জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, প্রবেশ ফি সর্বনিম্ন নির্ধারণ করুন

ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন রূপান্তরিত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। এখানে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের ছবি, স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার ক্লি¬পিংস, অডিও-ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংরক্ষিত রয়েছে ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও। বিগত ১৬ বছরের নির্যাতন-নিপীড়নের দলিল চিত্রও সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হবে। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ সংক্রান্ত সরকারি অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এটি হতে যাচ্ছে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর। প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন গ্রেডের মোট ৬২টি পদে ৯৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। জাদুঘরের নির্মাণ ও সংস্কারে দু’টি প্রকল্পে ১১১ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘর দেখতে গিয়ে বলেছিলেন, এটি গোটা বিশ্বে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে জাদুঘরে আসবেন। তারা জানতে পারবেন কী ভয়ঙ্কর নৃশংসতার মধ্য দিয়ে জাতিকে যেতে হয়েছে। এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা অথবা একটি দিন কেউ যদি থাকতে চায় সে যেন থাকতে পারে। যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশেহারা হয়, তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে।

জাতির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ দলিলপত্র সংরক্ষণের এ মহৎ আয়োজন খুব মসৃণ হচ্ছে বলে মনে হয় না। সেখানে ঢোকার টিকিটের দাম এতই বেশি নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে দর্শনার্থীরা নিরুৎসাহিত হন। একটি দৈনিকের খবরে জানা যাচ্ছে, জাতীয় জাদুঘরে যেখানে বাংলাদেশী দর্শনার্থীরা জনপ্রতি ২০ টাকা এবং শিশুরা ১০ টাকার টিকিটে ঢুকতে পারেন সেখানে জুলাই জাদুঘরে ঢোকার ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে জনপ্রতি ১০০ টাকা ও শিশুদের জন্য ৫০ টাকা। এ ছাড়াও সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্য বিদেশী নাগরিকদের জন্য দুই হাজার টাকা টিকিটের মূল্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের প্রবেশ ফি এত বেশি হতে পারে না। হতে হবে এমন— যাতে দর্শনার্থীরা সহজে ঢুকতে পারেন। এমনকি বিনামূল্যে ঢোকার সুযোগ দেয়া উচিত বলেও অনেকে মনে করেন। আমরা মনে করি, এখানে প্রবেশ ফি জাতীয় জাদুঘরের চেয়ে বেশি হওয়া উচিত নয়। নির্বাচিত সরকার বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে।

স্মৃতি জাদুঘরের জনবল নিয়োগেও দায়সারা ভাব দেখা যাচ্ছে। প্রথম শ্রেণীর পদসহ সব পদে শুধু মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে। সরকারি চাকরি প্রবিধিমালা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এতে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠবে। প্রবিধিমালায় লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।

দিশেহারা জাতির দিশা খুঁজে পাওয়ার এ মহান উৎস থেকে দেশবাসীকে কেউ যেন ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দূরে ঠেলে দিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা নির্বাচিত সরকার এবং গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাধারী সব রাজনৈতিক দলের অবশ্য কর্তব্য।