ঈদ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উৎসব। ঈদ ঘিরে সব শ্রেণিপেশার মানুষের বিপুল উৎসাহ থাকে। একসাথে সবাই এ সময় ছুটি পান। তাই পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী, পুরনো বন্ধুদের সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ মেলে। চাকরি-ব্যবসায় যারা নিয়োজিত, সহজে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে যেতে পারেন না, এ সময়ে আপনজনের টানে তারাও জন্মভিটায় যান। এ সময় দেশের ভেতরে মানুষের সবচেয়ে বড় স্থানান্তর ঘটে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে কয়েক কোটি মানুষ গ্রামে ফিরে যান। এর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে মহাসড়কে। বিপুল যানবাহনের চাপে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটে প্রায় প্রতি বছর ঈদে মানুষ নাকাল হন। এবার সড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সরকার অগ্রিম সতর্কতা গ্রহণ করছে— গণমাধ্যমে এমন খবর এসেছে। সময়মতো সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে সড়কে জনভোগান্তি কমবে আশা করা যায়।
মহাসড়কে সংস্কারকাজ বিগত মাসগুলোতে স্থবির হয়েছিল। এর ওপর প্রায় সব সড়কে কিছু নির্মাণ প্রকল্প চলমান। জায়গায় জায়গায় বিটুমিন খসে চলাচলের অযোগ্য হয়ে আছে মহাসড়ক। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্পট আছে শত শত। ঈদে এসব সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলো দুর্ঘটনার কারণ হওয়ার পাশাপাশি চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি করতে পারে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ সময়ে যানবাহনের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। বিগত বছরগুলোতে এ সড়কে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের রেকর্ড আছে। এ অবস্থায় রাস্তায় এক সাথে হাজার হাজার গাড়ি, লাখ লাখ মানুষ অবরুদ্ধ হন। নারী শিশু ও অসুস্থ মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একই ধরনের দুঃসহ যানজট ঈদ মৌসুমে দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকার আশপাশ শহরগুলোতেও সড়কে চলাচল এ সময় কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।
সরকার ঈদে বাড়ি ফেরা স্বস্তিদায়ক করতে ২২টি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাস্তবে সড়কে যে বেহাল দশা— স্বল্প সময়ের মধ্যে সেটি সারানো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের অধীনে দেড় হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক এখন নাজুক অবস্থায় আছে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে মহাসড়কে রয়েছে দুই শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হলে সামনের কয়েক দিনের মধ্যে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সারাতে হবে।
যাতায়াত ভোগান্তি ছাড়াও ঈদে বাড়তি একটি বিড়ম্বনা তৈরি করে যানবাহনে চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজরা এ সময় বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। চাঁদাবাজির অর্থ মূলত যাত্রীদের পকেট কেটে আদায় করা হয়। ঘাটে ঘাটে চাঁদা উঠানোয় যানবাহনের গতিও ধীর হয়ে যায়। আরেকটি হচ্ছে টিকিট কালোবাজারি। যাত্রী সাধারণকে ক্ষেত্রবিশেষে কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিয়ে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের টিকিট কিনতে হয়। সরকারের পক্ষ থেকে টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করতে পারবে কি-না, ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে।
ঈদের আনন্দ সত্যিকার রূপ দিতে নির্মল করতে হলে সড়কে চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হবে। এ জন্য হাতে যতটুকু সময় আছে তার মধ্যে সরকারকে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে নামতে হবে। আমরা আশা করব, এবার রাস্তায় মানুষের বিড়ম্বনা ও ভোগান্তি লাঘব হবে।



