যুদ্ধ বাড়িয়ে দিলো পণ্য পরিবহন ব্যয়

বৈদেশিক বাণিজ্য হুমকিতে

আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন খরচ বড় দাগে বেড়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর তীব্র প্রভাব পড়ছে নৌ-বাণিজ্যে। মধ্যপ্রাচ্যে এবং ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে আমাদের বাণিজ্যের বেশির ভাগ এই নৌপথে হয়। ইউরোপ-আমেরিকায় পোশাক এবং মধ্যপ্রাচ্যে কাঁচা সবজিসহ নানা পণ্য আমদানি-রফতানির জন্য হরমুজের পথের ওপর নির্ভর করতে হয়। এখন লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে ঘুরপথে পণ্য পরিবহন করতে হবে। ইরানে আগ্রাসনের প্রভাব আকাশপথেও পড়েছে। এর সাথে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সব ধরনের পরিবহনব্যয় বাড়বে। সব মিলিয়ে আমাদের মতো দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের পরপর নতুন করে পণ্য পরিবহনে বুক নেয়া বন্ধ করে দেয় বেশির ভাগ শিপিং কোম্পানি। পণ্য পরিবহনের নতুন রুট নির্ধারণ ও সম্ভাব্য ব্যয় হিসাব করে পণ্যপরিবহনের ব্যয় নবায়ন করবে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে জাহাজ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে ইউরোপ-আমেরিকার যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে যাত্রাপথের দূরত্ব কয়েক হাজার কিলোমিটার বেড়ে যাবে। এতে জাহাজে করে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে কয়েকগুণ। শিপিং কোম্পানিগুলো এই যাত্রায় ব্যয়ও বেশ বাড়াবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

যেসব পণ্য ইতোমধ্যে বন্দরে কিংবা পথে আটকা পড়েছে তার জন্য অতিরিক্ত পরিবহনমূল্য যুক্ত করা হচ্ছে। শিপিং কোম্পানিগুলো এখন পর্যন্ত কনটেইনার প্রতি ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার ডলার পর্যন্ত সারচার্জ আরোপ করেছে। সাধারণত এক কনটেইনারে ১৪ টন মাল থাকে। তবে হিমায়িত বড় কনটেইনার যেগুলোতে এর দ্বিগুণ ২৮ টন বা তার বেশি পণ্য থাকে, সেগুলোর জন্য অতিরিক্ত মূল্য চার হাজার ডলার পর্যন্ত আরোপ করা হচ্ছে।

যুদ্ধ স্থায়ী হলে আফ্রিকা হয়ে আমেরিকা ও ইউরোপে পণ্য পৌঁছাতে গিয়ে পরিবহন খরচ বিপুল বাড়বে। বিশেষ করে আমাদের প্রধান রফতানি পোশাক শিল্প এতে বড় চাপে পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে তৈরী পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, শাকসবজি, ফলমূল, হিমায়িত মাছসহ আরো কিছু পণ্য রফতানি হয়। আবার আমদানি করা হয় জ্বালানি, সার ও খনিজ। এসব পণ্য দেশগুলোতে পৌঁছাতে কিংবা দেশে আনতে আকাশপথ ছাড়া কোনো গতি থাকবে না। আকাশপথে পরিবহনব্যয় তুলনামূলক অনেক বেশি। আবার যুদ্ধের কারণে আকাশপথে খরচ আরেক দফা মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে, সামনে আরো বাড়বে। বাংলাদেশে ব্যবসায়-বাণিজ্য সীমিত কিছু দেশের সাথে। প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ আমেরিকা আমাদের পণ্যের বাজার। ইরানে আগ্রাসনে এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। তাই আমাদের বাণিজ্য এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে আমাদের পণ্য পরিবহনের রুট হুমকিতে পড়েছে, অন্যদিকে পণ্যের গন্তব্য দেশে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়েছে। দু’দিক থেকে এ যুদ্ধে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে স্বল্পমেয়াদে জরুরি ভিত্তিতে করণীয় ঠিক করতে হবে। আমাদের রফতানি পণ্য অল্প কয়েকটি মাত্র। আবার সেগুলোর বাজারও সীমিত কয়েকটি দেশে। মধ্যপ্রাচ্য বিপর্যয় আমাদের বৈদেশিক বাণিজ্য বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাণিজ্যকে বহুমুখী করার সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে হবে।