এলজিপি নিয়ে ফটকাবাজি, কঠোর ব্যবস্থা নিন

আসল কথা- ন্যায্য দামে পণ্য পাওয়ার জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তা না হলে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের সাথে প্রশাসনের অনৈতিক জোগসাজশের ধারণা জনমনে বদ্ধমূল হবে।

রাজধানীসহ দেশের অনেক জায়গায় এলপিজি গ্যাসের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিক বেড়েছে। এক হাজার ২৫৩ টাকার সিলিন্ডার ভোক্তারা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন এক হাজার ৮০০ থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা; এমনকি দুই হাজার ২০০ টাকায়। চরম দুর্ভোগে পড়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। তারা জানতে চান, এসব দেখার কি কেউ নেই?

সঙ্কটের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে- সরবরাহ সমস্যার কথা, সিলিন্ডারের অভাব। এসব আসলে অজুহাত। বেশি দাম দিলেই মিলছে গ্যাস সিলিন্ডার। তরলীকৃত গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দেয়া এবং সেই দামে বিপণন নিশ্চিতের দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসির। কিন্তু সংস্থাটি মূল্য নির্ধারণ করলেও নির্দিষ্ট দামে তা গ্রাহক পাচ্ছেন কি না, সেই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে না। এবারো এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনকে (লোয়াব) চিঠি দিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে এলজিপি বিক্রির অনুরোধ জানিয়ে দায় সেরেছে বিইআরসি। পাশাপাশি ভোক্তা অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছে, যারা বেশি দামে বিক্রি করছেন; তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার। তবে এমন কোনো অভিযান এখনো চালানো হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম বেড়ে যাওয়া স্পষ্টভাবে বিইআরসির ব্যর্থতা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, এভাবে হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেউ বাড়তি দাম নিলে তার বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড, জেল অথবা উভয় দণ্ড দেয়া যেতে পারে। ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে মাঝে মধ্যে সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দেন। ভোক্তার পকেট কেটে অবৈধ মুনাফা করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলো- কমিশন কখনো এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলে কমিশনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন সঙ্কটে এলজিপি আমদানি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে; কিন্তু দেশে যে মজুদ আছে, তাতে সঙ্কট হওয়ার কারণ নেই।

শীতকালে আবাসিক খাতে গ্যাসের সরাসরি সরবরাহ অনেকটা কমে যায়। এতে এলজিপির চাহিদা বাড়ে। বিশ্ববাজারেও শীতে দাম কিছুটা বাড়ে। কিন্তু দেশের বাজারে যেভাবে দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে তা ভোক্তার ওপর জুলুম ছাড়া আর কিছু নয়। এ জুলুম চাপিয়ে দেয়া হয়েছে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে। ব্যবসায়ী চক্র সাধারণ মানুষকে অসহায় করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে। এ অবস্থা চলতে পারে না।

এমন পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধারে অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধীদের ধরতে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বাতিলসহ মামলা রুজু করতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে সক্রিয় ও কার্যকর করে কারা কোথায় দাম বাড়াচ্ছেন, তা চিহ্নিত করতে রসিদ ছাড়া লেনদেন বন্ধ করতে হবে।

আসল কথা- ন্যায্য দামে পণ্য পাওয়ার জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তা না হলে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের সাথে প্রশাসনের অনৈতিক জোগসাজশের ধারণা জনমনে বদ্ধমূল হবে। বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে ব্যর্থ হলে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে।