মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত যানবাহনে ছিনতাই ও ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি সহযোগী দৈনিক এ তথ্য দিয়েছে। খবরে জানানো হয়, পরিবহনে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা এখানে অহরহ ঘটছে। মহাসড়কের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া থেকে পিরোজপুর ও টিপরদী থেকে মোগরাপাড়া অংশে ছিনতাই বেশি ঘটে। এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকরা আতঙ্কে থাকেন।
সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত এবং ছিনতাইকারী চক্র দীর্ঘ দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যবাহী-যাত্রীবাহী পরিবহনে ডাকাতি ও ছিনতাই করছে। পিরোজপুর ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন পেশাদার ছিনতাইকারী এতে জড়িত। যানজট সৃষ্টি হলেই চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। অনেকসময় তারা নিজেরাও যানজট সৃষ্টি করে ছিনতাই ও ডাকাতি করে। তাদের আট-দশজনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে হামলা চালিয়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ছিনতাই করে সটকে পড়ে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী যানজটের কারণে ঘটনস্থলে পৌঁছাতে পারে না। এই সুযোগে দিনের পর দিন এ চক্রটি দুষ্কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ধারালো অস্ত্রের মুখে তারা যাত্রীদের জিম্মি করে, বাধা দিলে কুপিয়ে জখম করে। সর্বস্ব লুটে নিয়ে দ্রুত সড়কের দুই পাশের রাস্তা দিয়ে আবাসিক এলাকার দিকে পালিয়ে যায়। ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের বেশির ভাগ ভুক্তভোগীই থানায় মামলা ও অভিযোগ করেন না। মামলা করলেও অগ্রগতি হয় না। তাই মহাসড়কের ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের বেশির ভাগ ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়।
গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুরের নয়াগাঁও এলাকায় মহাসড়কে কাতার প্রবাসী রিফাতুজ্জামানের গাড়িতে হামলা চালায় ডাকাতরা। রিফাত ছুটি শেষে মাইক্রোবাসে ঢাকার বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি নয়াগাঁও এলাকায় যানজটে আটকা পড়লে ১০ থেকে ১২ জন ডাকাত পিস্তল, রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ডাকাতরা গাড়িতে থাকা সাতজনকে কুপিয়ে আহত করে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে তিনটি মোবাইল ফোন, ৩০ হাজার টাকা, পাসপোর্ট, বিমানের টিকিটসহ মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। রিফাত এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ করেন। পাসপোর্ট হারিয়ে তিনি কাতার যেতে পারছেন না। এর আগেও একই স্থানে আরো বেশ কয়েকজন প্রবাসী এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন।
একই দিনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বিএনপি নেতাকর্মীকে বহনকারী একটি গাড়িতে হামলা চালায় আরো একটি ডাকাতদল। এতে ১০ জন আহত হন। ছিনতাই ও ডাকাতির সাথে জড়িত চক্র শুধু মহাসড়কেই নয়, উপজেলার মোগরাপাড়া-নবীগঞ্জ রুট, চৌরাস্তা থেকে উদ্ধবগঞ্জ যাওয়ার পথে দৌলেরবাগ এলাকা ও পৌর এলাকার চিলারবাগে নিয়মিত ছিনতাই করে থাকে।
সম্প্রতি একটি আলোচনা সভায় এ মহাসড়কে ছিনতাই ও ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্বীকার করা হয়েছে। এগুলো দমন করার জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশ গতানুগতিক জবাব দিয়েছে। পুলিশ বলেছে, ছিনতাই কমেছে। আগের তুলনায় পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। বড় কোনো ঘটনা ঘটছে না বলে তারা দাবি করেছেন।
এ এলাকায় ছিনতাই ডাকাতি বন্ধে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে আরো শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।



