ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত ট্রাফিক বক্স, পুলিশ মোতায়েন করে যানজট কমান

পুলিশকে আমরা যতই মন্দ বলি, তাদের ছাড়া চলে না। প্রশাসনে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনুন্নত দেশে এ বিভাগের কদর সেভাবে করা হয় না।

পুলিশকে আমরা যতই মন্দ বলি, তাদের ছাড়া চলে না। প্রশাসনে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনুন্নত দেশে এ বিভাগের কদর সেভাবে করা হয় না। যেমন- আমাদের বাংলাদেশে। আমাদের পুলিশ বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নেই। তদুপরি তীব্র লোকবল সঙ্কট রয়েছে এ বিভাগে। এর প্রমাণ, ধামরাই ঢুলিভিটা পুলিশ বক্স। সহযোগী একটি দৈনিকের ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধামরাই উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় ট্রাফিক বক্স। সেখানে উপস্থিত থেকে যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখার কথা ট্রাফিক পুলিশের। অথচ দুই বছর ধরে সেখানে নেই কোনো ট্রাফিক পুলিশ। বক্স নির্মাণের পর কিছু দিন পুলিশ যানজট নিরসনে মোতায়েন থাকলেও কয়েক দিন যেতে না যেতে উধাও। ট্রাফিক বক্সের সামনের জায়গা অটোরিকশা, সিএনজি, বাস ও হকারদের দখলে।

পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ট্রাফিক পুলিশ বক্স অবহেলা ও অযতেœ পড়ে আছে। অনেকে বক্সের চারপাশে প্রকৃতির ডাকে সারা দেয়ায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যানজট নিরসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। বেশির ভাগ সময় ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডে যানজট লেগে থাকে। কারণ কালিয়াকৈর-টাঙ্গাইলের গাড়ি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ রাস্তা দিয়ে ওঠে। প্রতিদিন শত শত গাড়ি মহাসড়কে প্রবেশ করে। উপজেলায় সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এলে এ পথ দিয়ে যেতে হয়। রয়েছে স্কুল-কলেজসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ধামরাই বাজার তো আছেই। সব কিছুর প্রবেশপথ ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডের পথটি। তাই সবসময় যানজট লেগে থাকে। এ বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে রয়েছে স্লোটেকস আউট-ওয়্যার লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানা ও একমি ল্যাবরেটরিজ নামে একটি ওষুধ কোম্পানি। এ দু’টি কারখানায় ২৫ হাজার লোক চাকরি করেন। বিশেষ করে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত, বিকেল ৫টা থেকে রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত যানজট। ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষজন।

নাহিদ মিয়া নামে একজন বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছায় প্রতিনিয়ত এ এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে থাকি। এটি যথেষ্ট নয়। এখানে প্রয়োজন ট্রাফিক পুলিশ। বিশৃঙ্খলা দূরীকরণে উল্টোপথে গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। জনসাধারণের ভোগান্তি দূরীকরণে শিগগির এখানে ট্রাফিক নিয়োগ করা দরকার।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (ঢাকা উত্তর) সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ বক্স করার পর কিছু দিন পুলিশ ছিল। জনবলের অভাবে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ নেই। শিগগির ওখানে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করব।’

ঢাকা-আরিচা হাইওয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর একটি। সেই সাথে দুর্ঘটনাপ্রবণ পথও এটি। এ পথের ধামরাই ঢুলিভিটা ট্রাফিক বক্সে কোনো পুলিশ সদস্য না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই অতি দ্রুত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢুলিভিটায় অরাজক পরিস্থিতি দূর করতে এখানে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, এটি সবার প্রত্যাশা।