো দাম। যদি দাম খুব বেশি না কমে তাহলে হয়তো গত বছরের লোকসান উঠে আসবে।’

হাটবাড়িয়া গ্রামের কৃষক বাবলু শেখ বলেন, ‘পেঁয়াজ বীজের দাম কিছুটা কম থাকলেও বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। এক কেজি ডিএপি সার কিনতে হয়েছে ৫০ টাকা, এমওপি কিনতে হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং এক কেজি ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে ৩০ টাকায়। এ ছাড়া জমিতে অনেক ধরনের কীটনাশক ও ভিটামিন দিতে হয়। এতে আমাদের খরচ বেড়েছে। এ সময় পেঁয়াজ আমদানি করা হলে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। ফলন ভালো হলেও আমাদের লোকসান হবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজবাড়ী একটি উল্লেখযোগ্য জেলা। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাজারে পেঁয়াজের দাম ভালো রয়েছে। পাশাপাশি হালি পেঁয়াজ রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কোনো ডিলার যদি সার নিয়ে কোনো রকম কারসাজি বা সিন্ডিকেট করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শীতকালে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম নিয়ে বিপাকে কৃষকরা। তাদের ভালো ফলন হলেও দামের আশা নেই। উপমহাদেশের অনেক অঞ্চলে সালাদ হিসেবে ব্যবহার হলেও আমাদের দেশে প্রধান মসলা হিসেবে ব্যবহার্য। পাবনার পেঁয়াজের মতো রাজবাড়ীও বিখ্যাত মুড়িকাটা পেঁয়াজের জন্য।

এবার ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোরকম কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারের সতর্কতা দরকার।