সীমান্তে অস্ত্র চোরাচালানের সিন্ডিকেট

নজরদারি জোরদার করুন

আমাদের আশপাশে অস্ত্র চোরাচালান সন্ত্রাস, মাদক ও মানবপাচারের যে সক্রিয় চক্রের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে শঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনীগুলোকে অত্যন্ত সক্রিয় করা না গেলে দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হবে।

প্রতিবেশী দেশের অস্ত্র চোরাচালান নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার হুমকি বাড়াচ্ছে। নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক খবরে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র পাচারের ঘটনা ঘটে। এ দিকে দক্ষিণ পূর্বদিকে মিয়ানমার অত্যন্ত সঙ্ঘাতপূর্ণ। এ এলাকার সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ লাগাতার চলছে। এর পাশে লাওস, থাইল্যান্ড ঘিরে অস্ত্র-গোলাবারুদ লেনদেনের এক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হচ্ছে। চার দিক থেকে ঘিরে থাকা এই নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালানের সহজ জোগানদাতা হয়ে উঠছে। এর বিপরীতে আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রমের দুর্বলতা বিগত কয়েক বছরে দেখা গেছে।

খবরে গুরুতর হুমকির যে চিত্র এসেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে– বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভবিষ্যতে অস্থিরতা তৈরি করে রাখবে। বিশেষ করে অস্ত্র-গোলাবারুদের সহজ জোগান এখানকার অপরাধী নেটওয়ার্ককে শক্ত করবে। পাহাড়ে এবং সমতলে– উভয় জায়গার আইনশৃঙ্খলা অবনতির কারণ হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, আন্ডারওয়ার্ল্ড অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এমনিতে বাড়তি মাত্রায় রয়েছে। নির্বাচনের আগে-পরে চাঁদা ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে নিয়মিত শক্তির মহড়া হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর একদফা আবার ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর আরেক দফা দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসের মহড়া দেখা গেছে। কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই।

জুলাই বিপ্লবের সময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছ থেকে বিপুল অস্ত্র খোয়া গেছে। এর বড় একটি অংশ উদ্ধার হয়নি। এর সাথে সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র চোরাকারবারি চক্র পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অস্ত্র চোরাচালানের সাথে জড়িত ১২৮টি চক্র সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি চোরাইপথে আসা অস্ত্রের মধ্যে বিদেশী পিস্তল, রিভলবার, ম্যাগজিন এবং গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় অস্ত্র চোরাচালান বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। ৭.৬৫ ক্যালিবারের মতো বিরল এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। যশোর, দিনাজপুর এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে এসব চোরাচালান হচ্ছে।

এ দিকে মিয়ানমারের যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অস্ত্র ও মাদক চোরাকারবারি সিন্ডিকেট এ অঞ্চলে অত্যন্ত সক্রিয়। এ ধরনের পরিস্থিতি মানবপাচারের জন্য অনুকূল। রোহিঙ্গা পাচারের বহু ঘটনা ধরা পড়েছে। তবে এই প্রবণতা কমানো যায়নি। মিয়ানমারের অস্থিরতা পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলাকে আরো খারাপ করে দিচ্ছে।

বিগত সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণকে শত্রু বিবেচনা করা হতো। আমাদের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের নিশানা ছিল দেশবাসীকে দমন করা। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গুম-খুন করে তারা শক্তি ব্যয় করেছে। বাইরে থেকে আসা আমাদের নিরাপত্তা হুমকিগুলো তাই মোকাবেলা হয়নি। তার প্রভাব এখনো আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রমে দৃশ্যমান। শরিফ ওসমান হাদিসহ বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে দুর্বলতা দেশবাসীর দৃষ্টিতে এসেছে।

আমাদের আশপাশে অস্ত্র চোরাচালান সন্ত্রাস, মাদক ও মানবপাচারের যে সক্রিয় চক্রের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে শঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনীগুলোকে অত্যন্ত সক্রিয় করা না গেলে দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হবে।