বিগত ফ্যাসিবাদের শাসনে দেশের কূটনীতি এক দিকে হেলে পড়েছিল। বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনায় দেশের স্বার্থ অগ্রাধিকার হারায়। এটি একচেটিয়া প্রতিবেশী ভারতের প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করে। আসন্ন নতুন সরকারের কাছে এই বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে ওঠা এক বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয়বাদী দল-বিএনপিকে সরকারের যাত্রা শুরুতে এ ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশ ও বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে হবে। পারস্পরিক লাভালাভ, সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে নতুন করে যাত্রা শুরু করতে হবে। সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এক নতুন যাত্রা শুরু হবে— জাতি এমন প্রত্যাশা করে।
প্রবাদ আছে, সকালবেলা ইঙ্গিত করে, দিনটি কেমন কাটবে। শুরুতে সবার চোখ থাকবে বন্ধুদের সাথে নতুন সরকারের আচরণের ওপর। দল ভূমিধস বিজয় পাওয়ায় বন্ধুরাষ্ট্রের পদাধিকারীরা বিএনপি প্রধান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের নেতারা সবার আগে সাড়া দিয়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকেও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ইতিবাচক অর্থপূর্ণ সাড়া দিতে হবে। ইতোমধ্যে ভারত ও পাকিস্তানসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলোর সরকারপ্রধান ও উচ্চপদস্থদের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমেরিকা-চীনসহ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশের পদস্থরা আমন্ত্রিত হচ্ছেন। নির্বাচিত সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে, বন্ধুত্বের নামে শত্রুতা চরিতার্থ করা কোনো দেশ যেন আগের মতো দৃষ্টিকটু গুরুত্ব না পায়। হাসিনার দেড় দশকের শাসনে এমনটি দেখতে দেখতে মানুষ অতিষ্ঠ।
গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় স্থাপন করতে হবে। হাসিনার ফ্যাসিবাদে স্পৃৃষ্ট হওয়ার জন্য ভারতের অন্যায্য অবস্থান দায়ী। গুম খুন মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভোটাধিকার হরণের মতো ভয়াবহতা চালাতে পেরেছে আওয়ামী সরকারের প্রতি দেশটির একচেটিয়া সমর্থনের কারণে। তার পতন এখনো তারা মানতে পারেনি। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিন থেকে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ অব্যাহতভাবে করে গেছে। এই সরকার যখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় ভারত রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে অপতথ্য, ভুল তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে তাদের আরো চাপে ফেলেছে।
প্রকাশ্য শত্রুতা করে শেষ পর্যন্ত বাংলদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসর থেকে বঞ্চিত করা হয়। পাকিস্তানের সমর্থন ও উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড শাস্তি এড়াতে পেরেছে। এই বিষয়গুলো বোঝা জরুরি। আগামীর সরকার ভারতের সাথে সমমর্যাদার সম্পর্ক তৈরি করবে— এটিই জনগণ চায়। তারা দেখতে চায়, কোনো একটি দেশ শত্রুতা করলেও আমরা যেন গায়ে পড়ে হাসিনার মতো তাদের প্রতি অহেতুক বন্ধুতার নীতি গ্রহণ না করি।
এ দিকে পাকিস্তান আমাদের প্রতি সবধরনের সমর্থন সহযোগিতার নীতি নেয়ার পরও হাসিনা সরকারের সময় তাদের প্রতি পুরোপুরি শত্রুতার নীতি নিয়ে সম্পর্ক একেবারে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে এনেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। বিএনপি সরকারকে যাত্রার শুরুতে প্রতিবেশী সম্পর্ক নতুন করে নির্মাণের সময় এগুলো মাথায় রাখতে হবে।
সম্পর্ক হতে হবে পরস্পরের স্বার্থরক্ষা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে। তোষণ ও নতজানু নীতি মানুষ আর দেখতে চায় না।



