জুলাই বিপ্লব-উত্তর দেশের মানুষ এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন। যে বাংলাদেশ হবে গণতন্ত্রের। যেখানে রাজনৈতিক হানাহানি থাকবে না। থাকবে আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা। জন-আকাঙ্ক্ষার সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন দেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে; কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যেকোনো মূল্যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দলমত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যা-ই হোক, কোনো অজুহাতে দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতা হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত প্রত্যেক বাংলাদেশী নাগরিকের জন্য আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।
দুই-এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। এর আগ মুহূর্তে তার জাতীয় ঐক্যের অঙ্গীকার তাৎপর্যবহ।
স্বাধীন বাংলাদেশে দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে সবচেয়ে বড় সমস্যা বিভাজনের রাজনীতি। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই বিভাজনের রাজনীতি জেঁকে বসায় এর বিষফল ভোগ করেন দেশের মানুষ। দেশ যে গণতান্ত্রিক চেতনায় স্বাধীন হয়েছিল বিভাজনের রাজনীতিতে তা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে বারবার। গণতন্ত্রের বদলে দীর্ঘ সময় দেশ শাসিত হয়েছে অগণতান্ত্রিক উপায়ে। সবশেষ শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের অস্তিত্ব গভীর সঙ্কটে পড়েছিল। জুলাই বিপ্লবে হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছে। এমতাবস্থায় দেশে জাতীয় ঐক্য রচনা ও সুসংহত রাখার অঙ্গীকার জরুরি ছিল। তারেক রহমান সংবাদ সম্মেলনে সেই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নিয়মের মধ্যে থেকে যেকোনো ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দল কার্যক্রম চালাবে সেটি স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু সময়ে সময়ে দেশের রাজনীতিতে আমরা চরমভাবে এর ব্যত্যয় দেখতে পেয়েছি। নিছক রাজনৈতিক কারণে গণহারে মামলা, হামলা ও জেলজুলুম হয়ে উঠেছিল বিরোধী নেতাকর্মীর নিয়তি। ভিন্নমতের কেউ এর থেকে রেহাই পাননি। এসবের পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে তা শান্তিপ্রিয় মানুষের চাওয়া। নির্বাচনে বিজয়-উত্তর তারেক রহমান সেই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে দেশবাসীর মনে আশার সঞ্চার করেছেন। মানুষ আর পুরনো জনবিরোধী রাজনীতি দেখতে চান না; বরং নতুন ধারার রাজনীতি দেখতে চান তারা। তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশে সেই নতুন ধারার রাজনীতি শুরুর ইঙ্গিত দিলেন।
জাতীয় ঐক্য, আইনের শাসন ও ভিন্নমত প্রকাশের যে অঙ্গীকার তারেক রহমান সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্ত করলেন, তা যেন আগামী দিনে দেশ পরিচালনায় প্রতিফলন ঘটে এটিই সবার গভীর প্রত্যাশা।



