ইঞ্জিন সঙ্কটে ধুঁকছে রেল, যাত্রী ভোগান্তিও বাড়ছে

নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণের জন্য যাত্রীদের মধ্যে রেলের বেশ চাহিদা থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ। সঙ্কট, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার জন্য রেলভ্রমণের প্রতি মানুষ আগ্রহ পায় না। এ অবস্থায় রেলওয়ে ইঞ্জিনসঙ্কটে ধুঁকছে। যাত্রীরা প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়ছেন। রেলের প্রতি যাত্রীদের বিরূপ মনোভাব বাড়ছে।

একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার সিলেটগামী ৭০৯ নং পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারণে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনের কয়েক শ’ যাত্রী। এ সময় ঢাকাগামী আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন, তিতাস কমিউটার ট্রেন, আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী সোনার বাংলা ও পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্দুর, প্রভাতীসহ কমপক্ষে ৯টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।

রেলের ইঞ্জিন এভাবে নিয়মিত বিকল হয়। কিছু দিন পরপরই ইঞ্জিন বিকল, বগি রেখে ট্রেন চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি এই ঘটনাগুলো বাড়ছে। এ কারণে প্রায়ই মালবাহী ট্রেনের চলাচলও বাতিল হচ্ছে।

রেলের হিসাব মতে, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে রেলের পূর্বাঞ্চলে লোকাল, মেইল, কমিউটার ও মালবাহীসহ ৪৩৫টি ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়। এক হাজারের বেশি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালে পড়ে থাকার ঘটনাও ঘটে। ইঞ্জিনের অভাবে এসব কনটেইনার পরিবহন করতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ।

চাহিদা অনুযায়ী যে পরিমাণ লোকোমোটিভ প্রয়োজন, তা নেই। রেলের পূর্বাঞ্চলে ইঞ্জিন রয়েছে ১৫৩টি। এর মধ্যে ২০২৩ সালে তিনটি ইঞ্জিন চলাচলের অনুপযুক্ত হয়। প্রতিদিন ১১৬টি ইঞ্জিনের চাহিদার মধ্যে সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ১০০টি। বরাদ্দের শতভাগ সরবরাহ না হওয়ায় পূর্বাঞ্চলে একটি ইঞ্জিন প্রতি ২৪ ঘণ্টায় গড়ে তিনটি ট্রেন পরিচালনা করে, যা দীর্ঘদিনের পুরনো ইঞ্জিনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ ইঞ্জিন পরিচালনার জন্য চালকদের যে মানের কারিগরি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন তা না থাকার জন্যও ইঞ্জিন পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

এসব সমস্যা নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান কয়েকবার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তাতে কাজ হয়নি। কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও উন্নয়ন ঘটছে না।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এক সময় রেল যোগাযোগব্যবস্থা অনুন্নত ছিল। কিন্তু তারা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাদের রেল যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করেছে।

ওই সময়ে আমাদের দেশে আওয়ামী লীগ সরকার রেলের অবকাঠামো উন্নয়নের নামে রেলকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিল।

আশা করা হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকার রেল উন্নয়নে কাজ করবে। এখন দেখা যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারও সে অর্থে রেলের উন্নতি কিংবা যাত্রীসেবার মান বাড়াতে খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। বর্তমান সরকারের আর হয়তো তেমন কিছু করারও নেই।

আমরা আশা করব, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারে যারাই আসবে তারা রেল যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সম্ভাবনাময় রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে অবহেলা না করে সত্যিকারার্থেই গুরুত্ব দেবে।