তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, রাজনীতিতে সুবাতাস আসুক

দেশে জেঁকে বসা সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানে ফ্যাসিবাদবিরোধী অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নেতাকর্র্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা তারেক রহমানের লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসার। কিন্তু নানা কারণে তার দেশে ফেরা বিলম্বিত হচ্ছিল। লক্ষণীয়, তারেক রহমান কবে দেশে আসবেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এটি ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে শুধু একটি আগমন নয়; তাদের জন্য এটি ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন থেকে ফিরে আসার গল্প, নতুন রাজনীতি ও নতুন করে পথচলার সংকল্প। তাই তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন রাজনীতিতে দল হিসেবে বিএনপির ও নেতা হিসেবে তারেক রহমানের নতুন করে পথচলার সংকল্প হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তারেক রহমান যখন পরিবারের সদস্যদের সাথে লন্ডনে যান, তখন তিনি ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। এখন তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা। মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি এক মাসের বেশি সময় ধরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মায়ের অসুস্থতায় কার্যত তারেক রহমান প্রধান নেতা হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কার্যত তারেক রহমানের নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছে। ফলে নির্বাচনের প্রাক্কালে তার দেশে ফেরা দলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা- তার ফেরার মধ্য দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে নতুন করে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে।

৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। রাজনীতির এমন পটভ‚মিতে বিএনপির প্রতিদ্ব›দ্বী হয়ে উঠেছে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী সমমনা আটদলীয় জোট। এমন পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির কৌশল ও মাঠের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সে জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে বিপুলসংখ্যক জনসমাগম ঘটায় বিএনপি।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর অপ্রমাণিত দুর্নীতির মামলায় আটক হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন তারেক রহমান। বন্দী অবস্থায় তার ওপর অকথ্য নির্যাতন করে সেনা-সমর্থিত অসাংবিধানিক সরকার। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে লন্ডনে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি সেখানেই অবস্থান করেন।

তারেক রহমান দেশে ফিরলেন এমন এক সময়, যখন দেশীয় রাজনীতি নতুন মোড় নিয়েছে। ভোটের মাঠ তৈরি হচ্ছে, আর বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে পুনর্জাগরণের। দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের ফিরে আসা শুধু দলীয় রাজনীতির জন্য নয়, সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাদের বিশ্বাস, তারেক রহমান বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি আনবেন। দলকে আরো দৃঢ়ভাবে দাঁড় করাতে ভূমিকা রাখবেন।