শিলিগুড়ি করিডোর ঘিরে বিপুল সামরিক স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। এর মধ্যে আছে পুরনো বিমানঘাঁটি চালু ও ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ কর্মসূচি। সামরিকায়নের পথে দ্রুততার সাথে অগ্রসর হওয়ায় এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। ভারতের নেয়া ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণের বিপরীতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উদ্যোগ না থাকায় এই শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের সামরিক স্বল্পতার সুযোগ নিয়ে ভারত সীমান্তে আগ্রাসী তৎপরতা আরো বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে পুশইন করে সীমান্তে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে সংযোগে সরুপথ নিয়ে ভারত অস্বস্তি দেখায়। নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত এর বিস্তৃতি মাত্র ২২ কিলোমিটার। আবার এর কাছেই চীনের অবস্থান। ভারত আশঙ্কা করে, যেকোনো সময় সরুপথটি বেদখল হয়ে সাতটি রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের নিরাপত্তা দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে। ভারতের নেয়া সামরিকায়নের পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠছে নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটার কারণ। বর্ধিত সামরিক শক্তি অন্যায় সুযোগ নিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত প্রয়োগ করবে- এতে সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে চারটি পুরনো বিমানবন্দর সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। বনজঙ্গলে পরিণত হওয়া তিনটি বিমানবন্দরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালাচ্ছে। আরেকটি পুরনো বিমানবন্দর চলাচলের জন্য প্রায় প্রস্তুত। এগুলো সীমান্ত থেকে অল্প কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ইতোমধ্যে ড্রোন দিয়ে সীমান্ত নজরদারি বাড়িয়েছে। নজরদারি চালাতে গিয়ে বাংলাদেশ অংশে ভারতীয় কয়েকটি ড্রোন বিধ্বস্তও হয়েছে। অন্যদিকে ভারী সামরিক সরঞ্জাম বহনে চিকেন নেক দিয়ে ৩৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের নকশা করা হচ্ছে। যুদ্ধকালীন এই পথ ব্যবহার করা হবে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে।
ভারত যখন এই সীমান্তে বিপুল সামরিকায়নের পথে হাঁটছে; তখন বাংলাদেশ অনেকটা যেন চুপচাপ পর্যবেক্ষণের নীতি নিয়েছে। অথচ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের আগ্রাসী অবস্থান ও শত্রুতা এ অঞ্চলে প্রমাণিত। সামরিক প্রস্তুতিতে ভারত এগিয়ে গেলে নিঃসন্দেহে সীমান্তে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। বাংলাদেশী হত্যাসহ তাদের নানা অপতৎপরতার শিকার সীমান্তের মানুষজন। বাংলাদেশ সরকারকে চাপে ফেলতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পুশইন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে এটিকে একটি টুল হিসেবে ব্যবহার করেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-সমর্থিত সরকার গঠনের পর পুশইন আরো বেগবান হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ইতোমধ্যে তারা বাংলাদেশে পাঁচ হাজার মানুষ পুশইন করিয়েছেন।
সীমান্তে ভারতের জোরদার সামরিকায়নের বিপরীতে আমাদের যদি পাল্টা কোনো সামরিক অবকাঠামো তৈরি না করা হয়; তাহলে প্রতিনিয়ত ঢাকাকে চাপে রাখবে দিল্লি। অন্যায্য সুবিধা আদায়ে একে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করবে; বিগত ৫৫ বছরে যে নীতির প্রয়োগ ভারত বাংলাদেশের ওপর করেছে। সীমান্তে ভারতীয়দের সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের কার্যক্রম নিয়ে বর্ডার গার্ড-বিজিবি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে। আমরা মনে করি, চুপচাপ বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। নিরাপত্তা ভারসাম্য আনতে বাংলাদেশকেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে সময়ক্ষেপণ চলবে না।



