যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই তুলনায় তৈরী পোশাক শুল্কমুক্ত সুবিধায় দেশটিতে রফতানি করা যাবে। সম্প্রতি দেশটির সাথে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় এই সুবিধা পাওয়া গেছে। এর ফলে দুইভাবে উপকৃত হবে বাংলাদেশ। প্রথমত, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। শুধু শুল্ক সুবিধা নয়; বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বস্ত্র ও পোশাক খাতের মধ্যে একটি কৌশলগত সরবরাহ চেন গড়ে উঠবে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি বাজার। গত অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানি ছিল ৮ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই তৈরী পোশাক।
বাংলাদেশ এখন মোট তুলার ১০ শতাংশ আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। চুক্তির পর সেই হার অনেকটা বাড়বে। দ্বিতীয়ত, ভারতের তুলার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। এটি কেবল বাণিজ্যিক বিষয় নয়; ভারতের রাজনৈতিক আধিপত্যের রাশ এতে শিথিল হতে বাধ্য। নানা সময়ে ভারত বাণিজ্যিক পণ্যকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের দুঃসময়ে নির্দিষ্ট পণ্য রফতানি বন্ধ করে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছে। সেই অবস্থাটা এখন আর থাকছে না। বিশেষ করে তুলার ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে বস্ত্র ও পোশাক খাত থেকে। এর প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে নিটওয়্যার থেকে। এই নিট পোশাক উৎপাদনে যে সুতা ব্যবহার হয় তা মূলত ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এখন সেই বাধ্যবাধকতামুক্ত হবেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের আরো একটি ভালো সুযোগ হবে পাল্টা শুল্ক কমে যাওয়ার কারণে। বাংলাদেশের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ছিল ৩৭ শতাংশ। সেখান থেকে সরকারের আন্তরিক চেষ্টায় শুল্কহার নেমে আসে ২০ শতাংশে। সম্প্রতি চুক্তির সময় সেটি আরো ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশে ধার্য করা হয়েছে। অর্ধেকের বেশি শুল্ক কমানো অবশ্যই বড় সাফল্য।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র যত পোশাক আমদানি করেছে তার বেশির ভাগ গেছে ভিয়েতনাম থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে চীন। আর বাংলাদেশ আছে তৃতীয় অবস্থানে। এটি যেমন বাজার বৈচিত্র্যের সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতারও প্রমাণ দেয়। এখন বাংলাদেশের জন্য সুযোগ এসেছে পোশাক রফতানির হিস্যা বাড়িয়ে নেয়ার। এ জন্য তৈরী পোশাকে আরো বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি উচ্চমানের পোশাক তৈরির দিকে যেতে হবে।
চুক্তির আওতায় পাল্টা শুল্কহার কমা এবং শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া নিঃসন্দেহে দেশের জন্য বড় অগ্রগতি। এতে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরো বাড়বে। পোশাক রফতানিকারকরা এমনই মনে করেন।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনো দেশের বাণিজ্যের জন্যই খুব একটা অনুকূল নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক না থাকা দেশগুলোর জন্য। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার সাধ্যমতো একটি অনুকূল পরিবেশ রক্ষা করতে পেরেছে। আমাদের ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের উচিত এই সুযোগটি সর্বতোভাবে কাজে লাগিয়ে যতদূর সম্ভব সুফল তুলে নেয়া। তাতে শুধু তারাই লাভবান হবেন তা নয়, কর্মসংস্থান বাড়বে, শ্রমিকরা উপকৃত হবেন এবং সার্বিকভাবে দেশ সমৃদ্ধ হবে।



