সীমান্তে উচ্চহারে বাংলাদেশীদের হত্যার অপসংস্কৃতি ভারত বজায় রেখেছে। গেল বছর বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী হত্যার শিকার হয়েছেন। আগের মতো মাদক চোরাচালান, নারকীয় কায়দায় নির্যাতনের সিলাসিলা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে যোগ হয়েছে একযোগে সব সীমান্ত দিয়ে মুসলমান ও বাংলা ভাষাভাষীদের পুশইন। অন্য দিকে এর প্রতিকারে বাংলাদেশ তেমন কোনো প্রতিবিধানমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছে না। সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদও অনুপস্থিত। এতে করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিশ্বের সবচেয়ে বৈরী সীমান্তের একটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
ফেলানী হত্যার ১৫ বছর উপলক্ষে রাজধানীতে এক আলোচনায় সীমান্ত সম্পর্কের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি উঠে আসে। গত বছর বিএসএফের হাতে ৩২ বাংলাদেশী প্রাণ হারান। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২৪, ২০২৩ সালে ২৮, ২০২২ সালে ১৮ এবং ২০২১ সালে ১৭ জন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিএসএফ সদস্যরা ৬২৫ বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। তাদের মধ্যে ২৫ শিশুও ছিল। বিএসএফের হামলায় এই সময় আহত হয়েছেন ৮০৮ জন।
হত্যা ও নির্যাতনের চরিত্র থেকে এটি পরিষ্কার যে, বিএসএফ বেআইনিভাবে এসব করছে। হত্যা করে লাশ বিকৃতির ঘটনাও ছিল। শরীরে এসিড ঢেলে দিয়ে লাশের পরিচয় মুছে দিতে চেয়েছে। নির্যাতনে অবলম্বন করা হয় অভিনব নিষ্ঠুর পন্থা। বাংলাদেশীদের লাঞ্ছনা সম্মানহানি করে শত্রুতা চরিতার্থ করার প্রবণতা দেখা গেছে। বিবস্ত্র করে শরীরে তেল দিয়ে পেটানো হয়, যাতে যন্ত্রণার তীব্রতা বাড়ে। লাশ হস্তান্তরে জটিলতা ও বিলম্বিত করা হয়। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এ ক্ষেত্রে অবলম্বন করে না বিএসএফ। হত্যার শিকার ব্যক্তির পরিবারের পক্ষে বিচার পাওয়ার সুযোগ রাখা হয় না। ফেলানী হত্যায় দেশে-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি হত্যাকারী শনাক্ত হওয়ার পরও কোনো বিচার পাওয়া যায়নি। সীমান্তের বহু হত্যাকাণ্ডে অপরাধী চিহ্নিত হওয়ার পরও কোনো প্রতিকার হয়নি।
সীমান্তে বাংলাদেশীদের প্রতি এই অমানবিক আচরণ একটি কাঠামোগত রূপ নিয়েছে। এর সাথে ২০২৫ সালে ঠাণ্ডমাথায় পুশইন শুরু করেছে ভারত। ইতোমধ্যে আড়াই হাজার জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু, আধার কার্ডসহ সে দেশের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এমন মানুষও রয়েছেন। ভারত নিশানা করেছে বাংলাভাষী মুসলমানদের। ভারতের যেকোনো প্রদেশ থেকে ধরে বাংলাদেশে ঠুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো আইন মানছে না ভারত। অনেকসময় বৃদ্ধ অসুস্থ এবং সন্তানসম্ভবা নারীদের বাংলাদেশে পুশইনের ঘটনা ঘটছে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে অসংখ্যবার ঢাকার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে দিল্লিকে। দেশটি এসব অনুরোধ কখনো গ্রাহ্য করেনি; বরং সীমান্তে শত্রুতার নতুন নতুন দুয়ার খুলেছে। বাংলাদেশের সাথে প্রতিটি ইস্যু ভারত গায়ের জোরে মিটাতে চায়। এই পর্যায়ে বাংলাদেশ শুধু ভারতের অন্যায় ও অবৈধ কর্মকাণ্ড খানিকটা নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে। ঢাকার এই নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এর প্রতিকারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফোরামে যেতে হবে।



